somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একেই বলে তওবা

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ বিকাল ৫:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আদম সন্তান বলতেই পাপী-গুণাহগার। পাপ করেনি এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া দুস্কর। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জন্য জান্নাত তৈরী করেছেন। তাই বলে পাপ নিয়ে তো আর জান্নাতে যাওয়া যায়না। আর এ জন্যই ইসলাম পাপী বান্দার পাপ মোচন করার জন্য নানা রকম ব্যবস্থা করেছে। পাপ থেকে পবিত্র হওয়ার একমাত্র উপায় খাঁটি তওবা। নিজেকে পাপমুক্ত করতে আদম সন্তানের অনেকেই তওবা করে থাকে। কিন্তু কজন সত্যিকার তওবার উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম? শুধু মুখে ‘আসতাগফিরুল্লাহ’ বললেই তওবা হয়না। রয়েছে এর জন্য কতিপয় শর্ত ও বিধি-বিধান। গুণাহ পরিত্যাগ করে অন্তরে ব্যথা জাগিয়ে হায় আফসোস বলে ও অনুতপ্ত হয়ে ভবিষ্যতে উক্ত পাপে জড়িত না হওয়ার দৃঢ় সংকল্পই হলো প্রকৃত তওবা। কিন্তু এমন তওবা কয়জনের ভাগ্যে জোটে? তাইতো আমি তুলে ধরব নবী যুগের এমন একজন ভাগ্যবতী মহিয়সীর জীবন্ত কাহিনী, যিনি তওবা করতে গিয়ে সামাজিক তিরস্কারের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে দুনিয়া ছেড়ে চলে গিয়েছেন আখেরাত পানে, রেখে গেছেন সারা দুনিয়ার মানুষের জন্য তওবার বেনজির উপমা, কাঁদিয়ে গেছেন হাজারো মা-বোনকে, প্রকম্পিত করেছেন লাখো মানুষের হৃদয়কে, স্থাপন করেছেন সত্য সঠিক তওবার চুড়ান্ত দৃষ্টান্ত, রচনা করেছেন সেচ্ছায় জীবন উৎসর্গের একটি বিস্ময়কর কাহিনী। চলুন আমরা এক পলক দৃষ্টি দেই উক্ত নারীর তওবার কাহিনীর দিকে...

নবী যুগে গামেদি গোত্রের জনৈক মহিলা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিলেন, হ্যাঁ তিনি অবশ্যই ভুল করেছেন। ক্ষণিকের তরে আল্লাহর স্বরণ থেকে গাফেল হয়েছেন। কিন্তু পরক্ষণেই ঈমানি শক্তি ও আল্লাহ ভীরুতা তার অন্তরে দাউ দাউ করে অগ্নি প্রজ্জলিত করে দেয়। অস্থির হয়ে গেলেন। কি করা যায় ভেবে পাচ্ছেননা।

হায়! সদা সজাগ প্রভুর নাফরমানি করে বসলাম। কোন মুখে আমি তার সাথে সাক্ষাত করব? অথচ তিনি আমাকে নিষেধ করেছিলেন।

আর তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়োনা, এটা খুবই অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পন্থা। (সূরা বনী ইসরাঈল : ৩২)

গুণাহের উত্তাপ তার অন্তর পুড়ে ছাই করে দিল। কবীরা গুণাহের বোঝা পাহাড় সম মনে হল। অশ্লীলতার ঘৃণা তার অন্তরে আগুন জ^ালিয়ে দিল। ফলে তিনি শুধু গোপন তওবাতে তৃপ্তি পেলেন না। বললেন, আমি সীমা লঙ্ঘন করেছি। অতএব, হে নবী, আপনি শাস্তি দিয়ে আমাকে পবিত্র করুন।

একি আশ্চর্য! তিনি বিবাহিতা, ভাল করে জানতেন পাথর নিক্ষেপ করে মেরে ফেলাই হবে তার একমাত্র শাস্তি। প্রিয় নবী ডানে বামে মুখ ফিরিয়ে তাকে দূর করে দিতে চাইলেন। কিন্তু পারলেন না। পরদিন এলেন, তার কাজের উপর প্রমাণ পেশ করার জন্য।

