somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কালোপাখি

০১ লা নভেম্বর, ২০১১ রাত ৯:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১.

চারদিকে ডানা ঝাপটানোর শব্দ ।

আমি আকাশের দিকে তাকিয়ে খুঁজছিলাম কোন বিশাল ডানার বিস্তার , কোন আঁজলাভরা সোনাসকালের বুক ঘেঁষে , অজর কোন কালোপাখি ।

বাবা , হঠাৎই বলে বসলেন , কি দেখছিস অমন করে ?

পাখি , বাবা । ....... অদৃশ্য কোন পাখিকে খুঁজছিল আমার চোখজোড়া ।

কই ? নেই তো । ভুল দেখেছিস । সাইকেলে ওঠে পড় , এমনিতেও আজ দেরী হয়ে গেছে .......... ।

আমি জানতাম না , আমি কি দেখছিলাম ..... আমার সামনে স্কুলের খোলা বারান্দা , পরিচিত রেলিং এর সারি , সামনে একরাশ ইউনিফর্ম , মস্ত গোঁফওলা হারুন মাস্টার ।

মনে হল , ভুল শুনেছি ।


২.

কোন এক ঝড়ো বর্ষার সকালে , আমার কোলে ঠাঁই নিয়েছিলো বুনো ।

একবারেই দেশি নেড়িকুত্তা .... সাদাকালো শির্ণ দেহ আর ছোট্ট ঝোলা দুটো কানের কোল ঘেঁষে বড় বড় একজোড়া সজল চোখ । .... সেই চোখে কি অসীম ভালোবাসা আমার প্রতি , কি অপার্থিক প্রেম তার আমার সাথে ।

সে আমার ভীষণ ন্যাওটা হয়ে গেল , যেখানেই যাচ্ছি , পেছনে আঠার মত সেঁটে থাকে , দরজায় ঝড়শেষে এলিয়ে পড়ে থাকা চেহারার সাথে কোন মিলই নেই আর ।

শরতের কাশফুলের সাথে সাথে বেড়ে উঠলাম আমরা । চোখের সামনে , ধীরে ধীরে বুড়িয়ে যেতে লাগল শহরটা । শুকিয়ে যেতে লাগল পুরোন , নোংরা নদী ।

এভাবেই একদিন স্টোররুমের কোনায় , পুরনো রুমালের মত মরে পড়ে থাকলো বুনো ।

আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছিলো , আমি দেখছিলাম , পড়ে আছে বুনো , যেন মরে পড়ে আছে আমার শৈশব ।

চারদিকে ভীষণ বাতাস , ক্রমাগত ডানা ঝাপটাবার শব্দ । পাখিরা আসছে , চারপাশ অন্ধকার করে , পাখি ।

আমি বাঁহাতে চোখ মুছলাম ।

কোথাও কেউ নেই ।

৩.

তুই আমার বউ হবি ?

আমার অবান্তর প্রশ্নে খিলখিল করে হেসে ওঠে লাবনী । " বিয়ের শখ হয়েছে বুঝি ?" .... মাটিতে লুটোপুটি খায় একরাশ চুড়ি ।

চোখের সামনে বয়ে যেতে থাকে পুরনো নদীটি , আর সেই নদীর পাড়ে লুকিয়ে দেখা করতে আসা কোন কিশোরীর গল্প ।

শেষ হত না কোনদিন কথা আমাদের , আমাদের আকাশটা ছিলো অনেক বড় ; শব্দগুলি ঘুড়ির মত ঘুরপাক খেত বাতাসে । কখনো লাবণীর চুলে বাতাস এস বসত , আমি তাকিয়ে দেখতাম ।

পরের বসন্তে লাবণীর সংক্ষিপ্ত চিঠি চলে আসল , গোটা গোটা অক্ষরে লেখা , "ক্ষমা করো ।" অনেক চেনা হাতের লেখা । তবুও ভীষণ অচেনা , ভীষণ ।

কোথাও যেন পাখিরা আসছে , আসছে আকাশ অন্ধকার করে ।

৪.

সে এক ভীষণ অস্থির সময় । মানুষ কত সহজে পশু , কখনো ঈশ্বর হয়ে যেতে পারি ।

চারদিকে ভীষণ ডামাডোল । মানুষ পালাচ্ছে দিগ্বিদিক ।

মায়ের হাত ধরে আমি চলেছি অজানার পানে । আমাদের চারপাশে বন্যার পানির মত মানুষ । সবাই চলেছে স্রোতের মত ......... কোথায় ? কারো জানা নেই ।

মা'কে অজানা এক স্টেশনে রেখে আসলাম , স্টেশন মাস্টার বলেছেন ..... দেখে রাখবেন । মা যেতে দিতে চায় না .....বারবার আটকে ফেলে চোখের জলে , আমি বেরিয়ে আসি ; সবকিছু পেছনে ফেলে । আমার শার্টে বাবার রক্তের দাগ কখনো স্পষ্ট ।

কাদার মাঝে শ্বাপদের মত পড়ে থাকি , চোখ জ্বলজ্বল করে নক্ষত্রের মত ।

হাসনাতের লাশ কুকুরে টেনে নিয়ে যায় ...... নিজের হাত অবলীলায় টেনে ছিঁড়ে ফেলে জামান ।

কখনো খাবার হয়ে আসে শুধু কষ্ট , কখনো বুকের আগুন । কখনো চোখের জল ছাড়া পানীয় জোটে না কিছুই ।

বাজারে চাদর মুড়ি দিয়ে এগিয়ে যাই সন্তর্পনে ..... খাকি একদল অবয়ব বড় হতে থাকে চোখের সামনে ।


গ্রেনেডটা হাতের মুঠোয় ভীষন জীবন্ত লাগে , ছোট্ট বুনোর মত একদম ।



চারপাশ অন্ধকার হয়ে আসে । আমি জানি , সে আসছে ।


কোন বিশাল ডানার বিস্তার , কোন আঁজলাভরা সোনাসকালের বুক ঘেঁষে , অজর কোন পাখি উড়ে যায় ।


কালোপাখি ।
১৬টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রিলেশনশিপ

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:২৩

রিলেশনশিপ
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

কোনো রমণীর সাথে রিলেশনশিপে
জড়াইনি বলে প্রতিদিন-ই শুনতে হয়
উপহাস, ঠাট্টা, বিদ্রূপ, পরিহাস, তাচ্ছিল্য
ও ব্যঙ্গ কতো কথা, খুব খারাপ লাগে
সারাদিন তা কানে খালি বাজে
পালাতে ইচ্ছে করে বিমর্ষ, লাজে!

বয়স হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×