যশোর সদর উপজেলার সীতারামপুর, কচুয়া, বাহাদুরপুর, দলিরগাতি ও চাউলিয়া গ্রামের ঋষি সম্প্রদায়ের লোকেরা পাখির বাসা তৈরি করে। কোম্পানির দেওয়া ক্যাটালগ দেখে তারা পাখির বাসা তৈরি করে। চন্ডি দাস, বিজয় দাস, শ্রীদাম দাসসহ কয়েকজন শিল্পী জানান, বাঁশ তারা নিজেরা কেনেন। একটি তলতা বাঁশ 40-50 টাকায় কিনতে হয়। কাতা ও নারিকেলের ছোবড়া কোম্পানি থেকে সরববাহ করা হয়। যশোর এলাকাতে বাবুই, পিজি, বিটু, সিটু, সি-1, সি-2, সি-3 সহ 30-35 আইটেমের বাসা তৈরি হয়ে থাকে। পরিবারের পুরম্নষ ও মেয়েরা সবাই মিলে কাজ করে। মেয়েরা সাংসারিক অন্য কাজের ফাঁকে পাখির বাসা তৈরির কাজ করে। বিভিন্ন বাসা তৈরির রেটও ভিন্ন ভিন্ন। শুধু বাঁশের তৈরি বাবুই পাখির বাসা প্রতিটির রেট সাড়ে 3 টাকা, সিটু'র রেট 2 টাকা, পিজি'র 5 টাকা, রঙ্গীন বাসার রেট 10 টাকা এবং ঘরের মত দেখতে বাসার রেট 25 টাকা বলে সীতারামপুরের শিল্পীরা জানান। 4 জনের পরিবার সপ্তাহে ছোট আকারের দু' আড়াইশ' বাসা তৈরি করতে পারে। পরিবার পিছু দৈনিক গড় আয় 70-80 টাকা। যশোর এলাকার শিল্পীরা জানান, তারা প্রতি সপ্তাহে রূপদিয়া বাজারের কোম্পানির লোকের কাছে তৈরি পাখির বাসা বিক্রি করেন। তবে পেমেন্ট পেতে বিলম্ব হয়। কিন্তু এএসকে ইন্টারন্যাশনালের মালিক মোঃ খায়রম্নল আলম জানান, প্রতি সপ্তাহানত্দে শিল্পীদের টাকা পরিশোধ করা হয়ে থাকে। তিনি আরো জানান, ঢাকা, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, স্বরূপকাঠির গ্রামের শিল্পীরাও পাখির বাসা তৈরির হসত্দ শিল্পের সাথে জড়িত। সব মিলিয়ে এক হাজার পরিবার পাখির বাসা তৈরি পেশার সাথে জড়িত। একেবারেই ফেলনা জিনিস নিয়ে এগুলো তৈরি হয়ে থাকে। ইউরোপের হল্যান্ড, জার্মানী, ফ্রান্স, পতর্ুগাল, স্পেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রভৃতি দেশে এসকল পাখির বাাস রপ্তানি হয়ে থাকে। এমনকি এখন সৌদি আরবেও রপ্তানি হচ্ছে। বছরে বিভিন্ন ধরনের 20 লাখ পাখির বাসা তার সংস্থা রপ্তানি করে থাকে।
ঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 27.04.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




