somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

''মেঘ-বৃষ্টির কোলাহল ২''

২০ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মেঘ-
বৃষ্টি, মনে আছে তোর আর আমার প্রথম পরিচয়ের কথা?
বৃষ্টি-
হুম মনে আছে। মনে থাকবেনা কেন? স্মৃতি কি কখনো মন থেকে মুছে যায় নাকি? মনে আছে তুই ঘুম থেকে উঠেই আমার সাথে কথা না বলে অফিসে যেতি না। বলতি নারে বৃষ্টি তোর সাথে কথা না বলে গেলে আমার অফিসের কোন কাজে মন বসে না। আর প্রতিদিন আমার পছন্দের একটা গান পাঠিয়ে যেতি। না শুনলে শূন্যতা বুকে নিয়ে বলতি ঠিক আছে সময় করে শুনে নিস। বড্ড পাগল ছিলি তুই।
মেঘ-
তাই নাকি? কেন? কার জন্য,কিসের জন্য করেছিলাম? তুই বুঝলিনা। কি বোকা মেয়ে ছিলে। নাকি না বুঝার ভান করতে?
বৃষ্টি-
ইস তুই কত গল্প কবিতা লিখতি আমার জন্য। মনে আছে একদিন একটা কবিতার কথা। তুই কবিতা বললি....

আমার ছায়াতে তোমার হাসিতে মিলিত ছবি
তাই নিয়ে আজি পরানে আমার মেতেছে কবি।
পদে পদে তব আলোর ঝলকে
ভাষা আনে প্রাণে পলকে পলকে
মোর বাণীরূপ দেখিলাম আজি...নির্ঝরিনী..
তোমার প্রবাহে মনেরে জাগায় নিজেরে চিনি!!

