এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে টিঅ্যান্ডটির লাইনম্যানেরই জয় হয়েছে। পারিবারিক প্রয়োজনে আমাদের 9331826 নম্বরের টেলিফোনটিকে স্থানান্তর করার প্রয়োজন হওয়ায় একদিন এক স্থানীয় লাইনম্যানকে কী কী লাগে জিজ্ঞেস করাতে সে এক অবৈধ প্রসত্দাব দিয়ে বসে। তার প্রসত্দাব গ্রহণ না করায় সে বলে যে, অন্যথায় চেয়ারম্যানও কিছু করতে পারবেন না। স্থানান্তরের জন্য ডিমান্ডনোটের টাকা যথারীতি জমা দিয়ে দেখা গেলো, আমরা একটা কল না করেও হঠাৎ করে সেই মাসেই হাজার হাজার টাকার বিল দেখানো হয়েছে। চেয়ারম্যানকে নিয়ে লাইনম্যানের স্পর্ধামূলক উক্তিসহ টিঅ্যান্ডটির লোকজনের অবৈধ ব্যবসার পূর্ব নজিরের উলেস্নখপূর্বক বিষয়টি বেশকিছু বহুল প্রচারিত দৈনিকে প্রকাশ ছাড়াও সরাসরি টিঅ্যান্ডটির চেয়ারম্যানেরও নজরে আনা হয়। চেয়ারম্যান মহোদয় কী ব্যবস্থা নিয়েছেন তা আমাদের জানা নেই। কিন্তু টিঅ্যান্ডটির হিসাব বিভাগ মগবাজার একচেঞ্জের বিভাগীয় প্রকৌশলীর কাছে বিষয়টির সুরাহার জন্য পত্র দেয়। এর কিছুদিন পর দেখি গোয়েন্দা পুলিশ ঐ এক্সচেঞ্জের 86টি অবৈধ লাইন কেটে দেয়, যা দিয়ে কোটি কোটি টাকার অবৈধ ব্যবসা চলছিল। একজন লাইনম্যানকে এ ব্যাপারে গ্রেফতার করা হলে এর সঙ্গে অনেক রাঘববোয়ালের জড়িত থাকা এবং মগবাজার এক্সচেঞ্জের লোকজন পলাতক বলে পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়। মাঝে-মধ্যেই টিঅ্যান্ডটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ আমাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খোঁজ-খবর নিতে এসেছেন। একদিন তো জনৈক পরিচালক তার অধীনস্থ বেশকিছু কর্মকর্তা ও অন্যান্য লোকসহ এসে বলে গেলেন যে, একটা চিঠি দেবেন আমাদেরকে, কিন্তু আজ পর্যন্ত সে চিঠি আসেনি। টিঅ্যান্ডটির নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ বিভাগের প্রধান কর্মাধ্যক্ষ চিঠি দিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহানুভূতি দেখিয়েছিলেন। কিন্তু টিঅ্যান্ডটির চেয়ারম্যান বনাম লাইনম্যানের খেলায় এখন পর্যন্ত জয় লাইনম্যানেরই, বাঘা বাঘা কর্মকর্তাদের সকল কর্মতৎপরতার ফলাফল এখন পর্যন্ত শূন্য। প্রায় দেড় বছর ধরে আমাদের কোনো টেলিফোন সংযোগ নেই, ক্ষতিপূরণসহ ইঞ্ঝিত স্থানান্তর স্থানে টেলিফোন সংযোগ দেয়ার আমাদের ন্যায্য অধিকার ভুলুণ্ঠিত। 14-10-05 তারিখে একটি শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিকের চিঠিতে দেখেছি, ধানমন্ডি এলাকার এক ভদ্রলোক লিখছেন, আমরা লাইনম্যানদের মন্ত্রীর চেয়েও সম্মান করে কথা বলি, পাছে কোনো কথায় মাইন্ড করে আমাদের টেলিফোন লাইন দীর্ঘদিন ধরে অকেজো না হয়ে যায়। আসল কথা, দুনর্ীতিতে আকণ্ঠ ও আপাদমসত্দক নিজেই ডুবে থাকলে, কারও বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রশ্ন হলো, এজন্যই কি বাংলাদেশ হয়েছিল?
সুরাইয়া, 22 সিদ্ধেশ্বরী লেন, ঢাকা 1217।
ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 07.05.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



