somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা আজও মানেনি ভারত ও মিয়ানমার

১৩ ই মে, ২০০৬ ভোর ৫:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বত্রিশ বছরেও ভারত ও মিয়ানমার বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমা মেনে নেয়নি। আর জলসীমা নির্ধারণ না হবার কারণে ভারত ও মিয়ানমার বাংলাদেশের সীমার মধ্যে প্রবেশ করে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান চালাচ্ছে। হরহামেশা বিভিন্ন ধরনের জাহাজ সমুদ্রসীমা অতিক্রম করছে। মাছ ধরা হচ্ছে বাংলাদেশ এলাকায়। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের এলাকা আন্তর্জাতিক নিয়মানুসারে 4 ভাগে বিভক্ত। এগুলো হলো উপকূলবতর্ী এলাকা, সংলগ্ন এলাকা, মহীসোপান এলাকা এবং একান্ত অর্থনৈতিক এলাকা। 1982 সালে জাতিসংঘ কনভেনশন অনুসারে প্রতিটি দেশকেই তার নিজ নিজ সমুদ্র এলাকা ভাগ করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ 1991 সালে এ কনভেনশনে স্বাক্ষর করে। অবশ্য এর আগেই বাংলাদেশ 1974 সালে টেরিটোরিয়াল ওয়ার্টার্স এণ্ড মেরিটাইম এ্যাক্ট প্রণয়ন করে। পরবতর্ীতে একই বছর গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে এ আইনকে কার্যকর করে। জাতিসংঘের দেয়া মডেল অনুসারেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিয়মানুসারে সমুদ্র তীর থেকে 12 নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সব কিছুর উপর সার্বভৌম অধিকার থাকবে তটবতর্ী দেশের। এ অঞ্চলের কেবল জল নয়, আকাশ পথেরও নিয়ন্ত্রণ থাকবে সংশিস্নষ্ট দেশের। উপকূলবতর্ী সমুদ্র এলাকার প্রশসত্দতা যেখান থেকে মাপা হয় ঐ ভূমি রেখা থেকে 24 নটিক্যাল মাইল হচ্ছে সংলগ্ন এলাকা। সমুদ্রে নিমজ্জিত মহাদেশীয় ভূমি খণ্ডের অংশ হচ্ছে মহীসোপান। মহীসোপানের জন্য ঊধর্্ব সীমারেখা হচ্ছে সুনির্দিষ্ট ভূমিরেখা থেকে সাড়ে 300 নটিক্যাল মাইল। সমুদ্র তীর থেকে মহীসোপানের 200 নটিক্যাল মাইলের এলাকাকে বলা হচ্ছে একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল বা সংক্ষেপে ইইজেড। তট এলাকা থেকে 200 ও সাড়ে 300 মাইলের অন্তর্বতর্ী অঞ্চলে সামুদ্রিক সম্পদ উত্তোলনের সার্বভৌম অধিকার কেবল তীরের দেশের। এ অঞ্চলে সবরকম অনুসন্ধান, উত্তোলন, সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার কাজ, কৃত্রিম দ্বীপ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে পুরো ক্ষমতা, বিভিন্ন কাঠামো স্থাপন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন তৎপরতা, পানি, স্রোত, ঢেউ থেকে বিদু্যৎ উৎপাদন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের পুরো অধিকার তটবতর্ী দেশের।
বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমার এবং ভারতের 1974 সালের পর থেকে এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক এলাকা নির্ধারণ নিয়ে কোন সমঝোতা হয়নি। সর্বশেষে 1982 সালে ভারতের সাথে এবং 1986 সালে মিয়ানমারের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানা যায়। বাংলাদেশের উপকূলবতর্ী এলাকা অনেকটা ইংরেজী 'ডি' অক্ষরের মত হওয়ায় আমাদের দেশ 1974 সালেই ঘোষণা করে সরল রৈখিক ভূমিরেখার মাধ্যমে এ সমুদ্র এলাকা চিহ্নিত হবে। সেই আইনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সমুদ্র অঞ্চলের সকল ধরনের খনিজ দ্রব্যের অধিকার বাংলাদেশের। এখানে গড়ে ওঠা সকল ধরনের দ্বীপের মালিকানাও বাংলাদেশের। বাংলাদেশ সমুদ্রে সরল রৈখিক ভূমিরেখার বিষয়টি উত্থাপন করে 1974 সালে জাতিসংঘ কনভেনশন অন দ্যা ল অফ দি সি'র ড্রাফটিং কমিটির বৈঠকে। নানা আলোচনার পর সমুদ্রে সরল রৈখিক ভূমি রেখার বিষয়টি জাতিসংঘ গ্রহণ করে। কিন্তু মিয়ানমার এবং ভারত এটি মানতে চায়নি। 