somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আঠারো ব্যর্থ মন্ত্রীর জন্যে দায়ি কে?

২৪ শে মে, ২০০৬ ভোর ৬:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমান জোট সরকারের মেয়াদ আর মাত্র কয়েক মাস। এখন সরকারের বিদায়ের প্রসত্দুতি নেয়ার কথা। শেষ মুহূর্তে কিছু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই বেশিরভাগ মন্ত্রী ব্যসত্দ থাকলেই মানানসই হতো। এখন প্রকল্প প্রসত্দাব রচনা বা ভিত্তিপ্রসত্দর স্থাপনের সময় নয়। আগামী চার মাস সরকারের পারফরমেন্স কোনো জাদুবলে হঠাৎ ভালো হয়ে গেলেও সরকার সম্পর্কে মানুষের ধারণার খুব পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। তাছাড়া সরকার যেসব ৰেত্রে (বেশিরভাগ ৰেত্রেই) ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে হঠাৎ আগামী চার মাস সেসব ৰেত্রে ভালো ফল দেখাতে শুরম্ন করবে-সেটা বাসত্দবসম্মত মনে হয় না। কাজেই সরকারের নতুন করে স্টার্ট নেয়ার সময় এখন নয়। সরকারের নীতি নির্ধারকদের যদি বুদ্ধি থাকে তাহলে তাদের উচিত দেশে (ঢাকায়) এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে না দেয়া যার ফলে তীব্র গণবিৰোভের মুখে তাদের বিদায় নিতে হয়। এখন একমাত্র কাজ হওয়া উচিত গণবিৰোভ সামলানো। গণবিৰোভ সামাল দেয়া ছাড়া জোট সরকারের আর এখন কোনো কাজ থাকতে পারে না।
এই কথাগুলো মনে হল সংবাদপত্রের একটি খবর পড়ে। খবরে বলা হয়েছে ! "জোট সরকারের বিশাল মন্ত্রীসভার আঠারো জনকে 'ব্যর্থ' হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এই মন্ত্রীদের তালিকা এখন প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে। অনিয়ম, দুর্নীতি, অযোগ্যতা ও ব্যর্থতাসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও উপদেষ্টাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন প্রধানমন্ত্রী।" (সমকাল, 20 মে)
খবরটি পড়ে মনে হল ! প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষকে বোকা বানাতে চেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী যে সরকার পরিচালনায় মোটেও দৰ নন এই রিপোর্ট তারও প্রমাণ বহন করে। কারণ সরকার পরিচালনায় সাড়ে চার বছর পর তিনি 18 জন অদৰ ও দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী চিহ্নিত করতে সৰম হয়েছেন। যাদের চাকরীর মেয়াদ আর মাত্র চার মাস। প্রধানমন্ত্রীর যদি তার মন্ত্রীদের দৰতা বুঝতে সাড়ে চার বছর সময় লেগে যায় তাহলে প্রধানমন্ত্রীর দৰতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। মন্ত্রীরা কে দৰ বা কে দৰ নয় তা তো প্রধানমন্ত্রীর বোঝার কথা সবার আগে। অবশ্য তিনি যদি বুঝতে চাইতেন। তিনি যদি প্রতি মাসে মন্ত্রীদের টাস্ক দিতেন ও মাস শেষে তার মূল্যায়ন করতেন তাহলে তো প্রথম ছয় মাসেই তিনি বুঝতে পারতেন কোন মন্ত্রী দৰ বা দৰ নন।
মন্ত্রীদের দুর্নীতির খবর জানতেও তাঁর সাড়ে চার বছর সময় লেগেছে? প্রধানমন্ত্রী কি সংবাদপত্র পড়েন? নাকি শুধু তাঁর সরকারের প্রশসত্দিমূলক খবরের ক্লিপিংস পড়েন? তিনি কি সংবাদপত্রের কলাম বা সম্পাদকীয় পড়েন? নাকি সমালোচনামূলক কোনো লেখা দেখলেই তা আওয়ামী লীগারের লেখা বলে উপেৰা করেন? বিএনপির মধ্যে কিন্তু এই রোগ আছে। তারা বিএনপির সমালোচককে আওয়ামী শিবিরের লোক বলে চিহ্নিত করেন। আর আওয়ামী শিবিরের পত্রিকা বা কলামিষ্টের সব লেখাকেই মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য বলে মনে করেন। যার ফলে গত সাড়ে চার বছর বহু সমালোচনাকেই