somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোম্পানীগঞ্জের সেই খোকনই আজকের ওবায়দুল কাদের

২৫ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের ছোট্ট খোকনই আজকের ওবায়দুল কাদের। যিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের দক্ষিনাঞ্চলের জেলা নোয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা কোম্পানীগঞ্জের বড়ো রাজাপুর গ্রামে ০১ জানুয়ারী ১৯৫২ সালে জন্মগ্রহণ করা ওবায়দুল কাদেরের ডাকনাম খোকন। তাঁর পিতা প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়ন করেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন সহপাঠী ছিলেন। সিভিল সার্ভিস পেশা ছেড়ে তার পিতা উন্নত চরিত্রের শিক্ষকতা পেশার সঙ্গে নিজেকে জড়িত করেন। তাঁর মা ফজিলাতুন্নেছা একজন সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান।

ছাত্র জীবনে মেধাবী ছাত্র ওবায়দুল কাদের বসুরহাট সরকারি এএইচসি উচ্চ বিদ্যালয় (বসুরহাট হাইস্কুল) থেকে প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিক পাশ করেন।তিনি নোয়াখালী সরকারি কলেজ থেকে মেধা তালিকায় এইচএসসি পাশ করেন। পরে তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তার স্ত্রী ইছরাতুন্নেছা কাদের একজন বিশিষ্ট আইনজীবী।

একজন স্বপ্নিক ও আদর্শবান হিসাবে ওবায়দুল কাদের একজন দীর্ঘ এবং সমৃদ্ধ রাজনৈতিক জীবনের অধিকারি। তিনি উদার, বিচক্ষণ এবং নিবেদিত রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সর্বত্র খ্যাতি অর্জন করেছেন এবং তিনি ছাত্র জীবন থেকেই সবসময় পরিবর্তনশীল রাজনীতিতে বিশ্বাসী একজন মানুষ।

তিনি কলেজ জীবন থেকে ছাত্র রাজনীতি শুরু করেন। ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালে গণআন্দোলন ও ছাত্রদের ১১ দফা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন এবং কোম্পানীগঞ্জ থানা মুজিব বাহিনীর(বিএলএফ) অধিনায়ক ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার কারা বরণ করেন। ১৯৭৫ এর পর এক নাগাড়ে দীর্ঘ আড়াই বছর কারাগারে ছিলেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন এবং পরপর দুইবার ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা রৌপ্য জয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য-সচিব ছিলেন। বাংলা বছর ১৪০০ সাল উদযাপন গঠিত নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন।

ওবায়দুল কাদের বিগত ১২ জুন ’৯৬-এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নোয়াখালী-৫ আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২৩ জুন ’৯৬ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং একই দিনে যুব ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। তিনি ২০০১ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সৎ ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেন।

২০০২ সালের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন থেকে ২০০৯-এর সম্মেলন পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রথম যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন। ১/১১ পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে তিনি ২০০৭ সালের ৯ মার্চ জরুরি বিধিতে গ্রেফতার হয়ে ১৭ মাস ২৬ দিন কারাবরণ করেন। ২০০৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্ত হন। কারাগারে থাকাকালে কারাজীবনের বর্ণনা দিয়ে “অনুস্মৃতি : যে কথা বলা হয়নি” লেখেন।

তিনি ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর পুনরায় দ্বিতীয়বারের মত নোয়াখালী-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তিনি দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১১ সালের ২৮ নভেম্বর বঙ্গভবনে মহাজোট সরকারের মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী । এছাড়া তিনি কিছুদিনের জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন।

ওবায়দুল কাদের একজন সাংবাদিক ও লেখক হিসেবে বেশ পরিচিত। তিনি দীর্ঘ সময় দৈনিক বাংলার বাণীর সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া তাঁর লেখা নয়টি বই বাজারে বেশ আলোচিত হয়েছে। যেমন, Bangladesh : A revolution Betrayed (আমেরিকায় পাবলিশার্স, কলকাতা দ্বারা ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত); বাংলাদেশের হৃদয় হতে,; পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধু; এই বিজয়ের মুকুট কোথায়; তিন সমুদ্রের দেশে; মেঘে মেঘে অনেক বেলা; রচনা সমগ্র; কারাগারে লেখা অনুস্মৃতি : যে কথা বলা হয়নি ইত্যাদি।

ওবায়দুল কাদের সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন।


লেখক: ইকবাল হোসেন মজনু
সম্পাদক, ডিজিটাল নোয়াখালী ডটকম
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ২:১২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×