সমালোচনা হলেই আইন পরিবর্তন কারাটা কোন সমাধান নয়। এতে সমালোচনা বন্ধ করা গেলেও এর কুফলটা অনেক সুদূর প্রসারী। আমাদের দেশে পাবলিক পরীক্ষাগুলোতে A+ বা GPA-5 এর শুধু ছড়াছড়ি। A+ পাওয়ার অর্থই শুধু শিক্ষার মান উন্নয়ন নয়। শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন না করে শুধু সর্বোচ্চ গ্রেড প্রাপ্ত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াটা যে চরম ক্ষতিকর আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৯০% পরীক্ষার্থী ফেল করেছে। এমনকি ইংরেজি অনুষদে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছে মাত্র ২ জন পরীক্ষার্থী! এনিয়ে চারিদিকে সমালোচনার জবাবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের যুক্তি হাস্যকর। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘আমরা চাই তাঁরা দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন। না হলে প্রয়োজনে আইন পরিবর্তন করতে হবে। তবে এটা আমরা করতে চাই না।’
আমরা এর আগেও দেখেছি সম্প্রচার নীতিমালা, আইসিটি আইন, বিচারবিভাগসহ যেকোন বিষয়ে সমালোচনা হলেই আইন পরিবর্তন করে জনসাধারণের মুখ বন্ধ করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষা নিয়েও মুখ বন্ধ করার জন্য আইন করা দেশের ভবিষ্যতের জন্যই হুমকী স্বরূপ। শিক্ষামন্ত্রী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার ধরন ত্রুটিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। আসলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নতুন কোন প্রতিষ্ঠান নয়। শুধু দেশের মধ্যে নয় উপমহাদেশের অন্যতম পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। এদের ভর্তি পরীক্ষার ধরন নিয়ে এরকম কোন অভিযোগ নাই।
বিশ্বের শীর্ষ ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেও বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় নাই। সেখানে আইন পরিবর্তন করে অযোগ্য শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা মানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মান আরও তলানিতে নিয়ে যাওয়া। শুধু ক্ষমতার প্রয়োগ করে আইন পরিবর্তন করা নিজের জন্য শু হলেও দেশের জন্য তা মারাত্মক রকমের অশুভ কাজ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