সরকার গ্রাহ্য করেনি। এখন তার ফল হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। প্রতি মাসে একজন মন্ত্রীকে বদলাতে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিরোধী দল মাঠ গরম করার সুযোগ পেয়েছে। যার পরিণাম সরকারের জন্যে ভালো কিছু বয়ে আনবে না। সরকার কি তা বুঝতে পারছে? যথাসময়ে যদি সংবাদপত্রের সমালোচনার প্রতি সরকার দৃষ্টি দিতো তাহলে সাড়ে চার বছর পর মন্ত্রীদের দৰতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে হতো না। অনেক আগেই অনেক মন্ত্রী বাদ দিতে পারতেন। মন্ত্রণালয়ের কাজে দৰতা বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা আনয়ন ও দুর্নীতি রোধে আরো নানা পদৰেপ নিতে পারতেন। অবশ্য প্রধানমন্ত্রী যদি তা চাইতেন। প্রধানমন্ত্রীর "চাওয়াটা" খুব গুরম্নত্বপূর্ণ। তিনি না চাইলে তো ঘটনা ঘটতে পারে না। এমনও হতে পারে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের কাছ থেকে দৰতার বদলে অন্য কিছু চেয়েছেন। হয়তো তারা তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সনত্দুষ্টও করেছেন। তাই গত সাড়ে চার বছরে সংবাদপত্র কয়েকজন মন্ত্রী সম্পর্কে নানা কথা লিখলেও প্রধানমন্ত্রী তাতে কর্ণপাত করেননি। কারণ মন্ত্রীরা অন্য কোনো উপায়ে প্রধানমন্ত্রীকে সন্তুষ্ট রেখেছিলেন। এখন মন্ত্রীদের চাকরীর মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। হঠাৎ এখন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের দৰতার ও দুর্নীতির হিসাব নিতে শুরম্ন করেছেন। মানুষকে এত সহজে বোকা বানানো যাবে না।
সংবাদপত্রকে প্রধানমন্ত্রী বা তার সরকার খুব আস্থায় নেন বলে মনে হয় না। তা না নিতে পারে। সংবাদপত্রকে এই সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী যে ভাষায় সমালোচনা করেছেন তা অতীতে কোনো সরকারের মন্ত্রীরা করেননি। সংবাদপত্র সুযোগ পেলে তার প্রতিদান দেবে বলে আমার বিশ্বাস। এদেশে আন্দোলন করে সবসময় দুটি শক্তি। 1) প্রতিবাদী ছাত্র জনতা, 2) গণমাধ্যম। গণমাধ্যমের উৎসাহ ও সহযোগিতা ছাড়া কোনো আন্দোলনই সফল হতে পারে না। এখন টেলিভিশনের যুগ। টিভির "খবরই" আন্দোলনের গতি অনেক বাড়িয়ে দেবে। শুধু এক সালাউদ্দীন এম পি নয়, অনেকের পলায়নের দৃশ্য ধরা পড়বে গণমাধ্যমে। চট্টগ্রামে পুলিশের হাতে অকারণে মার খাওয়া ফটো সাংবাদিকরা ছবি তুলে সেই অপমানের প্রতিশোধ নেবে। এক সালাউদ্দীনের ছবি সামান্য নমুনা মাত্র।
সংবাদপত্রের উপর জোট সরকারের আস্থা কম থাকতে পারে। কিন্তু ক্যাবিনেট মির্টিং? সংসদীয় দলের সভা? গোয়েন্দা রিপোর্ট, ক্যাবিনেট মির্টিং-এ মন্ত্রণালয়ের পারফরমেন্স, দুর্নীতি, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, মন্ত্রীর দৰতা, প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতির খতিয়ান ইত্যাদি সম্পর্কে বিসত্দারিত আলোচনা করার সুযোগ ছিল। প্রধানমন্ত্রী কি সেই সুযোগ নিয়েছেন? নাকি কিছু গতানুগতিক কথাবার্তা আর স্থাবকতার মধ্য দিয়ে ক্যাবিনেট মিটিং শেষ করেছেন? মনে হয় তেমন কাজের কাজ কিছু হতো না। হলে সাড়ে চার বছর পর মন্ত্রীদের অদৰতা বা দুর্নীতির প্রশ্ন উঠল কেন? প্রতি মাসে কাজের অগ্রগতির পর্যালোচনা করলে তো অনেক গলদই বেরিয়ে আসতো। অদৰ মন্ত্রীদের অনেক আগেই বদলানো বা বিদায় করা যেতো। মনে হয় গত সাড়ে চার বছর প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের ব্যাপারে তেমন মনোযোগ দেননি। অনেক মন্ত্রী প্রায় স্বাধীনভাবেই মন্ত্রণালয় চালিয়ে গেছেন আর মনের আনন্দে দুর্নীতি করে গেছেন। তারা জানেন, দুর্নীতির হিস্যা একটা জায়গায় দিলে তাদের গায়ে ফুলের টোকাটিও পড়বে না। এটা হয়তো জোট সরকার সম্পর্কে অপপ্রচার। কিন্তু সাড়ে চার বছর কোনো মন্ত্রী শাসত্দি না পাওয়াতে (একমাত্র মোশারফ হোসেন ছাড়া) নিন্দুকদের কথাই অনেকে বিশ্বাস করতে চাইবেন।
কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর "দুর্বলতা" বেশ কদর্যভাবে চোখে পড়েছে সবার। তাদের ব্যর্থতার প্রতি বহুদিন প্রধানমন্ত্রী উদাসীন ছিলেন। ব্যক্তিগত দুর্বলতা মানবচরিত্রের একটা বৈশিষ্ট্য। প্রধানমন্ত্রী একজন মানুষ বলে এই দুর্বলতা তারও থাকা স্বাভাবিক। প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত দুর্বলতা (নাকি অন্য কোনো স্বার্থ?) যখন পুরো সরকারকে বিপদগ্রসত্দ করে, দেশকে সংকটাপন্ন করে তখন এই দুর্বলতা আর ৰুদ্র বিষয় থাকে না। তা হয়ে ওঠে এক বিরাট ইসু্য। সরকার বা রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা দুর্বলতার স্থান থাকতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী যাদের প্রতি নমনীয় তারা প্রায় সকলেই প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারকে ডুবিয়েছেন। জোট সরকারের ক্যাবিনেট মির্টিং যদি গণতান্ত্রিক হতো তাহলে এরকম বহু বিষয় মির্টিং-এ অন্য মন্ত্রীরা তুলতে পারতেন। এসব নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হতো এবং সরকারের জন্যে যা উপযুক্ত সেই সিদ্ধানত্দই নেয়া হতো। আজ সাড়ে চার বছর পর দৰতা অদৰতার প্রশ্ন উঠতো না। অনেক আগেই এগুলোর মীমাংসা হয়ে যেতো।
কয়েকজন মন্ত্রীর দুর্নীতি নিয়ে গত চার বছর ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। একজন মন্ত্রীর বহুল আলোচিত দুর্নীতি নিয়ে সংসদীয় কমিটি পর্যনত্দ গঠিত হয়েছে। যদিও তার ফল আর জানা যায়নি। শুধু মন্ত্রী নয়, মন্ত্রীর ছেলে যে সন্ত্রাস ও ৰমতার অপব্যবহার দেখিয়েছে তারও নজীর খুব বেশি নেই। মন্ত্রীদের দুর্নীতি সম্পর্কেও প্রধানমন্ত্রী সাড়ে চার বছর প্রায় নিশ্চুপ ছিলেন। তিনি কি সত্যিই বিশ্বাস করেন তাঁর সব মন্ত্রীই দুর্নীতিমুক্ত? দুর্নীতির অভিযোগে বড় কোনো শাসত্দি মন্ত্রীসভার কেউ পায়নি। অথচ এটা অনেকেই বিশ্বাস করেন, সরকার যদি একজন মন্ত্রীকেও দুর্নীতির অভিযোগে মন্ত্রীসভা থেকে ছাঁটাই করতো তাহলে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়তো অনেক বেশি। একটা পদৰেপে অনেককে সতর্ক করে দেয়া যেতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেই পথে যাননি। বরং তিনি মন্ত্রী, এমপির দুর্নীতির ব্যাপারে উদাসীনতা দেখিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী একবার বলেছিলেন : "মন্ত্রীত্ব স্থায়ী চাকরী নয়। পারফরমেন্সের উপর তা নির্ভর করবে।" প্রধানমন্ত্রী কিন্তু তার কথা রাখেননি। বাংলাদেশে মন্ত্রীত্ব প্রায় স্থায়ী চাকরীর (5 বছর) মতোই হয়ে গেছে। অনেকে হয়তো বলবেন : "প্রধানমন্ত্রী তো দফতর বদল করেছেন।" ঠিক কথা। কিন্তু দফতর বদল করলে অদৰতার শাসত্দি হয় না। আর যে মন্ত্রী এক দফতরে অদৰ তিনি অন্য দপ্তরে দৰ হবেন- এটা কি সম্ভব? তাছাড়া এক দফতরে অদৰতার প্রমাণ হয়তো পাওয়া গেছে, কিন্তু অন্য দপ্তরে তিনি যে দৰতার পরিচয় দেবেন তার গ্যারিন্টি কোথায়? মন্ত্রী রদবদলের খেলা দেখে মনে হয় বিএনপির ভেতরে একটা অদৃশ্য "মন্ত্রী সেল" রয়েছে। এই সেল থেকেই মন্ত্রী নিতে হয়। যে কোনো কারণেই হোক প্রধানমন্ত্রী যেন এই সেল থেকেই মন্ত্রী বাছাই করতে বাধ্য। এই সেলের বাইরে তিনি