থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া সীমান্তের বন্দিশিবিরে পাচার বা অপহরণের শিকার হওয়া পাঁচ শতাধিক অভিবাসীকে মেরে ফেলা হয়ে থাকতে পারে। মানব পাচারকারীদের হাত থেকে বেঁচে যাওয়া একজন অভিবাসী এ কথা বলেছেন। থাইল্যান্ডের জঙ্গলে গলা-পচা ২৬টি লাশের মধ্যে ১০টি বাংলাদেশির, ১৬টি রোহিঙ্গাদের। ওই বন্দিশিবিরে দুজন জীবিত থাকাতেই হয়েছে সমস্যা। তাঁরাই জানিয়েছেন, লাশগুলোর অন্তত ১০টি বাংলাদেশি। এখন এদের পরিচয় বের করো রে, লাশ দেশে আনো রে, মিডিয়ার কাছে জবাবদিহি করতে করতে হয়রান হও রে! সেখানকার আরেকটি গণকবরে মেলে ৫০ জনের লাশ—ভাগ্যিস বলার মতো জীবিত কেউ ছিল না।
লোকজন অবৈধ পথে যেতে বাধ্য হয় যখন দেশে কর্মসংস্থানের অভাব থাকে এবং বৈধ পথে যাওয়ার সুযোগ থাকে না৷ আজ প্রায় ছয় বছর বিশ্বের প্রায় সব দেশে জনশক্তি রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ বললেই চলে৷ সরকার শুধু উন্নয়নের ফিরিস্তি গাইতে থাকে অথচ জনশক্তি রপ্তানিতে কুটনৈতিক কোন সমাধান করার সামর্থ্য নাই৷
ঝুঁকি তারা নেবে না কেন? কদিন আগেই ঢাকার কেরানীগঞ্জে এক বেকার বাবা অক্ষমতার জ্বালায় দুই বাচ্চাসহ তার পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। প্রায়ই অভাবের জ্বালায় আত্মহত্যার খবর আসে। কিংবা জয়পুরহাটে কিডনি–বেচা মানুষের কথাই ধরুন। এ রকম দুর্দশায় পতিত ব্যক্তিদের কারও কাছে বিদেশে চাকরির প্রস্তাব এলে সে তো ঝুঁকি নেবেই। অভাবের যন্ত্রণায়, গরিব শ্রেণি থেকে সচ্ছল শ্রেণিতে উত্তরণের স্বপ্নে কিংবা ধারদেনা শোধের তাড়নায় অনেকেই দালালদের হাতে দেহ–প্রাণ সঁপে দেন।
গত মাসে ভূমধ্যসাগরে ৯০০ জন যাত্রী নিয়ে শরণার্থীদের একটি জাহাজ ডুবে যায়। জীবিত উদ্ধার পায় মাত্র ২৮ জন,
যাদের একজন বাংলাদেশি। বেশির ভাগই আরব ও আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মানুষ। বাংলাদেশেও কি যুদ্ধ চলছে? কি আর বলব! কেউই যেন শোনার মত নেই? আর কাউকে শুনাতে গেলে নিজেই হয়রানির স্বীকার হতে হয়৷ এমনকি থাকে জীবনের ঝুকিও!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


