'ক্রসফায়ার' 'বন্দুকযুদ্ধ' বলে কিছু হয় না৷ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঠান্ডা মাথায় গুলি করে মারে৷ এই কথাটি দেশের শতকরা একশ ভাগ মানুষে বুঝে ও জানে৷ তাহলে এরকম মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাটকের দরকার কি? এতে তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে একটি দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবেই চিহ্নিত করা হয়৷ জনমানুষের আস্থা শতভাগ হারিয়ে রাষ্ট্রীয় বাহিনীগুলো এখন সরকার দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীতে রূপ নিয়েছে৷ জনগণও তা বিশ্বাস করতে শুরু করেছে অনেক আগেই৷
গতরাতে ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনিকে ডিবি গুলি করে হত্যা করে ক্রসফায়ার বলে চালিয়ে দিয়েছে৷ সে গতবছর বিয়ে করেছে৷ তার স্ত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা৷ কি সান্ত্বনা আছে এই পরিস্থিতির৷ তার সন্তান জন্মের আগেই পিতাকে হারাল৷ তাও কোন দুর্ঘটনা নয়৷ সরাসরি বিনা অপরাধে খুন৷ এই সন্তান আজীবন তার পিতার হত্যাকারী ও হুকুুমদাতার প্রতি ঘৃণা প্রকাশও বদদোয়া করবে
বিনা বিচারে একজন মানুষকে যখন ক্রসফায়ার নামক সাজানো নাটকের মাধ্যমে হত্যার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় তার মনের অবস্থা কি হয়! সে নিশ্চিত মৃত্যু জেনে নিশ্চয় অনেক কাকুতি-মিনতি করে জীবন ভিক্ষা চায়৷ অথচ যে সন্ত্রাসী গুলি করতে উদ্ধত হয় সে কত বড় নির্দয়! কত বড় ঠান্ডা মাথার খুনি হলে এটা করা সম্ভব৷
তারপরও কোন প্রফেশনাল খুনিকে যদি ক্রসফায়ার নাটকের মাধ্যমে হত্যা করলেও না হয় অন্য কথা৷ শুধুমাত্র সরকারের অপকর্মের বিরোধীতা করা হয় তার জন্য এমন শাস্তি কোন বিবেকবান মানুষ মেনে নিতে পারে না৷ এর নামই কি ডিজিটাল গণতন্ত্র?
সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এরকম ঠাণ্ডা মাথার খুনি বাহিনী হিসেবে গড়ে তুললে মানুষ তার বিপদে যাবে কোথায়? এর শেষ কোথায়?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