যান না। বা যেতে পারেন না। রদবদলের খেলা অনেকটা একারণেই। প্রধানমন্ত্রী কেন এই সেলের বাইরে যেতে পারেন না তা নিয়ে বাজারে নানা কথা চালু আছে। আমি অবশ্য গুজব নিয়ে আলোচনা করা পছন্দ করি না। বিএনপিতে দলীয়ভাবে বা পার্লামেন্টারী গ্রম্নপে এরকম একটি "মন্ত্রী সেল" নির্বাচিত বা মনোনীত হয়েছে কিনা তা বিএনপির নেতা বা এমপিরা ভালে বলতে পারবেন। যদিও সংবিধান প্রধানমন্ত্রীকে তার মন্ত্রীসভা গঠনের একক ৰমতা দিয়েছে। তবু 'দল' বলে একটা বিষয় বিবেচনায় রাখতে হয়। প্রধানমন্ত্রী তো দলেরই সৃষ্টি। দলের সিদ্ধানত্দেই প্রধানমন্ত্রী সংসদীয় দলের নেতা মনোনীত হয়েছেন। কাজেই দলকে একেবারে আমলে না নিলে ফল ভালো হয় না। এখন দলের নেতারাই প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে পারেন- তাকে বার বার 'মন্ত্রী সেল' থেকে মন্ত্রী বাছাই করতে হয়েছে কেন? কেন নতুন মুখ মন্ত্রীসভায় স্থান পায়নি? কেন এক দফতরে ব্যর্থ মন্ত্রীকে অন্য দফতরে রদবদল করতে হল? কেন "স্বরাষ্ট্র'র" মতো গুরম্নত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী দিয়ে চালাতে হচ্ছে? বিএনপিতে কি সিনিয়র নেতার এতোই অভাব?
প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রীসভা পরিচালনা নিয়ে যে তেমন মাথা ঘামান না তার একটা প্রমাণ দিই। অর্থ মন্ত্রণালয়ে এই কদিন আগে পর্যনত্দ দুজন প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তাদের তৎপরতা কি কখনো দেখা গেছে? অর্থমন্ত্রী কি তাদের কোনো বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন? তারা কি মন্ত্রণালয়ের কোনো বিশেষ দায়িত্ব পালন করেছেন? করলে তা কী ? জনগণ কি তা জানেন? সিরিয়াস কাজকর্ম বাদ দিন, তাদেরকে কি কোনো অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হতেও দেখা গেছে? কিছু উদ্বোধন করতে? অর্থমন্ত্রীর পাশে দেখা গেছে কোনোদিন? যেমন উপদেষ্টা হয়েও জনাব বরকতউলস্নাহ বুলুকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রায় সব বড় অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর পাশে দেখা যেতো। বুলু নিজেও নানা অনুষ্ঠানের মধ্যমনি হতেন। অর্থ প্রতিমন্ত্রীরা এই সুযোগ পাননি কেন প্রধানমন্ত্রী কি তা একবার খোঁজ নিয়েছেন?
প্রধানমন্ত্রীর পদটা অনেক বড়। আমার ধারণা, যে কোনো দেশের সবচেয়ে কঠিন কাজ এই পদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালন করা। এরচেয়ে কঠিন টাস্ক আর কোনো পদে থাকতে পারে না। সেই পদে বেগম খালেদা জিয়া গত সাড়ে চার বছর কিভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন তা দেশবাসী দেখেছেন। আজ জোট সরকারের আমলে দেশে বিভিন্ন সেক্টরে এত ব্যর্থতা, এত হতাশার জন্যে অবশ্যই সংশিস্নষ্ট মন্ত্রী ও সচিব দায়ি। কোনো মন্ত্রী বা সচিব এই ব্যর্থতার দায় এড়াতে পারবেন না। অবশ্য যেসব প্রতিমন্ত্রীরা মন্ত্রীর কাছ থেকে সাড়ে চার বছরে কোনো দায়িত্ব পাননি তাদের কথা আলাদা। কিন্তু মূল ব্যর্থতা অবশ্যই দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর। কিন্তু আমি মনে করি মন্ত্রীর চাইতেও বেশি দায়ি প্রধানমন্ত্রী নিজে। কারণ তিনি মন্ত্রীদের বস। অদৰ ও দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী ছাঁটাই করার ৰমতা তার ছিলো। তিনি সেই ৰমতা ব্যবহার করেননি। কেন করেননি তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। অদৰ ও দুর্নীতিবাজ মন্ত্রীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রী সাড়ে চার বছর কেন দুর্বল ছিলেন তাও তিনি ও তার উপদেষ্টারা ভালো বলতে পারবেন। দেশব্যাপী বিএনপির নেতা ও এমপিরা প্রধানমন্ত্রীকে এব্যাপারে কখনো প্রশ্ন করেছেন কিনা জানি না। প্রশ্ন করা উচিত ছিল। সাড়ে চার বছর পর সরকারের ভাবমূর্তি যখন মস্নান হয়ে পড়েছে তখন এমপি ও নেতারা "হায় হায়" করলে আর লাভ হবে না। সর্বনাশ যা হবার তা হয়ে গেছে। আর তা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে।
