somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পলাতক স্ক্র্যাপবুক থেকে- ২

০৫ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



❑ কুহক


ছায়ার গভীরে, এভাবে না ভাঙলেও তো হয়।
নক্ষত্র যেভাবে
পড়ে রইলো অবহেলায়— ময়ূরের ভাষা উড়ে
গেল— চাঁদের সমুদ্র কোনোদিন হবে না বলে
ভেবেছ?

আমার ভাষা এতটা সুন্দর নয়।
যখন জ্বলন্ত গাছের সাথে ফিসফাস করি,
নিজেকে একটা প্রতারক মনে হয়।


❑ ক্রাইসিস


সে যখন দশতলায় তখন আকাশ পরিষ্কার
সে যখন ছয়তলায় তখন চাঁদ কেবল ঝুললো দড়িতে
সে যখন পাঁচতলায় তখন তিনতলায় আগুন লেগেছে
তখন তার স্যান্ডেল খুলে যায়
আর তার মনে হয় তিনতলাতেই তার ঘর
ঘরের ভেতর তার দুটো বাচ্চা
সে তখন দৌড়ায় অথচ সিড়ির কাছে এসে
তার মনে পড়ে- সে পঙ্গু, দৌড়াতে পারবে না
তখন সে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে নামতে শুরু করে আর
ক্রাইসিস নিয়ে ভাবতে শুরু করে
ভাবতে ভাবতে সে এসে তিনতলায় পৌঁছায়
কিন্তু তিনতলা তখন চলে গেছে সাততলায়
তখন সে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে সিঁড়ি দিয়ে আবার
উঠতে শুরু করে
ছয়তলায় আবার ফাঁসিতে ঝুলছে চাঁদ
কিন্তু সাততলায় চাঁদ তখন জীবিত
সে ভাবে সাততলায় গেলে সে তিনজন বাঁচাতে পারবে
কিন্তু চারতলায় তিনজনই মৃত

সে উঠতে থাকে
আরও উঠতে থাকে

সিঁড়ি বেয়ে
খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে

আর ক্রাইসিসগুলি ভুলতে থাকে
ভুলতে থাকে যে তার বাচ্চাদুটি তাকে ঘিরে রাখে
ভুলতে থাকে যে চাঁদ গলায় দড়ি দেয়
ভুলতে ভুলতে সে সাততলা বেমালুম পার হয়ে যায়
আর
সাততলা তখন রওয়ানা দিয়েছে স্বর্গের দিকে
আটতলায় এলে প্রচুর বাতাস তাকে ঘিরে রাখে
নয়তলায় এলে তাকে বার্ধক্যে ধরে
দশতলার সিঁড়ি তাকে আকাশের কাছাকাছি কোথাও তুলে নিয়ে যায়।



❑ অগোচর


রাত্রিগুলো আজকাল কবরের মতো লাগে।

পাশ ফিরলেই- ছুঁয়ে দিতে পারি
অন্ধকার।

পিঠ ঠেকে যায় দেয়ালে, ছোট ছোট নিঃশ্বাসে
বনের অগভীর জলাভূমি; ঘ্রাণ পাই—
তবু শুয়ে থাকি পাথরের মতো; চোখ অশ্রুহীন—
শীতল শিলার পাটাতন যেন গলা ঠেসে ধরে।
মুখে ভাষা নেই—
শরীর বেয়ে বেড়ে ওঠে অসংখ্য লতাপাতা,
বিস্তীর্ণভাবে; বেড়ে উঠতে থাকে শেকড়, ও
সময়ের ধারা। নি:শব্দে।

আমার বুকে জন্মাতে থাকে
অজস্র শিরীষ গাছ; নক্ষত্র ঢুকে পড়ে মগজে।




সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই এপ্রিল, ২০১৬ রাত ১২:৫২
১৯টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গঞ্জিকা সেবনকারীরাই পঞ্জিকা লিখে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ৯:৪৫

গঞ্জিকা সেবনকারীরাই পঞ্জিকা লিখে....

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যাহিক জীবনে পঞ্জিকা একটি অপরিহার্য বিষয়। তাদের পুজো, বার-তিথি-নক্ষত্র দেখা ছাড়াও পঞ্জিকার গুরুত্ব আছে বাংলা সাহিত্যে। আমার মতে, পঞ্জিকার মতো নির্মল হাস্যরসের ভাণ্ডার বাংলা সাহিত্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা লেখা, কবি হওয়া ও নিজস্ব কিছু চিন্তাধারা

লিখেছেন নীল আকাশ, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ৯:৫০



কবিতা লেখা একটা গুণ। একটা বিশেষ গুণ। ইচ্ছে করলেই সবাই কবিতা লিখতে পারে না। কবিতা লেখার জন্য বুকের ভিতরে ‘কবি কবি’ একটা মন থাকতে হয়। বাংলা সাহিত্যে বহু বছর ধরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ কতটা উন্নতি করলো?

লিখেছেন রাজীব নুর, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৩:৫১

ছবিঃ আমার আঁকা।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে বলা যাবে না।
যতদূর এগিয়েছে তার চেয়ে ত্রিশ গুণ বেশি এগোনো দরকার ছিলো। শুধু মাত্র দূর্নীতির কারনে আজও পিছিয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার নতুন নকিবের গোপন এজেন্ডা

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ বিকাল ৪:৩৮


আসসালামুয়ালাইকুম। আপনারা সবাই ব্লগার নতুন নকিবকে চেনেন। তাকে আমার খুব পছন্দ ছিলো। কারণ সে ইসলামী ভালো ভালো পোস্ট দেয়। কিন্তু হঠাৎ করে এক পোস্টে তার মুখোশ খুলে গেছে। দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্নানঘরের আয়না

লিখেছেন মনিরা সুলতানা, ২২ শে জানুয়ারি, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৪৯



দিনের শেষে প্রিয়বন্ধু হয়ে থাকে একজন' ই
- স্নানঘরের দর্পণ
যে দর্পণে তুমি নিজে পৃথিবীর সবচাইতে সুন্দরী রাজকন্য হয়ে র'বে
কনে সাজে তুমি, অথবা মাতৃত্বের জ্বরতপ্ত বিষণ্ণ মুহূর্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×