2005 সালের 9 এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দীন চৌধুরী এই পস্ন্যান্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রতিদিন এই পস্ন্যান্টে তিন থেকে আট টন জ্বালানি কাঠ উৎপন্ন হচ্ছে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে এখনো পর্যনত্দ বাজারে এই জ্বালানি কাঠ ছাড়া হয়নি। তবে সিটি কর্পোরেশনের রাসত্দার কাজে এই জ্বালানি কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। এই পস্নান্টে বহুলোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।
এই পস্ন্যান্ট সম্পর্কে বলতে গিয়ে মূল পরিকল্পনাকারী এবং পস্ন্যান্টের পরিচালক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল হাসনাত জানান, 'চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন 80 টন ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করা হয়। এসব ময়লা আবর্জনা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় নগরীর হালিশহরের আনন্দবাজার, রউফাবাদ, বাকলিয়া এলাকায় ডাম্পিং করা হয়। আবর্জনা এলাকার পরিবেশ দূষিত করে ফেলার কারণে ময়লা-আবর্জনাগুলো আগুনে পুড়ে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার পরিকল্পনা নেয়া হলে এ ব্যাপারে পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এর ৰতিকর প্রভাবের কথা বিবেচনা করে তা বাতিল করেন। পরবতর্ী পর্যায়ে ডাচ সরকারের পরিকল্পনায় ময়লা আবর্জনা থেকে বিদু্যৎ এবং গ্যাস উৎপাদনের পরিকল্পনা নেয়া হয়। কিন্তু এই প্রকল্প বাসত্দবায়ন করতে প্রায় 150 থেকে 200 কোটি টাকার প্রয়োজন হওয়ায় ব্যয়বহুল এই প্রকল্পও বাতিল হয়ে যায়। পরবতর্ীতে প্রকৌশলীরা ময়লা-আবর্জনা থেকে জ্বালানি কাঠ এবং জৈব সার তৈরীর পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এই জ্বালানি কাঠের নমুনা জ্বালানি গবেষণা কেন্দ্রের প্রেরণ করে গবেষণা করা হয় এবং প্রমাণিত হয় এই জ্বালানি কাঠ পরিবেশ দূষণমুক্ত। গুণগতমানের দিক দিয়ে বেশ উন্নত এবং এর দামও কম। এই পস্ন্যান্টে প্রতিদিন 10 টন জ্বালানি কাঠ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে সংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ধরনের পস্ন্যান্ট স্থাপনের মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি কাঠ উৎপাদন, বনজবৃৰের উপর নির্ভরতা কমানোসহ আরো অনেক উপকার সাধন হবে। এই পস্ন্যান্টে শুধু জ্বালানি কাঠ উৎপন্ন হবে না। ময়লা-আবর্জনা থেকে জৈব সারও উৎপন্ন হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের গার্বেজ ট্রিটমেন্ট পস্ন্যান্টের দ্বিতীয় প্রজেক্ট হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা থেকে জৈব সার তৈরীর কারখানা স্থাপন করা। 0 আবুল কাসেম ভূঁইয়া
ঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 26.04.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