আমি অবাক হবো না, আমার এই সমালোচনার জবাবে বিএনপির কিছু নেতা হয়তো বলতে পারেন- "প্রধানমন্ত্রী অদৰ ও দুর্নীতিবাজ মন্ত্রী ও আমলাদের সরাতে পারেনি আওয়ামী লীগের বাধার কারণে।" বিএনপি তো তাদের সব ব্যর্থতার জন্যে আওয়ামী লীগকে দায়ি করে সন্তুষ্টি লাভ করে।
সামগ্রিক ব্যর্থতার জন্যে শুধু প্রধানমন্ত্রীকে দায়ি করলে অন্যায় হবে। কারণ "প্রধানমন্ত্রী" একটি পদ হলেও তাঁর পরামর্শদাতা অনেক। যেমন তিনি সবসময় বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করে কাজ করেন। এই ব্যর্থতার দায়ভার তাদের উপরই বর্তায়। অবশ্য তারা বলতে পারেন "আমাদের অনেক পরামর্শ প্রধানমন্ত্রী শোনেননি। শুনলে অবস্থা এরকম হতো না।" ব্যর্থতার অনেকটা দায়ভার নিতে হবে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিবকেও। কারণ তিনিই প্রধানমন্ত্রীর মূল উপদেষ্টা। বিদু্যৎ মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার জন্যে তো মুখ্য সচিব অনেকটাই দায়ি। কারণ গত প্রায় দেড় বছরে বিদু্যৎ মন্ত্রণালয় পরিচালিত হয়েছে মুখ্য সচিবের নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে। প্রতিমন্ত্রী যে কমিটির সদস্যও ছিলেন না। সাবেক বিদু্যৎ প্রতিমন্ত্রী জনাব ইকবাল হাসান মাহমুদ তাঁর নানা সাৰাৎকারে বিদু্যৎ বিভাগের ফাইল অনুমোদন করাতে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের যে দীর্ঘসূত্রতার কথা বলেছেন তাও উপেৰার বিষয় নয়।
প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর নিশ্চয় সব মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি মনিটরিং করার ব্যাপারে কিছুটা ভূমিকা পালন করে থাকে। জোট সরকারের নানা ব্যর্থতার মনিটরিং-এর কাজে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর যে শৈথিল্য দেখিয়েছে তা এখন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। তা না হলে সাড়ে চার বছর পর প্রধানমন্ত্রীর টনক নড়ল কেন? এখন টনক নড়লেও তো কোনো লাভ নেই।
আমাদের রাজনীতিবিদরা রাজনীতি করা (বিৰোভ, জনসভা আর হরতাল) আর দেশ পরিচালনা করাকে এক করে ফেলেছেন। রাজনীতি করা অনেক সহজ কাজ। যে কেউ করতে পারে। কোনো ডিগ্রী বা বিশেষ যোগ্যতার প্রয়োজন হয় না। অথচ একটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের জুনিয়র এক্সিকিউটিভ পদে চাকরী দিতেও আমরা এম বি এ পাশ লোক খুঁজি। তার তুলনায় মন্ত্রীত্ব বা দেশ পরিচালনা করা কতো বড় কাজ ও কঠিন কাজ তা সচেতন ব্যক্তি মাত্রই অনুভব করতে পারবেন। সেই কঠিন কাজ পরিচালনার দায়িত্ব আমরা যাদের কাছে নিশ্চিনত্দে ছেড়ে দিয়েছি (ভোটের মাধ্যমে) দেশের হাল সেরকমই হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তাঁর উপদেষ্টারা, মন্ত্রীসভা ও মুখ্য সচিব তাদের মেধা ও দৰতা সর্বাত্মকভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের এই অবস্থা করেছেন। আমরা সাধারণ মানুষরা আর কী করতে পারি। ভাগ্যের লিখন বলে এখন শুধু কপাল চাপড়াতে পারি।
[ মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর : সাংবাদিক ]