হে নবী! কেন আপনি আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন ? তাহলে কি আপনি আমাকে মায়েজ রা. এর মত ফিরিয়ে দিতে চাচ্ছেন? আল্লাহর কসম, আমি ব্যভিচারের কারণে বর্তমানে গর্ভবতী। এবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যাও সন্তান প্রসব হওয়ার পরে এসো। মাসের পর মাস অতিক্রম করছে। কিন্তু তার অন্তরের আগুন প্রসমিত হচ্ছে না। প্রসবের পর শিশুটিকে কাপড়ে জড়িয়ে উপস্থিত করলেন; এই আমি প্রসব করেছি। এবার তো শাস্তি প্রয়োগ করতে পারেন। এ কেমন পরিস্থিতি! এ কেমন অবস্থা ! দয়ার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যাও দুধ ছাড়ানোর পর এসো। এক বছর, দুই বছর। কিন্তু তার ইচ্ছার পরিবর্তন হচ্ছে না। দুধ ছাড়ানো হলে প্রমাণ স্বরূপ বাচ্চার হাতে একটি রুটির টুকরা দিয়ে সে অবস্থায় নবীজীর দরবারে উপস্থিত হলেন। বললেন এই আমি বাচ্চাটির দুধ ছাড়িয়েছি। খানা খাওয়া তার উজ্জল প্রমাণ। এখন তো আপনি আমাকে পবিত্র করতে পারেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশে বাচ্চাটিকে অপর এক মুসলমানের হাওলা করা হলো। আদেশ করা হলে তার বুক পর্যন্ত গর্ত করা হলো। উপস্থিত লোকজনকে পাথর নিক্ষেপের আদেশ করা হলো। এদিকে সাহাবি খালেদ ইবনে অলিদ রা. একটি পাথর নিয়ে অগ্রসর হলেন। মহিলার মাথায় নিক্ষেপ করলে রক্ত ছিটকে এসে খাললেদের মুখে পড়ল। খালেদ রা. তাকে গালি দিলেন। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গালি শুনে বললেন,

مهلا يا خالد، والذي نفسي بيده، لقد تابت توبة لو قسمت بين سبعين لكفتهم.

‘‘হে খালেদ তুমি থাম। যে সত্তার হাতে আমার জীবন তাঁর কসম করে বলছি, এ মহিলা এমন তওবা করেছে, যদি তা সত্তর জন মানুষের মাঝে বন্টন করা হয়, তাহলে তাদের নাজাতের জন্য যথেষ্ট হবে।’’

অতঃপর আদেশ মোতাবেক গোসল দিয়ে কাফন পরানো হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই তার জানাযা পড়ালেন। পরে দাফন করা হলো। আমরা কি তার অবস্থা দেখে আশ্চর্য হইনা? দু’বছর পরও পাপের উত্তাপ তাকে দংশন করে যাচ্ছে, আত্মা জালিয়ে দিচ্ছে, অন্তরকে ব্যথা দিচ্ছে। তার জন্য সুসংবাদ। একেই বলা হয় আল্লাহ ভীতি।

এই ঘটনা শিক্ষা দিচ্ছে আমাদের যে কারো থেকে গুণাহ সংঘটিত হওয়া সম্ভব। তবে সেই উত্তম গুণাহগার যে তওবা করে। আর তওবা হওয়া চাই খাটি অন্তরে। হে আল্লাহ আপনি আমাদেরকে তওবাকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন। আর পাপ রাশিকে পুণ্যে পরিণত করুন। আমিন!


লেখক : আবুল কালাম আযাদ আনোয়ার

সম্পাদনা : সানাউল্লাহ নজির আহমদ

সমাপ্ত





০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা: আমরা সবাই ইনসাফের লোক—যতক্ষণ না নিজের স্বার্থ ছাড়ার প্রশ্ন আসে!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

একজন মানুষ অসুস্থ বোধ করছেন। ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে কাতর কণ্ঠে বলছেন, একটু বসতে দেবেন? শরীরটা ভালো লাগছে না। আশপাশে মানুষ আছে, আসন আছে, চলমান ট্রেন আছে—শুধু তাঁর জন্য একটু জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×