somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন লিজেন্ডের গল্প

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কুমুদিনী ওয়েল ফেয়ার ট্রাষ্টের প্রিমিসেসের ভেতরে ১৯৭৫ পরবর্তী যে সব বাচ্চারা থাকতো তাদের কাছে «দিদি» নামটা কতটা আতংক জাগাতো তা শুধু তারাই বলতে পারবে । ঐসব বাচ্চাদের মধ্যে আমিও অন্যতম একজন । আমার মনে পরে আমার মা আমাকে ঘুম পাড়ানোর জন্য "দিদি বকা দিবে " এই কথা বলে অসংখ্য বার ঘুম পাড়ায় দিয়েছিলো ।
কিন্তু কে এই দিদি ?
বাংলাদেশের স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ইতিহাস যারা জানেন তারা বোধকরি রনদা প্রসাদ সাহার নাম শুনে থাকবেন । সঠীক হিসাব জানা না থাকলেও মোটামুটি এক দুই হাজার কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক ছিলেন । যার প্রতিটি টাকাই তিনি আর্তমানবতার সেবামূলক কাজে ব্যায় করে গেছেন । ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী সেনারা তাকে রাজাকারদের সহায়তায় ধরে নিয়ে যায় এবং অদ্যবধী তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায় নাই । স্বাধীনতা পরবর্তীতে এই বিশাল সম্পত্তির দেখভাল করার এবং ট্রাস্টকে চালানোর জন্য তার পরিবারের সবচেয়ে ছোটো মেয়েটি দ্বায়ীত্ত তুলে নেন । রনদা প্রসাদ সাহার ছোটো মেয়ে জয়া পতি ছিলেন কুমুদিনীতে দিদি নামে পরিচিত । কঠিন এডমিনিস্ট্রেটর ছিলেন তিনি । আইরন লেডি বলতে আমার এই দুনিয়ায় দুইজনকে নিজের চোখে দেখার সুযোগ হয়েছিলো - ১) মিসেস মার্গারেট থ্যাচার ২) মিসেস জয়া পতি । হাস্যকর লাগছে তাই না ? তার স্বান্নিধ্যে যারা আসার সুযোগ পেয়েছেন তারা আমার এই কথায় মোটেও হাসবেন না জানি । সেই সময় দোদর্প এর সাথে এতবড় একটা অর্গানাইজেশন চালিয়েছেন শক্ত হাতে ।
আমি চার্টার্ড একাউন্টেন্সি আর্টিকেলশীপ এর সময় কুমুদিনীতে অডিট করতে যেতাম । সেসুবাদে ছোটো পিসির সাথে কাজ করার সুযোগ হয় আমার । ভালোকথা "দিদি" আমাদের জন্য ছিলেন ছোটো পিসি । ১৯৯৫ সাল হবে , তিনি আমাকে ওনার ওঅফিসের একপাশে একটি কম্পিউটার দিয়ে বসিয়ে দিয়েছিলেন কাজ করার জন্য । যেই দিদি ছিলেন আমার জন্য মূর্তিমান আতংক , সেই দিদির পাশের টেবিলে কিভাবে কাজ করবো আমি ?!!! কিন্তু উপায় ছিলো না আমার । বাধ্য হয়ে ওনার পাশের টেবিলটাতে প্রায় ৩ বছর আমাকে কাজ করতে হয়েছে । ওনার পাশের টেবিলে বসে আমি দেখেছি কি ভাবে উনি ডিসিশন নিতেন ইন্সট্যান্টলি । কত সমস্যার সমাধান করতেন কতো সহজ করে । আর রুমে কেউ না থাকলে আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন , "বলতো আমি কেনো এই ডিসিশনটা দিলাম ? " পরে নিজেই আবার ব্যাখ্যা করে দিতেন কেনো নিলেন এই ডিসিশন । তার রুমে বসে তৎকালিন অনেক বড় বড় ব্যাবসায়ী , সরকারী আমলা , বিভিন্ন সংগঠনের বড় বড় কর্তাব্যাক্তি , রাষ্ট্রদূতদর সাথে তার মিটিংগুলো এতকাছ থেকে দেখার আমার সুযোগ হয়েছিলো । শেখার সুযোগ হয়েছিলো । বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী র ও উনি একজন প্রিয় ব্যাক্তিত্ত । চন্দন দা , আপনি তার ছেলে হয়েও মনে হয় ছোটো পিসিকে এত কাছ থেকে দেখার বা তার কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাননি । আমি আপনার এবং রাজিবদার চাইতে বেশি লাকি । আমি আমার ২২ বছরের ক্যারিয়ারে আজকে নিজেকে অনেক স্ট্রং মনে করি । আজকে এই পর্যায়ে আসার পেছনে ছোটো পিসির সেই ট্রেনিং এর অবদান অনেক বেশি ছিলো । আমার কাছে এখন অফিসের কোনো প্রবলেম কে প্রবলেম বলে মনে হয় না । আমাকে উনি একটা মন্ত্র শিখিয়ে দিয়েছিলেন । "মনে রাখবি , তুই জীবনে জন্ম এবং মৃত্যু কন্ট্রোল করতে পারবি না , এর বাইরে যে কোনো প্রব্লেম আসুক না কেনো তার কোনো না কোনো সলুশন তুই পাবিই পাবি "। ঐ মন্ত্রটা আমি মনের ভেতরে গেথে নিয়েছিলাম এবং আমি নিজেকে আজকে সাকসেসফুল বলে মনে করি ।
ছোটো পিসির বয়স হয়তো ১০০ পার হয়ে গিয়ে থাকবে বা একটু কম হবে । উনি লন্ডনে ওনার ছেলে মেয়ের সাথে থাকেন । গতবছর উনি বাংলাদেশ এ এসেছিলেন । ঠীকমতো কাউকে চিনেন না । কুমুদিনী থেকে হোটেল রেডিসনে ওনার জন্য একটা ইনভাইট ওনলি মিটিং এর আয়জন করা হয় । আমি ইনভাইটেড ছিলাম না তাই দেখা করতে পারি নাই । পরের দিন অফিসের কাজে দেশের বাইরে চলে যাই , তাই আর ছোটো পিসিকে আমার দেখা হয় নাই ।
ছোটো পিসি , আপনাকে দেখতে পরিনি কিন্তু জেনে রাখবেন , সেই ছোট্ট ছেলেটা আজকে অনেক বড় হয়ে গেছে কিন্তু আপনার সেই হ্যান্ডস অন ট্রেনিং ভুলে নাই । আপনার দেয়া সেই মন্ত্র দিয়ে আরো ক্তিশালী হয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ।

গতকালকে খবর পেলাম ছোট পিসি আর নেই । লন্ডনে তার ছেলে মেয়ের সান্নিধ্যে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন ।

আপনাকে কোনোদিনও ভুলবো না ।

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:০৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×