ঃঃ দৈনিক ইত্তেফাক ঃ 24.05.2006 ঃঃ
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ করে বিএনপির কুলাঙ্গাররা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১০

এক আওয়ামী ব্লগার আমাকে প্রশ্ন করছে আপনি তো বিএনপি করেন তাহলে জামাতের পক্ষে পোস্ট দেন কেন। উত্তরা এই পোস্টের শিরোনামে আছে। আমার উত্তর হচ্ছে আমি জামাতও করি না।

আমার পরিবার,আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুইশো নয় আসন নিয়েও কেন অন্যদের বাসায় যেতে হচ্ছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:০৯


নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় একধরনের উৎসবের আমেজ ছিল। স্ট্যাটাস, পোস্ট, কমেন্ট—সবখানে একই সুর। বিএনপি দুইশো নয়টা আসন পেয়েছে, জামায়াত মাত্র সাতাত্তর, দেশ এবার ঠিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামাতের নিশ্চিত ভূমিধ্বস পরাজয়ের কারন

লিখেছেন কিরকুট, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪

*** জামাত শিবিরের পচা মস্তিষ্কের কেউ এই পোষ্টে এসে ল্যাদাবেন না***


রাজনীতির ইতিহাসে কিছু পরাজয় থাকে তা কেবল নির্বাচনী ফলাফলের ভেতর সীমাবদ্ধ নয় সেগুলো হয়ে ওঠে নৈতিক রায়।

জামাতের সাম্প্রতিক নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির যারা আজ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের কথা ভাবছেন...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১০


১. শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতারা বারবার বলেছেন, জিয়াউর রহমান নাকি পাকিস্তানের চর ছিলেন, তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। এমনকি তাকে শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলেও বলতেন…
২. খালেদা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধন্যবাদ ড. ইউনূস। আপনিই দেখিয়ে দিলেন।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:২৯


মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত হাসিনা বিগত ৩টি নির্বাচন এমনভাবে করেছিল যে সেখানে কোন নাগরিককে ভোট দেওয়ার প্রয়োজন হতোনা। দিনের ভোট রাতে হয়েছে, আগের দিন হয়েছে অথবা তাহাজ্জোত পড়ে হয়েছে। এই আগের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×