somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্রান্তিকালে মনুষ্যত্বের রক্তপাত

৩১ শে মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(প্রতীক বর্ধন)
প্রথম আলো
ছেলেটি মেয়েটিকে বিয়ে করতে রাজি হয়নি। একপর্যায়ে মেয়েটি আবিষ্কার করল, ছেলেটি আরও কয়েকজন মেয়ের সঙ্গেও প্রেম করত, তাদের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কও গড়ে তুলেছিল, যার ভিডিও রেকর্ড ছেলেটির ল্যাপটপে খুঁজে পায় সে, তার নিজেরটাসহ। এই প্রতারণা সহ্য করতে না পেরে মেয়েটি শুধু ছেলেটিকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, তার বুক চিরে হৃৎপিণ্ড বের করে আনে সে, দেখতে চেয়েছিল, ছেলেটির হৃদয় কত বড়! একবার ভাবুন পাঠক, আমরা কোথায় চলে গেছি। ২০১৪ সালে খুলনায় ঘটেছিল এটি। মেয়েটি আদালতের কাছে সব স্বীকারও করেছে। এতে সম্প্রতি তার ফাঁসির আদেশ হয়েছে। দেশের সংবাদমাধমে এ খবর প্রকাশিত হয়।প্রেমের সম্পর্ক এখন যেন ডালভাতে পরিণত হয়েছে। চলচ্চিত্র ও গণমাধ্যমেও ব্যাপারটা কমবেশি সেভাবেই উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর সঙ্গে হৃদয়বৃত্তি ও বুদ্ধিবৃত্তির ব্যাপার আর আছে বলে মনে হয় না। পুরোটাই যেন এক বিকৃত মজা নেওয়ার ব্যাপার। সে কারণেই যখন-তখন এই সম্পর্ক ভাঙতে-গড়তে অসুবিধা হচ্ছে না। তবে সবাই যে আবার সেটা মেনে নিতে পারে, তাও নয়। এ ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঠিক তা-ই হয়েছে। মেয়েটি এই প্রতারণা মানতে পারেনি, আবার তা হজমও করতে পারেনি। ফলে সে এমন বীভৎসভাবে প্রতিশোধ নেয়।
সভ্যতার কিছু রীতিনীতি ও মানদণ্ড আছে, একটি আধুনিক সমাজের মানুষকে তা মেনে চলতে হয়। তা না হলে সমাজে নৈরাজ্য দেখা দেয়। আমরা স্বাধীন, কিন্তু স্বাধীনতার মানে এই নয় যে আমরা যা খুশি তা-ই করতে পারি। বরং উল্টো। স্বাধীন হতে হলে মানুষকে আরও দায়িত্বশীল হতে হয়। সেটা যেমন আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের বেলায় সত্য, তেমনি ব্যক্তিগত সম্পর্কের বেলায়ও।
এই শিক্ষা লাভ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হচ্ছে পরিবার, তারপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যেখানে মানুষ একধরনের বন্ধনে আবদ্ধ থাকে। সম্প্রতি কিশোরী মেয়ে ঐশীর হাতে তার মা-বাবার খুনের মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, আমাদের এই বন্ধন আলগা হয়ে গেছে। আবার যে মা এত কষ্ট করে সন্তান লালন-পালন করেন, সেই মা-ও নিজ হাতে সন্তানকে হত্যা করছেন। সবকিছু যেন ভেঙে পড়ছে।
এটা আসলে মূল্যবোধের ব্যাপার। যেটা একসময় আসত ধর্ম থেকে, তার সঙ্গে সমাজ ও পরিবার তো ছিলই। মানুষ এখন ধর্ম পালনের ব্যাপারে আগ্রহী হলেও তার নীতি-নৈতিকতা মানছে না। অন্যদিকে নগরায়ণের কারণে মানুষ একা হয়ে পড়ছে, পরিবার ভেঙে যাচ্ছে, আবার মানুষ সেই একাকিত্ব নিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। ফলে সে উভয় সংকটে পড়েছে। এটা এক ক্রান্তিকাল। আমাদের পরিবারগুলো আর কিছুর দিকে না তাকিয়ে সন্তানদের আত্মপ্রতিষ্ঠার শিক্ষা দিচ্ছে, যেটা আবার বুমেরাং হয়ে পরিবারেই ফিরে আসছে। অর্থাৎ সন্তান আত্মপ্রতিষ্ঠার মোহে মা-বাবার খোঁজ নিচ্ছে না। বাবার চেয়ে বাবার সম্পদই যেন সন্তানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এই আত্মকেন্দ্রিকতার নানা রূপ দেখা যায়, তার জন্য যেমন নিজের মা-বাবাকে মানুষ ভুলে যায়, তেমনি প্রেমিকা ও সন্তানও তার কাছে তুচ্ছ হয়ে যায়। সে কারণেই পশ্চিমে মা-বাবা দিবস পালন শুরু হয়েছে, কারণ বছরের ওই একটি দিনই সন্তান মা-বাবার সঙ্গে দেখা করতে আসে। বছরের বাকি দিনগুলো বুড়ো-বুড়ি একাই থাকেন। সেখানে তুষারপাতের সময় কোনো নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা একা মরে পড়ে থাকলেও তাঁর খোঁজ নেওয়ার কেউ থাকে না, দুই-তিন দিন পর পৌরসভার লোক এসে হয়তো তাঁদের মৃতদেহ উদ্ধার করে।
সম্পর্ক আসলে লালন করার ব্যাপার, তার মধ্যে যেমন ভালোবাসা থাকে, তেমনি থাকে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধ। প্রেমিক-প্রেমিকা বা মা-বাবা-সন্তানের সম্পর্ক থেকে শুরু করে সব সম্পর্কের ক্ষেত্রেই এ কথা খাটে। এটাই সেই মূল্যবোধ। সেই ব্যাপারটা হারিয়ে যাচ্ছে, যার অভিঘাত পড়ছে ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর। ব্যক্তি বা পরিবার—কেউই তাকে কাউন্সেলিং করছে না। ফলে সে হারাচ্ছে মানসিক ভারসাম্য, হয়ে উঠছে বিকৃত; যার রূপ আমরা দেখি এই রক্তপাতের মধ্য দিয়ে।
সূত্র ঃ প্রথম আলো
http://www.prothom-alo.com/opinion/article/815620/
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:২৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×