somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অতন্দ্রিলা ও বৃষ্টি ভেজা লোনা চোখ

১১ ই মে, ২০১৪ রাত ১২:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার খুব ইচ্ছে হয় কাউকে কাঁদাবো অঝোর বৃষ্টির মধ্যে, দেখতে ইচ্ছে হয় আসএলি বৃষ্টির পানি আর চোখের জল আলাদা করা যায় কিনা। কিন্তু কাঁদানোর মত আমার কেউ নেই, তবে একদম কেউ নেই বললে অবশ্য ঠিক হবেনা। কারন আমার অতন্দ্রিলা আছে, তবে ওকে কখনো কাঁদাতে ইচ্ছে করেনা।

এই যা! আজ তো অতন্দ্রিলার সাথে দেখা করার কথা টি,এস,সি তে। তিনটা তো বাসাতেই বেজে গেলো, অতন্দ্রিলার আসার কথা ১.৩০ টায়। এত ভুলো মন আমার, আর পারিনা- উফ!!
তাড়াহুড়ো করে পাঞ্জাবী টা গায়ে দিয়ে বের হলাম বাসা থেকে। ফার্মগেট থেকে বাসে উঠবো শাহবাগ এর উদ্যেশ্যে। বাস গুলো তে এত ভিড় মনে হচ্ছে যে কোন সময় বাস উলটে যেতে পারে, তবে কিছুই করার নেই এগুলো করেই যেতে হবে। একেকটা বাস আসছে আর কত গুলো মানুষ রাস্তার উপর হুমড়ি খেয়ে পরছে আবার রাস্তা থেকে কতগুলো মানুষ লাফ দিয়ে বাসে উঠে যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার বাঁদরের মত বাসের হ্যান্ডেল ধরে ঝুলে আছে।
সবার এত তাড়াহুড়োর কারন হল আকাশে প্রচণ্ড মেঘ যে কোন সময় বৃষ্টি হতে পারে। অনেক চেষ্টা করেও কোন বাসে উঠতে না পেরে শেষমেশ হাটা দিলাম শাহবাগ এর দিকে।

আকাশে অনেক মেঘের ঘনঘটা হলেও কেন জানি মনে হচ্ছে আজ বৃষ্টি হবেনা।
“বারকিং ডগ সেলডম বাইট” এই প্রবাদের উপর ভরসা করেই হাঁটছি, আজ কুকুর নাও কামড়াতে পারে। দ্রুত পা চালানর আরেক কারন হল আজ অতন্দ্রিলার বড় ভাই এর ও আসার কথা, আমার সাথে দেখা করতে চেয়েছিলেন উনি, পরিচিত হতে চান আমার সাথে।
ইশ! ফার্স্ট ইম্প্রেশন টাই খারাপ হবে আজ, পাক্কা দুই ঘণ্টা লেট।

শাহবাগ থেকে টি,এস,সি এর দিকে যেই মাত্র পা বাড়ালাম পাশ থেকে একটা রিকশার খোঁচা লেগে পাঞ্জাবীর হাতা টা ছিঁড়ে গেলো।
থাক! রিকশাওয়ালার সাথে এখন ঝগড়া ক্রতে গেলে দেরি হয়ে যাবে, অতন্দ্রিলা অপেক্ষা করছে ওদিকে ।

টি,এস,সি তে যেয়ে দেখি বাইরের চা এর দোকানের সামনে অতন্দ্রিলা বসে আছে গালে হাত দিয়ে, ওকে সবসময় ই অসাধারন লাগে । আজ ও তার কোন ব্যাতিক্রম নেই।
অতন্দ্রিলার চোখ ছল ছল করছে; আমাকে দেখেই বলে উঠলো_
তুমি কি আমাকে আসলেই ভালোবাসো ? নাকি অভিনয় করছ? আমি কিছু বলিনা, অতন্দ্রিলার দিএক তাকিয়ে আছি, ছল ছল চোখে অতন্দ্রিলা কে দেবির মত লাগছে। আমি কখনো দেবি দেখিনি, তবে আমি জানি, দেবি ঠিক এমনই হয়।
কি কথা বলছনা কেন? ভাইয়া অনেক চিল্লাচিল্লি করে চলে গেছে। বলেছে আমি নাকি এমন ভ্যাগাবন্ড এর সাথে প্রেম করছি যার নুন্যতম সময় জ্ঞান টুকুও নেই, তার উপর ফোন ও ব্যাবহার করনা যে একটু ফোনে খোঁজ নিব। তুমি কি চাওনা আমাদের বিয়ে টা হোক? তুমি কি আমাকে সত্যিই ভালোবাসো?
আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি রাজকন্যা !!
এহ! আবার রাজকন্যা! আসছ ভাইয়ার সাথে দেখা করতে, তা আবার ছেঁড়া পাঞ্জাবী পরে। তোমাকে নিয়ে আমি কি করব?

এমন সময় বৃষ্টি শুরু হল অঝোর ধারায়। এই যাহ! কুকুর আজ কামড়েই দিলো? আমি ভাবছি আর অতন্দ্রিলা কে দেখছি_
অতন্দ্রিলা কাঁদছে...... কি আশ্চর্য ! বৃষ্টির মধ্যেও অতন্দ্রিলার প্রত্যেকটা চোখের অশ্রু আলাদা আলাদা করে বোঝা যাচ্ছে।
কি আশ্চর্য ! চোখের জল আর বৃষ্টির পানির রং তাহলে এক নয়। একদম আলাদা!
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মে, ২০১৪ রাত ১২:৫৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমিও পারি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৬



জ্ঞানী মানুষ পড়ালেখা করে বিভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে। কেউবা পড়ালেখা করে একটি ভালো জবের জন্যে, কেউবা জ্ঞান আহরণের জন্যে, আবার কেউবা করে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করার জন্যে। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ ভোজ

লিখেছেন ইসিয়াক, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৪০


গতকাল শরীরটা ভালো ছিলো না। তার জেরেই সম্ভবত ঘুম থেকে উঠতে বেশ বেলা হয়ে গেল। ঘুম ভাঙলেই আমি প্রথমে মোবাইল চেক করে দেখি কোন জরুরী কল এসেছিল কিনা। আজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেরার ট্রেন

লিখেছেন Sujon Mahmud, ৩০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:১২


ঈদের ছুটিটা যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেল। বারোটা দিন—ক্যালেন্ডারের হিসেবে ছোট, কিন্তু হৃদয়ের হিসেবে এক বিশাল পৃথিবী। সেই পৃথিবীতে ছিল হাসি, ছিল কান্না, ছিল ঘরের গন্ধ, ছিল প্রিয় মানুষের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক: একটি প্রগতিশীল (?) অগ্রযাত্রা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:০৮


আমি আসলে জন্মগতভাবেই খুব আশাবাদী মানুষ। সত্যি বলছি। ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখে যখন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নতুন নীতিমালা জারি করল, আমি মনে মনে বললাম , অবশেষে কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×