বলার পরে আমি ওয়াও!! অনেক সুন্দর। অনেক সুন্দর বলেছিলাম।
মেঘ-
আর আমি হাসতে হাসতে শেষ। আমার হাসি দেখে তোর আরও রাগ। বাপরে!! হা হা হা মনে থাকবেনা কেন? সব মনে আছে। এই তো সে দিনের কথা। আমি হাসি থামিয়ে বললাম এটা আমার কবিতা না। এটা শুনে তুই আরও বেশি রেগে গেলি। কারণ তুই বলেছিলি তোর জন্য লিখা যেগুলো কবিতা সেগুলো যেন আমি তুকে শুনাই। অভিমানী মন নিয়ে চলে গেলি। আমার কোন কথাই আর শুনলিনা।
বৃষ্টি-
তবে জানিস তোর কন্ঠে যেকোন কবিতাই শুনিনা কেন আমার কেন যেন এক ভালোলাগার অনুভূতি কাজ করতো। কবি নিবারণ চক্রবর্তীর কবিতাও অনেক ভালো লাগলো।
মেঘ-
তোর অভিমানী ভালোলাগাইতো আমাকে এমন ভাবে হারিয়ে নিয়েছিলো আকাশ ছুঁতে।
বৃষ্টি-
নাহ আমি তো তোকে কখনও বলিনি। আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন দেখাইনি। তুইতো ভুল করেছিলি।
মেঘ-
আমিতো বুঝেছিলাম আমার শব্দগুলো তোকে বুঝিয়ে দিবে না-বলা কথাগুলো। সুরগুলো তুকে ধন্য করে তোর মনের বাগানে ফুল ফুটাবে। তুই বলিসনি কিন্ত তোর আচরণ তোর পাগলামী আমাকে কিভাবে যে জড়িয়ে নিয়েছিল আমি বুঝতেই পারিনি।
বৃষ্টি-
যেই বললাম আমার ভালোবাসার কথা ভালোবাসার প্রদীপের কথা
সেই সময়ই তোর সমস্ত কবিতাগুলো ছন্নছাড়া হয়ে গেল।
মেঘ-
হবেনা...!! আমার কবিতার স্বপ্ন দেখিয়েছিল কে? ভাল করে বাঁচার পথ কে দেখিয়েছিল? না জানা কথাগুলো কে জানিয়েছিল? বলতে পারিস? সেই তুই?
বৃষ্টি-
আমার সাজানো সংসারের কথা শুনার পর থেকে তুই আমার সাথে কথা বলা একরকম বন্ধই করে দিলি। আমি বললাম শুন এমন পাগলামী করিস না।
মেঘ-
আমিতো তোকে নিয়ে একটা রাজ্য গড়েছিলাম। সে রাজ্যে শুধু তুই,আমি আর আমাদের ভালোবাসা। জন্ম দুঃখীনি মাকে তোর কথা সব বলেছিলাম আর বলেছিলাম মা দেখো তোমার দুষ্টু ছেলে এবার সত্যি সত্যি ভালো হয়ে যাবে আর ছেলের জন্য তোমার এতো কষ্ট করতে হবেনা। মা কত্ত খুশি। তোকে দেখার জন্য অস্থির। আমি বললাম মা আমিতো এখনও দেখিনি তোমায় কি করে দেখাবো? শুধু ফেবুর অনলাইনে কথা হয় আর মোবাইলে। দেখা হয়নি কখনো, এমন কি একটা ছবিও দেখিনি। তবে না দেখা হলে কি হবে হৃদয়ের ক্যানভাসে কী সুন্দর করে এঁকে রেখেছি। সেটাতো তুমি দেখতে পারবানা। মা হেসে বলে পাগল ছেলে আমার!! আজকালের ছেলে-মেয়েদের মতি গতি বুঝিনারে।
বৃষ্টি-
তুই অনেক কষ্ট পেয়ে আবার খানিকটা আগের মতো হয়ে গেলি। আমি বললাম ভালোবাসা নাই বা হলাম ভালো বন্ধুতো হতে পারি?
কি বলিস?
মেঘ-
আমাকে সময় দিতে হবে। নিজেকে একটু সামলে নেই। মনের উপর যে দহন গেছে একটু শান্ত করে নেই।
বৃষ্টি-
ওকে সময় নিবি ভালো কথা সমস্যা নেই কিন্তু এমন কিছু করবিনা যেটার কারনে তোর আগামীর কোন সমস্যা হয়। অনেক কিছু বুঝিয়েছি বিশেষ করে তোর মায়ের কথা। মায়ের কথা বলার পর একটু শান্ত হলি। তুই যখন তোর মায়ের কথা বলতি তখন আমার অনেক ভালো লাগতো। অনেক ভালোবাসিস তুই তোর মাকে।
মেঘ-
হুম আমার মা আমার পৃথিবী।

মেঘ-বৃষ্টি হয়ে গেলো মেইল বন্ধু । ওরা সময় পেলেই মন খুলে আড্ডা দেয় সেটা হয়তোবা কবিতার ছন্দে ছন্দে না-হয় গানে গানে।
আজ ক'দিন থেকে বৃষ্টি মেঘের কোন খবর পাচ্ছেনা। কি হল মেঘের। মেঘ কোন মেঘমালায় হারিয়ে গেল। এমন তো কখনো হয়না। কোথায়ও যাবার আগে অন্তত পক্ষে একটা মেইল দিয়ে যায়। কোন মেইলও দিচ্ছেনা ফোনও করেনি। বৃষ্টি একটার পর একটা মেইল দিচ্ছে কল দিচ্ছে কোন রিপ্লাই দিচ্ছেনা। কারণ কি?

বৃষ্টি চিন্তায় পরে গেল...........

Click This Link

সর্বশেষ এডিট : ২০ শে এপ্রিল, ২০১২ রাত ১:৩৯
৪২টি মন্তব্য ৪২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাজাকার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



'এই জল ভালো লাগে; বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে দিয়েছে চুল-চোখের উপরে
তার শান-স্নিগ্ধ হাত রেখে কত খেলিয়াছে, আবেগের ভরে
ঠোঁটে এসে চুমো দিয়ে চলে গেছে কুমারীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×