খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিয়মানুসারে সমুদ্র তীর থেকে 12 নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সব কিছুর উপর সার্বভৌম অধিকার থাকবে তটবতর্ী দেশের। এ অঞ্চলের কেবল জল নয়, আকাশ পথেরও নিয়ন্ত্রণ থাকবে সংশিস্নষ্ট দেশের। উপকূলবতর্ী সমুদ্র এলাকার প্রশসত্দতা যেখান থেকে মাপা হয় ঐ ভূমি রেখা থেকে 24 নটিক্যাল মাইল হচ্ছে সংলগ্ন এলাকা। সমুদ্রে নিমজ্জিত মহাদেশীয় ভূমি খণ্ডের অংশ হচ্ছে মহীসোপান। মহীসোপানের জন্য ঊধর্্ব সীমারেখা হচ্ছে সুনির্দিষ্ট ভূমিরেখা থেকে সাড়ে 300 নটিক্যাল মাইল। সমুদ্র তীর থেকে মহীসোপানের 200 নটিক্যাল মাইলের এলাকাকে বলা হচ্ছে একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল বা সংক্ষেপে ইইজেড। তট এলাকা থেকে 200 ও সাড়ে 300 মাইলের অন্তর্বতর্ী অঞ্চলে সামুদ্রিক সম্পদ উত্তোলনের সার্বভৌম অধিকার কেবল তীরের দেশের। এ অঞ্চলে সবরকম অনুসন্ধান, উত্তোলন, সংরক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার কাজ, কৃত্রিম দ্বীপ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে পুরো ক্ষমতা, বিভিন্ন কাঠামো স্থাপন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন তৎপরতা, পানি, স্রোত, ঢেউ থেকে বিদু্যৎ উৎপাদন, সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের পুরো অধিকার তটবতর্ী দেশের।
বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমার এবং ভারতের 1974 সালের পর থেকে এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক এলাকা নির্ধারণ নিয়ে কোন সমঝোতা হয়নি। সর্বশেষে 1982 সালে ভারতের সাথে এবং 1986 সালে মিয়ানমারের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে জানা যায়। বাংলাদেশের উপকূলবতর্ী এলাকা অনেকটা ইংরেজী 'ডি' অক্ষরের মত হওয়ায় আমাদের দেশ 1974 সালেই ঘোষণা করে সরল রৈখিক ভূমিরেখার মাধ্যমে এ সমুদ্র এলাকা চিহ্নিত হবে। সেই আইনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সমুদ্র অঞ্চলের সকল ধরনের খনিজ দ্রব্যের অধিকার বাংলাদেশের। এখানে গড়ে ওঠা সকল ধরনের দ্বীপের মালিকানাও বাংলাদেশের। বাংলাদেশ সমুদ্রে সরল রৈখিক ভূমিরেখার বিষয়টি উত্থাপন করে 1974 সালে জাতিসংঘ কনভেনশন অন দ্যা ল অফ দি সি'র ড্রাফটিং কমিটির বৈঠকে। নানা আলোচনার পর সমুদ্রে সরল রৈখিক ভূমি রেখার বিষয়টি জাতিসংঘ গ্রহণ করে। কিন্তু মিয়ানমার এবং ভারত এটি মানতে চায়নি। 1982 সালের 28 এপ্রিল সমুদ্রে সরল রৈখিক ভূমিরেখা অনুসারে বাংলাদেশের অংশের বিষয়টি উলেস্নখ করে ও ম্যাপ দিয়ে মিয়ানমার ও ভারতকে একটি চিঠি দেয়া হয়। 30 এপ্রিল 1982তে ভারত বিষয়টি নিয়ে একটি উত্তর দেয়। বাংলাদেশ ঐ চিঠিতে জানিয়েছিল, মূলত বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয় বেশ কয়েকটি বড় বড় নদী। যে নদীগুলোর মাধ্যমে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ টন পলি সাগরে পড়ছে। সাগরে পড়া এই পলি জমে ধীরে ধীরে বাংলাদেশ অংশে নতুন নতুন দ্বীপ জেগে উঠছে। সমুদ্রের উচ্চতার যে হিসাবে বিভিন্ন এলাকা চিহ্নিত করা হয়, বাংলাদেশ সে অনুসারেই সকল এলাকা চিহ্নিত করবে। ভারত এ বিষয়কে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা না করে আনুষ্ঠানিক আলোচনার কথা বলে। অবশ্য তারা বাংলাদেশকে দেয়া চিঠিতে সরল রৈখিক ভূমিরেখার বিষয়টি যুক্তিযুক্ত কিনা সে বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেছিল। অপরদিকে মিয়ানমার বাংলাদেশের প্রসত্দাব উড়িয়ে দিয়ে যুক্তি উপস্থাপন করে বলে, সমুদ্রসীমা ভূমির শেষপ্রান্ত থেকে মাপা শুরু হবে। সমুদ্রের কোন পয়েন্ট থেকে নয়।
বাংলাদেশের সাথে মিয়ানমার এবং ভারতের এ বিষয়টি আলোচনা তেমন এগোয়নি। বাংলাদেশ জাতিসংঘের বিভিন্ন আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপন করলেও তা আলোচিত হয়নি। পুরো বিষয়টি বর্তমানে আরো প্রকট আকার ধারণ করছে। বাংলাদেশ থেকে পালিমাটি পড়ে জন্ম নেয়া দক্ষিণ তালপট্টি, হারিয়াভাঙ্গা থেকে পড়া পলি দিয়ে মাঝবাড়ি দ্বীপ, রায়মঙ্গলের মোহনায় আরেকটি দ্বীপের কারণে বাংলাদেশের ভূমি সীমারও পরিবর্তন ঘটছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের জলসীমা নির্ধারণের জন্য ইতিমধ্যে নৌবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্র তুলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবার জন্য স্পার্সোকেও বলা হয়েছে। নৌবাহিনীকে এজন্য কারিগরিভাবে শক্তিশালী করারও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান লে. জেনারেল (অবঃ) মাহবুবুর রহমান এমপি বলেন, বাংলাদেশ যদি সঠিক ডাটা উত্থাপনের মাধ্যমে দাবি জানাতে পারে, তাহলে দেশের একান্ত অর্থনৈতিক এলাকা হবে সাড়ে 3শ' নটিক্যাল মাইল।
জানা গেছে, বাংলাদেশের জলসীমা নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি সেল রয়েছে। সেই সেলের কাজ-কর্ম এখনো খুব একটা চোখে পড়েনি। অথচ পাশর্্ববতর্ী ভারত ও মিয়ানমার এ নিয়ে যথেষ্ট তৎপর।
ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 13.05.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০০৬ ভোর ৬:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