1982 সালের 28 এপ্রিল সমুদ্রে সরল রৈখিক ভূমিরেখা অনুসারে বাংলাদেশের অংশের বিষয়টি উলেস্নখ করে ও ম্যাপ দিয়ে মিয়ানমার ও ভারতকে একটি চিঠি দেয়া হয়। 30 এপ্রিল 1982তে ভারত বিষয়টি নিয়ে একটি উত্তর দেয়। বাংলাদেশ ঐ চিঠিতে জানিয়েছিল, মূলত বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বেশ কয়েকটি বড় বড় নদী। যে নদীগুলোর মাধ্যমে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ টন পলি সাগরে পড়ছে। সাগরে পড়া এই পলি জমে ধীরে ধীরে বাংলাদেশ অংশে নতুন নতুন দ্বীপ জেগে উঠছে। সমুদ্রের উচ্চতার যে হিসাবে বিভিন্ন এলাকা চিহ্নিত করা হয়, বাংলাদেশ সে অনুসারেই সকল এলাকা চিহ্নিত করবে। ভারত এ বিষয়কে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা না করে আনুষ্ঠানিক আলোচনার কথা বলে। অবশ্য তারা বাংলাদেশকে দেয়া চিঠিতে সরল রৈখিক ভূমিরেখার বিষয়টি যুক্তিযুক্ত কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল। অপরদিকে মিয়ানমার বাংলাদেশের প্রসত্দাব উড়িয়ে দিয়ে যুক্তি উপস্থাপন করে বলে, সমুদ্রসীমা ভূমির শেষপ্রান্ত থেকে মাপা শুরু হবে। সমুদ্রের কোন পয়েন্ট থেকে নয়।
বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমার এবং ভারতের এ বিষয়টি আলোচনা তেমন এগোয়নি। বাংলাদেশ জাতিসংঘের বিভিন্ন আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপন করলেও তা আলোচিত হয়নি। পুরো বিষয়টি বর্তমানে আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। বাংলাদেশ থেকে পালিমাটি পড়ে জন্ম নেয়া দক্ষিণ তালপট্টি, হারিয়াভাঙ্গা থেকে পড়া পলি দিয়ে মাঝবাড়ি দ্বীপ, রায়মঙ্গলের মোহনায় আরেকটি দ্বীপের কারণে বাংলাদেশের ভূমি সীমারও পরিবর্তন ঘটছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জলসীমা নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে নৌবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র তুলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবার জন্য স্পার্সোকেও বলা হয়েছে। নৌবাহিনীকে এজন্য কারিগরিভাবে শক্তিশালী করারও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান লে. জেনারেল (অবঃ) মাহবুবুর রহমান এমপি বলেন, বাংলাদেশ যদি সঠিক ডাটা উত্থাপনের মাধ্যমে দাবি জানাতে পারে, তাহলে দেশের একান্ত অর্থনৈতিক এলাকা হবে সাড়ে 3শ' নটিক্যাল মাইল।
জানা গেছে, বাংলাদেশের জলসীমা নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি সেল রয়েছে। সেই সেলের কাজ-কর্ম এখনো খুব একটা চোখে পড়েনি। অথচ পাশর্্ববতর্ী ভারত ও মিয়ানমার এ নিয়ে যথেষ্ট তৎপর।

ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 13.05.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০০৬ ভোর ৬:০৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×