রোহিঙ্গারা যেন মানুষ নয়, তাদের পরিচয় রোহিঙ্গা৷ জন্মই তাদের আজন্ম পাপ৷ জন্মভূমিও তাদেরকে নিজের বলে স্বীকার করে না৷ তাই তারা আশ্রয়ের খোঁজে ঘুরে বেড়াতে বাধ্য৷
রোহিঙ্গারা নাহয় মানুষ নয়- রোহিঙ্গা, আজন্ম উদ্বাস্তু, নেই তাদের এ পৃথিবীতে কোন ঠিকানা, তাই বার্মা সরকার তাদের তাড়িয়ে দিচ্ছে৷তারা একটু ঠিকানার খোঁজে সাগরে ভাসছে৷ ক্রীতদাস, ভূমিদাস হয়ে হ’লেও তারা একটা ঠিকানা পেতে চায় বলেই অনন্তযাত্রা করছে৷ ক্ষেত্রবিশেষে যা অগস্ত্যযাত্রায় পরিণত হচ্ছে।
বাংলাদেশীরা! তারা নাকি একটা স্বাধীন দেশের নাগরিক? তাহ’লে তাদের অবস্থা রোহিঙ্গাদের মত হবে কেন? তারা সাগরে ভাসবে কেন? উন্নয়নের জোয়ারে সয়লাব একটা দেশ থেকে ভাগ্যান্বেষণে তারা অনন্তযাত্রা বা অগস্ত্যযাত্রা কেন করবে?
বাংলাদেশে তো মাহাথির মোহাম্মদ হওয়ার জন্য কেউ কাজ করতেছে! দেশ নাকি মালেশিয়ার মতো উন্নত হয়ে যাচ্ছে! তাহলে সেই দেশের লোকজন কেন সাগরে ভাসতে ভাসতে মালেশিয়ার দিকে যাবে? মালেশিয়ার মত আমাদের দেশে মানুষ দাসত্ব করতে না আসুক আমরা কেন অনিশ্চিত পথে মালেশিয়ার দিকে দাসত্ব করতে যাব?
আদিকালে আফ্রিকা থেকে কালোমানুষদের যেভাবে পশুর মত ধরে নিয়ে আমেরিকায় বিক্রি করা হত, তেমনি বাংলাদেশের মত একটা স্বাধীন দেশের নাগরিকদের ধরে ‘বস্তা’ হিসেবে বিক্রি করা হবে কেন? কারা এসব করছে? তাদের খুঁটির জোর কোথায়? কেন আমাদের দেশের পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড বা নৌবাহিনী হতভাগ্য বাংলাদেশীদের এ সাগরে ভাসা বা বস্তা হিসেবে বিক্রি হওয়া ঠেকাতে পারছে না? কেন এর হোতা গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে এই অমানবিক কর্মকান্ডের মূলোৎপাটন করতে পারছে না?
আমাদের আমজনতার মাথায় অসংখ্য প্রশ্ন ঘুরপাক খায়৷ কিন্তু জবাব পাই না৷ জিজ্ঞেস করার লোকও পাই না- কেননা একদল লোক উন্নয়নের সম্মোহনে ও সম্মোহনী বটিকা গেলানোতে বিভোর, আরেক দল লোক বিভিন্ন বাহিনীর পেঁদানিতে পলায়নপর।
দেশে আমাদের মত সাধারণ নাগরিকদের কথা ভাববার মত যেন কেউ নেই৷ দেশের মানুষ আজ বড় অসহায়৷
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০১৫ দুপুর ১:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



