ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ কতর্ৃক এক বাংলাদেশী কৃষককে অপহরণ, গুলিবর্ষণ, একের পর এক উস্কানিমূলক তৎপরতার কারণে কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত ঘেঁষা এলাকার কৃষকরা গত 4 দিন ধরে জমির ধান কাটতে পারছে না। ফলে ক্ষেতের পাকা ধান ক্ষেতেই ঝরে যাওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এদিকে গত 8 দিন আগে অপহৃত কৃষক মেনারুলকে গত শনিবারও ফেরত না দেয়ায় এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। জানা যায়, গত বুধবার আন্তর্জাতিক সীমানা পিলার 1071 নং-এর পাশর্্ববর্তী আলগারচর গ্রামের কৃষক সোহরাব ও আব্দুল করিম সীমান্ত ঘেঁষা জমিতে ধান কাটতে গেলে ভারতের বলদানগিরী বিওপি'র বিএসএফ সদস্যরা বাধা দেয়। তাদের বাধা উপেক্ষা করে তারা ধান কাটতে শুরু করলে বিএসএফ সদস্যরা 3 রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে তাদেরকে তাড়িয়ে দেয়।
পরের দিন বেহুলারচর গ্রামের কৃষকরা ক্ষেতে ধান কাটতে গেলে আবারও বিএসএফ সদস্যরা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়লে কৃষকরা আতংকিত হয়ে ধান কাটা ছেড়ে পালিয়ে যায়। বিডিআরের পক্ষ থেকে এ ঘটনার প্রতিবাদ পাঠানো হলেও বিএসএফ কোন সাড়া দেয়নি। বরং বিএসএফ সদস্যরা ভারতের জোড়ভাঙ্গা ও কুচনীপাড়া গ্রামের লোকজনকে নিয়ে এসে বাংলাদেশের নওদাপাড়া ও খাটিয়ামারী সীমান্তের জিরো লাইন সংলগ্ন জমিতে ধান কাটতে বাধা সৃষ্টি করছে। গত 22 এপ্রিল বিএসএফ সদস্যরা একই এলাকায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বানিয়ামারী গ্রামের মেনারুল নামে এক কৃষককে অপহরণ করে নিয়ে যায়। বিডিআরের প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ সদস্যরা মেনারুলকে ফেরত দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও শনিবার পর্যন্ত তাকে ফেরত দেয়া হয়নি বলে বিডিআর জানিয়েছে। বেহুলার চরের কৃষক আকতার আলী, ময়েন উদ্দিন ও খাদেমুল জানান, জমিতে ধান কাটতে গেলেই বিএসএফ সদস্যরা গুলি চালানোর হুমকি দিচ্ছে। তারা জানান, ক্ষেতের পাকা ধান কাটতে না পারায় তা ক্ষেতেই ঝরে যাচ্ছে।
ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 01.05.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



