somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“হাবুরা যখন বাবু”

২২ শে জুলাই, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

“হাবুরা যখন বাবু”
ইকবাল ইবনে মালেক

আমরা কেমন আছি তা অনুধাবন করাটা বড়ই কষ্টসাধ্য। দেশে কিংবা সীমানার বাহিরে সব পরিস্থিতিতে জীবন এখন ত্রাহি ত্রাহি। নানান দ্বন্দ সংঘাত বিশ্রঙ্খলা ও অরাজগতার মধ্যে প্রতিনিয়ত জীবনে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবুও নানান অনিয়ম ও অসঙ্গতির মধ্যে বেঁচে আছি তাও আবার কম কিসের! জীবনে একটা দিন পাওয়া অর্থাৎ বড়ই প্রাপ্য। তা এখন আমরা এর গুরুত্ব সহজেই অনুমেয় করতে পারি।

আমাদের চারপাশের পরিবেশে যে পরিস্থিতির আলোকে আমরা জীবনের নিঃশ্বাস নিচ্ছি তা ভাষান্তর করা অনেকের পক্ষে দুঃসাধ্য। এখনাকার সময় সত্য কথা বলা, সত্যবাদী হওয়া এবং অকপটে সত্য জানান দেওয়া হচ্ছে খাল কেটে কুমির আনা। তাই বলা যায় বক্রাকার চক্রে জীবন আজ বড়ই অসহায়। আজ বারংবার মনে হচ্ছে অনিয়মটা নিয়ম, অসঙ্গতিটা সঙ্গতিপূর্ণ, অনাচারটাও শ্রীরুচি। আমরা অনাসায়ে অসাধু পন্থায় সুখ খুঁজে বেড়াচ্ছি। তাই আমারদের জীবনের তরী কোথায় গিয়ে ভিড় করছে তা আমাদের প্রত্যেকের অজানা। অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে উদ্দেশ্যহীন জীবনের যাত্রায় কালের গর্বে হারিয়ে যাচ্ছে ব্যাক্তি, পরিবার, সমাজ ও পুরো রাষ্ট্র। তাই আমাদের বিশ্বাসের জায়গাটা অতি সংকীর্ণ। কেউ কারো প্রতি আস্থা রাখতে পারছি না। যার প্রেক্ষিতে বল প্রয়োগের আদলে টিকে থাকার প্রচেষ্টা। এই অস্থিত্ব রক্ষায় জীবন মরণ যুদ্ধ চলছে। বিপন্ন জীবনে সংঘাত অনিবার্য। এই সংঘাতের কারন অদক্ষ, অযোগ্য লোকগুলো আমাদের দক্ষ ও বিজ্ঞ জায়গাগুলো দখল করে আছে। এক কথায় বলা যায় দুর্বল লোকের নেতৃত্বের কুফল আমাদের জীবনে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে। এজন্য খুন, গুম, রাহাজানি, হানাহানি, ধর্ষন, দূর্নীতি সর্বত্র ক্রমশ বেড়ে চলেছে। মায়া-মমতা প্রেম-প্রীতি এগুলো এখন মুখের বুলি ছাড়া অন্য কিছু নয়। আর আদর্শের কথা নতুন করে বলার অপেক্ষা থাকে না। আদর্শ এখন সমাজের চোরাবালির মতো লুকোচুরি খেলে। আদর্শের দোহাই দিয়ে সমাজে অহরহ অপকর্ম ঘটে। আজ আদর্শের বেড়াজালে নির্বাক জাতি, হতভম্ব জনগন, লজ্জিত স্বদেশ।

পাঠক যে উদ্দেশ্যে নিয়ে লেখা তা একটু খোলাশা করি। সমাজের কিছু লোকের নেতৃত্ব আমাদেরকে পীড়াদায়ক করে তোলে। কেননা যাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুনাবলী কিছু অবশিষ্ট নেই তারাই আজ আমাদের অভিভাবক। এই যেন অন্ধের হাতে আগুনের মশাল দিয়ে গ্রাম রক্ষা ব্যবস্থা। যাই হোক গ্রামে আগের মত তেমন একটা যাওয়া হয় না। তাই সচারাচর অনেক কিছু স্বচক্ষে দেখা হয় না। তবে হৃদয়ঙ্গম থেকে উপলব্ধি করতে পারি আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহ গুলি। যা আমাদেরকে প্রতিনিয়ত বিবেকে তাড়া দেয়।

গত ঈদে গ্রামের মেঠো পথ ধরে ছায়ানিবিড় পথে হাঠতেছিলাম। কিন্তু পথের মধ্যে একজন লোককে ঘিরে মানুষের ভিড়। উপস্থিত একজনকে জিজ্ঞাসা করলাম, এইখান কি হচ্ছে? তার সোজাচ্যাপ্টা উত্তর বাবু বাই এসেছে তাই ভিড় হওয়াটা স্বাভাবিক। ভিড়ের মধ্যে লোকটিকে চিনতে আমি ভিড় ঠেলে উকি দিয়ে দেখলাম এটা আমার চিনা জানা লোকটি। আজকে তিনি দানবীর হয়ে গেছেন। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি বাবু ভাই দানবীর নয় একজন রাজনীতিবিদ। কয়েক বছর যাবত বাবু ভাই ক্ষমতার দাপট সর্বত্র ছাড়িয়ে গেছে। ইতিমধ্যে তিনি রাজনীতির কেন্দ্রবৃন্তে একজন বিজ্ঞ রাজমানব। তাই আজ তার কদর উপরের মহলে।

আমার জানামতে বাবু ভাই আমাদের সমাজের লোক না। তিনি বাহির থেকে এসে আমাদের এখানে বসতি স্থাপন করেছেন। আর তাকে আমরা বাবু নয় বেশি জোড় হাবু হিসেবে ছিনতাম। পূর্বেকার রাজনীতির সাথে কোন সম্পর্ক ছিল না। অর্থকড়ি তেমন উল্লেখযোগ্য ছিল না। সমাজের নানান অপকর্মের প্রতিবাদের সময় তিনি নীরব দর্শক ছিলেন। আর সকল চুরি বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন বটে। তিনি বিনে পয়সায় সর্বাদা মানুষদেরকে কুবুদ্ধি দিতেন। কিন্তু আজ তিনি মহা রাজনীতিবিদ অঘাত সম্পত্তির উত্তরাধিকারী। তার নেতৃত্বে অগণিত অসংখ্য তরুণ। বিশেষ করে কলেজ পড়ুয়া ছাত্র। যারা বাবু ভাইয়ের আদলে বেড়ে উঠেছে এবং বাবু ভাইয়ের আদেশে জীবন বলি দিতে প্রস্তুত, এ তরুণরা বাবু ভাইয়ের অবস্থান জানান দিতে সন্ধ্যার অন্ধকারে বাবু ভাই নামে মিছিল বাহির করে। ন্যায় অন্যায় তারতম্য না করে দিনের পর দিন তারা বাবু ভাইয়ের ইচ্ছে পূরণ করে যাচ্ছে। আমাদের সমাজে এই সমস্ত হাবুরা বাবু সেজে অশনি সংকেত দিচ্ছে। তারা শুধু ক্ষমতাকে পুঁজি করে দল, জাতি ও দেশের সর্বনাশ করে যাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য দেশের সেবা নয় শুধু ক্ষমতা পুষ্ট হওয়া। তাই এ সমস্ত হাবু বাবুরা পরিত্যাগযোগ্য............
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জুলাই, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×