জীবনে অনেক দুঃখ কষ্টের মাঝেও আমাকে কেও কাঁদাতে পারে নাই। কিন্তু আজকে মাজেদা বিবির কাছে আমাকে হারতে হয়েছে। আমাকে ঝরঝর করে সে চোখের পানি ফেলতে বাধ্য করেছে। অনেক চেষ্টা করেও পারিনি আমার এতদিনের রেকর্ড কে রক্ষা করতে। চোখ দিয়ে শেষমেশ পানি পড়লোই।
১১ নম্বর বাজারের ঢালের পাড়ে এই মাজেদা বিবির ষ্টল। পিঠার ষ্টল। চিতই পিঠা আর সাথে ৩২ রকমের ভর্তা টাইপ চাটনি। মুখে দেবার সাথে সাথে মনে হইছিলো বাসা থেকে একটা ফায়ার এক্সটিঙ্গুইশার নিয়ে আসলে ভালো হয়ত। ঝালের চোটে চোখ দিয়ে আমার ঝরঝর করে পানি পরে আর মাজেদা বিবি হিহি করে হাসে। আমার অবস্থা দেখে অবশেষে মাজেদা বিবির দিলে একটু রহম হইলো এবং আমাকে সে বললো যে ঝাল সারানোর ঔষধ নাকি তার কাছে আছে। কি একটা আজব টাইপ এর একটা চাটনি দিলো , খেয়ে দেখি একটু কম ঝাল ওয়ালা শুঁটকি মাছের ভর্তা। ক্যামন লাগে তখন ?
আসলে মাজেদা বিবির পিঠার ষ্টল আমার মতো মানুষের জন্য না। আসলে কোনো পুরুষ মানুষের জন্য না। এইটা একটা পিওর মেয়ে লোকের খাওয়া। আমার বন্ধু রুবেল এর জেন্ডার নিয়ে আজকে আমার মনে প্রশ্নর জন্ম দিয়েছে। যেই ভাবে পাল্লা দিয়ে বাকি মেয়েদের সাথে একের পর এক পিঠা চালান করছিলো তাতে ঐ ছাড়া আর কি ভাববো।
স্বাদের কথা বললে , ঝাল টুকু বাদ দিলে সবারই ভালো লাগবে বলে আমার মনে হইলো। ভাপা পিঠটা ভালো লাগসে অনেক। ট্রাই করতে পারেন।
মিরপুর বাংলা স্কুল এর পিছনের গেট এর সামনে দিয়ে ঢাল বেয়ে নিচে চলে যাবেন , শেষমাথায় ডানে মোড় নিলে একটু খানি আগালেই রাস্তার উপরে পিঠা স্টলটা। প্রথম দর্শনে ভালো নাও লাগতে পারে। বিশেষ করে যারা বার্গার কিং এর সামনে হ্যাংআউট করার জন্য রাত জেগে লাইন দিয়ে দাঁড়ান , তাদের না যাওয়াটাই ভালো।


সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



