আমি নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানার অধিবাসী। আমার সাড়ে তিন বছরের ছেলে মাহিন। কিছুদিন আগে রাত প্রায় দুটোর দিকে মাহিনের 105 ডিগ্রির ওপরে জ্বর আসে কাঁপুনি দিয়ে। অনেক চেষ্টার পরও যখন ছেলের জ্বর কমলো না তখন ছেলের আম্মুর গগনবিদারী আর্তনাদে আমি প্রায় উন্মাদের মতো দৌড়ে ছুটলাম বাসস্ট্যান্ডের দিকে। বাসস্ট্যান্ডে পেঁৗছে কোন ফার্মেসি খোলা না পাওয়ায় একটি স্কুটার নিয়ে বাসায় ফিরে এলাম। দেখলাম ছেলের অবস্থার আরো অবনতি হয়েছে। দেরি না করে ছেলেকে নিয়ে আমরা নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালের জরম্নরি বিভাগে যখন পেঁৗছলাম, তখন রাত সোয়া তিনটা। জরম্নরি বিভাগ একেবারে ফাঁকা নীরব। কোন ডাক্তার নেই। হাসপাতালে কর্তব্যে নিয়োজিত স্টাফ সবাই যে যার মতো ঘুমাচ্ছে। জরম্নরি বিভাগের যে কৰে সার্বৰণিক একজন মেডিক্যাল অফিসার উপস্থিত থেকে চিকিৎসা সেবা দেয়ার কথা, সেই কৰে একজন ব্রাদার দরজা বন্ধ করে আরামে ঘুমাচ্ছে। আমরা কী করবো বুঝে উঠতে পারছি না। আমাদের কান্নাকাটি শুনে একজন আয়া কাছে এলেন। তিনি ডাক্তারের কৰে বেশ কিছুৰণ কড়া নেড়ে ব্রাদারকে ডেকে তুললেন। লুঙ্গি এবং গেঞ্জি পরিহিত অবস্থায় ব্রাদার সে রম্নম থেকে বের হলেন। খুব বিরক্তি ভাব নিয়ে প্রচণ্ড জ্বরে নেতিয়ে যাওয়া অসুস্থ ছেলেকে স্টেচারে শুইয়ে হাসপাতালের িপে দু'টি ইনজেকশন, একটি সাপজিটরির নাম লিখে দিয়ে বললেন এনে দিতে। আমি ফার্মেসি থেকে ওষুধগুলো এনে দেয়ার পর সেগুলো বাচ্চার শরীরে পুশ করে বললেন এখানে এখন রোগী কোন অবস্থাতেই ভর্তি করা যাবে না। মাতুয়াইল শিশু হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিলেন তিনি। রাত চারটা বাজে। স্কুটারে করে ছেলেকে নিয়ে গেলাম মাতুয়াইল হাসপাতালে। সেখানেও একই অবস্থা। ডাক্তার থাকলেও সকলেই যার যার রম্নমে ঘুমাচ্ছেন। যে িপ লিখে দিলো তাকেও ঘুম থেকে একজন ডেকে তুললেন। অসুস্থ ছেলেকে বুকে ও অন্য হাতে িপ নিয়ে এক সিকিউরিটির পেছনে পেছনে ডাক্তারের রম্নমের সামনে এসে দাঁড়ালাম। কিছুৰণ ডাকাডাকির পর ডাক্তার উঠলে ছেলের অসুস্থতার কথা সবিসত্দারে জানালাম। তিনি দেখলেন এবং কোন কথা না বলে প্রেসক্রিপশনে একটি পরীৰা লিখে দিয়ে অসুস্থ ছেলেকে রেফার করে দিলেন ঢাকায় শ্যামলী শিশু হাসপাতালে।
কান্না, কষ্ট আর বুক ভরা হতাশা নিয়ে চিকিৎসা বঞ্চিত হয়ে হাসপাতাল থেকে রাসত্দায় বের হয়ে এলাম। অসম্ভব জ্বরে কষ্ট পাওয়া ছেলেকে বুকে অাঁকড়ে ধরে তাকে নিয়ে এলাম ঢাকায়। ভোর প্রায় পৌনে পাঁচটায় গিয়ে পেঁৗছলাম শিশু হাসপাতালে। শিশু হাসপাতালে কিছুদিন ভর্তি থেকে চিকিৎসা সেবা নেয়ার পর আলস্নাহর রহমতে এখন সে সুস্থ।
আমি একজন ভুক্তভোগী। আমার মতো অনেকেই হয়তো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন। রাতের বেলা জরম্নরি বিভাগে সার্বৰণিক একজন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও ডাক্তার থাকেন না। ঝামেলা এড়ানোর জন্য জরম্নরি রোগীদের বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা এখন ডাক্তারদের স্বভাবে পরিণত হয়ে গেছে। এ অবস্থায় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধি করাসহ অনিয়ম রোধে সংশিস্নষ্ট ঊধর্্বতন কর্তৃপৰের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
গাজী শামীম আহমেদ,
সৈয়দপাড়া (তাঁতখানা) গোদনাইল, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ।
ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 10.05.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



