বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট রেডিওএকটিভ মেটিরিয়াল নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর সংক্রানত্দ একটি সংবাদ ও ছবি 9-3-2006 তারিখে ইংরেজি দৈনিক 'নিউ নেশন'-এ প্রকাশিত হয়েছে। আমরা এই চুক্তির প্রয়োজনীয়তা ও যৌক্তিকতা উপলব্ধি করতে অক্ষম।
সবার অবগতির জন্য জানাতে চাই যে, আমাদের বিজ্ঞানী ড. কুদরাত-এ-খুদা রেডিওএকটিভ মেটিরিয়াল মূল্যবান খনিজ সম্পদ রুটাইল, মেগনেটাইট, মোনাজাইট, গার্নেট, ইলমিনাইট এবং জিরোকোন 1950 সালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আবিষ্কার করেন। 1970 সালে সৌভাগ্যবশত আমি বিপুল পরিমাণ মূল্যবান খনিজ সম্পদ যাকে 'কালো সোনা' নামে আখ্যায়িত করি, কক্সবাজার ও আশেপাশের এলাকায় সন্ধান পাই।
গত তিন দশকের বেশি সময় ধরে এইসব মূল্যবান খনিজ সম্পদ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে পাবলিক সেক্টরে অথবা প্রাইভেট সেক্টরে ব্যবহারের কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখিনি। এ প্রসঙ্গে অসংখ্য সংবাদ, প্রতিবেদন, চিঠি ও সম্পাদকীয় বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও সাপ্তাহিকে প্রকাশিত হয়েছে। কতর্ৃপক্ষীয় অবহেলা ও অদক্ষতার জন্য কোটি কোটি টাকার মূল্যবান খনিজ সম্পদ নষ্ট হয়ে গেছে এবং সমুদ্রের অতল গর্ভে তলিয়ে গেছে।
1975 সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন ঘোষণা করে যে, তারা কক্সবাজার এলাকায় পাঁচ শ কোটি টাকার খনিজ সম্পদ আবিষ্কার করেছে। তারা আরো বলে যে, অস্ট্রেলিয়া সরকারের সহযোগিতায় তারা কক্সবাজার এলাকায় একটি খনিজ কারখানা স্থাপন করেছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় যে, আদৌ তারা কোনো গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ কাজ করতে পারেনি এবং তারা সম্পূর্ণরূপে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে মূল্যবান খনিজ সম্পদ ব্যবহার করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এখনও সময় আছে। মূল্যবান খনিজ সম্পদ শুধু কক্সবাজার এলাকাতেই নয়, বাংলাদশের বিভিন্ন সমুদ্র তীরবতর্ী এলাকায়ও মজুদ রয়েছে। সরকারের কাছে অনুরোধ করছি যে, সংশিস্নষ্ট সকল কতর্ৃপক্ষ যথা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশন, বাংলাদেশ ভূ-তাত্তি্বক বিভাগ, বু্যরো অফ মিনারেলস, রপ্তানি উন্নয়ন বু্যরো ইত্যাদির একটি সমন্বয় সভার আয়োজন করা হোক এবং বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা ও বিবেচনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হোক।
এটা সত্য যে, মূল্যবান খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান উন্নয়ন ও পরিশোধন অত্যনত্দ ব্যয়বহুল ও উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন ব্যাপার। তবে এখন কোনো বৈদেশিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগে না যাওয়াই ভালো। কারণ গাফিলতি ও যাবতীয় দুনর্ীতির ফলে আমাদের খনিজ সম্পদ লুট হয়ে যাওয়ার সম্ভবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।
আমি বহুদিন ধরে মূল্যবান খনিজ সম্পদের ওপর গবেষণা ও পর্যালোচনা করে আসছি। আমরা আমাদের নিজস্ব প্রযুক্তি অনুযায়ী খনিজ সম্পদ আহরণ-ব্যবহার ও রপ্তানি করলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবো এবং এ কার্যক্রমের ফলে আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের গরিব জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে।
ও এইচ কবীর,
6 হেয়ার স্ট্রিট, ওয়ারী, ঢাকা 1203।
ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 07.04.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



