somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দিক-দিগন্ত ( আবর্জনাকে সারে রূপান্তর )

১৮ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্জ্য আবর্জনা হইতে যে নিত্যদিন দুঃসহ দুর্গন্ধ ছড়ায় চারিদিকে, তাহা শহরের বাসিন্দা মাত্রই অবগত আছেন। বর্জ্যের মধ্যে থাকে খাবারের উপকরণ। ভোরবেলায় এই আবর্জনা রাসত্দার পাশ্বর্ে জমা হয়। আবর্জনার দুর্গন্ধ পরিবেশকে দূষিত করে। আবর্জনার সত্দূপ হয় বিশাল। এই বিশাল আবর্জনার একটা অতি ৰুদ্র অংশই গরীবের ছেলেমেয়েরা কুড়াইয়া নেয়। এই আবর্জনাকে সারে রূপানত্দরের জন্য অধুনা এক বিশেষ প্রক্রিয়া উদ্ভাবিত হইয়াছে। আবর্জনাকে সারে রূপানত্দরের এই নূতন প্রক্রিয়ায় এক জাতের লাল কেঁচো ব্যবহার করা হয়। কেঁচোগুলি মাটির অভ্যনত্দরে থাকে। বর্জর্্য পদার্থের মধ্যে দূষিত পদার্থ থাকে। এই দূষিত পদার্থই দুর্গন্ধ ছড়ায়। লাল কেঁচো খাদ্যের দুর্গন্ধময় পদার্থ ভৰণ করে। ফলে দুর্গন্ধ দূর হয়। মাটিও ঝুরঝুরে মাটিতে রূপানত্দরিত হয়। এই মাটি সার হিসাবে দুর্দানত্দ কাজ করে। এই প্রসঙ্গে উলেস্নখ করা যায় যে, রাসায়নিক সার হিসাবে বাজারে যাহা বিক্রয় হয়, সেটা পরিবেশের জন্য ৰতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে যে, মাত্র 6টি কেঁচো যদি পরিবেশগত সাহায্য পায়, তাহা হইলে তিন মাসের মধ্যেই কেঁচোর সংখ্যা দুই হাজারে বৃদ্ধি পায়। ফলে বর্জ্য পদার্থ বেশী পরিমাণে তাহারা খাদ্যরূপে গ্রহণ করিতে পারে। এখানে উলেস্নখ করা যায় যে, বর্জ্য খাবারের মধ্যে সবুজ শাক-সবজি, ফলমূলের খোসা, চা পাতা, ভাত, ডাল, সিঙ্গাড়া, বিস্কুট, নুডুলস, ঘাস, ফেন ইত্যাদি থাকে। তবে তাপমাত্রা থাকিতে হয় 10 ডিগ্রী হইতে 40 ডিগ্রী পর্যনত্দ। সার প্রস্তুতের জন্য লাল কেঁচোর ঘর সাজাইতে হয়। প্রথমে দিতে হইবে ইটের আসত্দরন। ইহার পর নারিকেলের ছোবড়া দিতে হয়। তাহার পর দিতে হয় শুষ্ক গোবর এবং পরের আসত্দরনে থাকে মাটি। শীর্ষে দিতে হয় বর্জ্য খাবারের আসত্দরন। গ্রামে লাল কেঁচো পাওয়া যায়, লাল কেঁচো বর্জ্য আবর্জনাকে সারে পরিণত করে। বাতাসে দুর্গন্ধ আসে এমন পচনশীল উপকরণকে এই প্রক্রিয়ায় উৎকৃষ্ট সারে পরিণত করা সম্ভব। সারে কোন দুর্গন্ধ থাকে না। এই প্রক্রিয়ার তিন মাসের মধ্যেই বর্জ্য খাদ্য সামগ্রী উৎকৃষ্টমানের সারে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ায় কেঁচোর ঘরকে বলা হয় ভারসিপিট। তবে সার নেওয়ার সময় বিশেষ যত্ন নিতে হয়। যেন কেঁচোগুলি নষ্ট হইয়া না যায়। বিদেশে এইসব কেঁচো বিক্রয় হয়। কেঁচোর মাধ্যমে যে সার উৎপাদন হয় তাহা বাজারের সার হইতে উৎকৃষ্ট। কেঁচোগুলিকে রাখা হয় আলো-ছায়ার মধ্যে। সাধারণত কোন গাছের নীচে বা দেওয়ালের পাশ্বর্ে। কেঁচোর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে খাবারের পরিমাণও বৃদ্ধি করা জরম্নরী। শক্ত জমি এবং মরম্নভূমিতে এই সার খুবই কাজ দেয়। যেখানে সাধারণত কোন গাছপালা হয় না। যেইসব জায়গায় এই সার খুবই কাজ দেয়। অনেকে আশা করেন যে, আগামীতে এই সার রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসাবে ব্যবহৃত হইবে।

ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 19.007.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়ের বুকের ওমে শেষ ঘুম

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯



আমার নাম তৃশান। সবে তো স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি। আজ আমার খুব আনন্দ! বাবা-মা, দিদি আর দাদু-দিদুন মিলে আমরা মস্ত বড় একটা নৌকায় ঘুরছি। দিদি বলছিল এই জায়গাটার নাম জবলপুর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×