ফের অশান্ত হয়ে পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্ত । গত বৃহস্পতিবার রাতে বিএসএফ পৃথক দু'টি ঘটনায় গুলিবর্ষণ করে 3 বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। একই ভাবে বেনাপোল সীমান্তে গত শুক্রবার ভোরে বিএসএফ গুলি চালিয়ে 4 বাংলাদেশী যুবককে আহত করে। তাদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ 2 যুবককে তারা অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ সব ঘটনার পর থেকে দক্ষিণের সীমান্ত জুড়ে বিডিআর ও বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত 11 টার দিকে 12 জনের একটি ব্যবসায়ী দল গরু কিনে দেশে ফিরে আসছিল। ভোমরা সীমান্তে র বিপরীত দিকে ভারতের ঘোজাডাঙ্গা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে সাতক্ষীরা সদরের মাহমুদপুর গ্রামের মনিরুল ইসলাম (20) ও মোকাম্মেল আলী (25) নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ মোসত্দফাকে বিএসএফ অপহরণ করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার কিছু সময় পর ভোমরার 3 নম্বর মেইন পিলারের 7 নম্বর সাব পিলারের কাছে পাকিরডাঙ্গা সীমান্ত এলাকা দিয়ে গরু ব্যবসায়ীরা আসার সময় একইভাবে বিএসএফ সদস্যরা তাদের তাক করে গুলিবর্ষণ করলে 1 জন বাংলাদেশী নিহত হয়। তার লাশ বিএসএফ নিয়ে যাওয়ায় নাম জানা যায়নি। গত বুধবার ভোমরা সীমান্তে র বিপরীতে ঘোজাডাঙ্গা ফুটবল মাঠে এক পতাকা বৈঠকে বিএসএফ নির্বিচারে গুলি করে বাংলাদেশীদের হত্যা করবে না এমন অঙ্গীকারের পরদিনই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাল।
এদিকে গত শুক্রবার বেনাপোলের পাঁচভুলট সীমান্তে বিনা উস্কানিতে বিএসএফ 15 রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। এতে ঐ গ্রামের তরিকুল, খোকন, জামাল ও হরিদাসকাঠি গ্রামের গোলাম হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়। এদের মধ্যে খোকন ও জামালকে আহত অবস্থায় বিএসএফ ধরে নিয়ে যায়। এ নিয়ে গত তিন সপ্তাহে দক্ষিণের এ সীমানত্দে বিএসএফের গুলিতে 12 জন বাংলাদেশী নাগরিক নিহত এবং 14 জন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে। উলেস্নখ্য, গত 30 মে রাতে একবার শার্শা সীমানত্দে বিএসএফ ব্রাশ ফায়ার করে। 49 রাউন্ড গুলিবর্ষণের ঐ ঘটনায় 4 জন বাংলাদেশী মারাত্মকভাবে আহত হয়।
ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 25.06.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




