somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সীমানত্দবতর্ী জনপদে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ, গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ : ব্যবহৃত হচ্ছে ভারতীয় কোম্পানির সিমকার্ড

২২ শে এপ্রিল, ২০০৬ ভোর ৬:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইখতিয়ার উদ্দিন : সীমানত্দ সংলগ্ন এলাকা থেকে দেশের মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর বেস ট্রান্সমিটার স্টেশন (বিটিএস) সরিয়ে নেওয়ায় লাখ লাখ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী যেমন সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোও। আর এই সুযোগে ভারতীয় মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর সিমকার্ড ব্যবহার ঐসব এলাকায় ব্যাপকহারে বেড়ে গেছে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমানত্দের কাছাকাছি স্থাপিত দেশের 3টি মোবাইল ফোন কোম্পানির 128টি বিটিএস জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং চোরাকারবারি ও দুষ্কৃতকারীরা মোবাইল ফোন সুবিধা নিয়ে অবাধে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে_ এই অজুহাতে সমপ্রতি বাংলাদেশ টেলি-কমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) ঐসব বিটিএস সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়। সীমানত্দরেখার 8 কিলোমিটারের মধ্যে স্থাপিত বিভিন্ন মোবাইল ফোন কোম্পানির বিটিএসগুলো ইতিমধ্যে সরিয়েও ফেলা হয়েছে। এ কারণে বগুড়া, জয়পুরহাট, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, নওগাঁ, নবাবগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, ময়মনসিংহ ও কক্সবাজার জেলার সীমানত্দবতর্ী অঞ্চলের লাখ লাখ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারী যোগাযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এর ফলে যেসব গ্রাহক তাদের সংযোগ ব্যবহার করতে পারছেন না, তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর স্থানীয় সেবাদান কেন্দ্রে হামলাও করেছে ।
এদিকে বিটিআরসি যে নিরাপত্তার অজুহাতে সীমানত্দবতর্ী এলাকার বিটিএসগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে সেই উদ্দেশ্যও সফল হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ চোরাকারবারি-সন্ত্রাসী বা তথ্য পাচারকারীরা ভারতের মোবাইল ফোন ব্যবহার করেও সহজেই তাদের কাজ সেরে নিতে পারছে।
উল্লেখ্য, ভারতের বিভিন্ন মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক আমাদের দেশের সীমানত্দের অনেকটা এলাকাজুড়েই পাওয়া যায়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে যা বাংলাদেশ ভূখণ্ডের 1 থেকে সাড়ে 3 কিলোমিটার ভেতরে পর্যনত্দ বিসত্দৃত। বিশেষত রাজশাহী ও দিনাজপুরের সীমানত্দ এলাকায় ভারতের এয়ারটেল এবং হাচ মোবাইল ফোনের জোরালো নেটওয়ার্ক রয়েছে। দেশের অন্যান্য সীমানত্দ এলাকায় এ দুটি কোম্পানির পাশাপাশি ভারতের রিলায়েন্স, আরপিজি, ওয়েসিস কোম্পানির নেটওয়ার্ক সচল রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিজ্ঞ মহলের মতে, সীমানত্দ এলাকায় বাংলাদেশের মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর নেটওয়ার্ক একতরফাভাবে বন্ধ রাখা হলে এসব এলাকা সহজেই ভারতের মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর বাজারে পরিণত হবে। কারণ সংশ্লিষ্ট এলাকাসমূহের বাসিন্দারা দেশীয় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে না পেরে যোগাযোগ রক্ষার জন্য ভারতের মোবাইল ফোন ব্যবহার করবে। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাবে, অন্যদিকে ভারতের মোবাইল ফোনের সিমকার্ড ও প্রি-পেইড কার্ড চোরাইপথে এদেশে ঢুকবে। ইতিমধ্যেই তার লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
এ প্রসঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিআরসির একজন ঊধর্্বতন কর্মকর্তা বলেন, ভারতীয় বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির সিগন্যাল আমাদের দেশের সীমানত্দ সংলগ্ন অঞ্চলে পাওয়া যাচ্ছে এরকম অভিযোগ আগে থেকেই রয়েছে। সীমানত্দবতর্ী অঞ্চল থেকে বাংলাদেশের মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার বা বিটিএস প্রত্যাহার করার কারণে এটা ঘটছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে তা সত্য নয়। তিনি বলেনন, ভারতীয় পক্ষ থেকেও অভিযোগ আছে যে, আমাদের দেশের বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির সিগন্যাল সে দেশের সীমানত্দ এলাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
তবে সীমানত্দ এলাকা থেকে বাংলাদেশের মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর বেস স্টেশন সরিয়ে নিলে ঐসব এলাকা ভারতীয় কোম্পানিগুলোর অবৈধ একচেটিয়া বাজারে পরিণত হবে এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগার ক্ষতিগ্রসত্দ হবে এমন আশঙ্কার ব্যাপারে ঐ কর্মকর্তা কোনো মনত্দব্য করেননি।

ঃ ভোরের কাগজ ঃ 22.04.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×