somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শেখ আশিক রোশানরাজ সরকার জুনিয়র
শ্রাবনের বৃষ্টিস্নাত স্বপ্নমত্ত এলোমেলো তরুনের হাতে নীল রঙের আল্পনা যেখানে দু ফোটা অস্রুর মাখামাখি আর তার সানগ্লাসের আড়ালে কিছুটা অনুভূতি যা কিনা সানসেটে বসে থাকা এক টুকরো রোদ অতঃপর তার হাতে থাকা উপন্যাসের শেষ পৃষ্ঠায় এসে দেখা দিল একটি শুকনো গোলাপ পাপড়ি

এই শহর তোমাকে মিস করছে

১০ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১০:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মন ভাবে তারে এই মেঘলা দিনে...নাহ শুধু মেঘলা দিনেই না..ভর দুপুরের তপ্ত রোদে যখন মানুষ অতিষ্ট তখনো মন তারে ভাবে...সকাল বেলা যখন কফির মগে ধোয়া ওঠে তখনো মন তারে ভাবে...বিকেল বেলার যখন তখন কোন আড্ডায় মন তারে ভাবে...
কে সে?


এই ব্যস্ত মেগা সিটির কোটি কোটি মানুষের ভিড়ের মাঝে তাকে সবার আগে আমার চোখে পড়ে...তার প্রতিটা পদক্ষেপ আমি অনুসরন করি...তার প্রতিটা কথা আমার কাছে লর্ড বেইরন এর কবিতার লাইন মনে হয়...আমি আড় চোখে তার হাসি দেখি...আমি তাকে বলেছিলাম চোখে মোটা করে কাজল দিলে খুব মানাবে...এই তো সেদিন সে চশমা টা খুলে চোখ পিট পিট করে আমাকে বলেছিলো "দেখো...মোটা করে কাজল লাগিয়েছি"...আমি বোকার মতো লাজুক হেসেছিলাম...বলা হয়নি কতটা সুন্দর লাগছিলো তাকে...

আমি এখনো তার সাথে প্রথম রিকশায় হাত ধরার মুহূর্ত টা অনুভব করতে পারি..সেদিন প্রথম অনুভব করেছিলাম তার প্রতি আমার প্রবল আবেগ...আমি বুঝেছিলাম আমি অবশেষে তাকে খুজে পেয়েছি...আমি তার মাঝে আমাকে খুজে পেয়েছি...জীবনের নতুন কোন অধ্যায় খুজে পেয়েছি...খুজে পেয়েছি এক আশ্রয় যেখানে আমার গল্প গুলো শান্তি তে ঘুমুতে পারবে...

সে হঠাত করেই বলতো..
"চলো না আজকে দেখা করি"...
আমি বলতাম "আজ থাক?"
সে অভিমান করে বলতো "এমন করো ক্যান"...এরপরে আমি আর না করতে পারতাম না...সন্ধ্যে হবার আগে আগে তার সাথে আমার দেখা হয়...আমরা রিকশা করে ঘুরি...এই ঢাকা শহরের নিয়ন আলোয় আমাদের প্রেম আরো প্রবল হয়...আমি তার হাত ধরে রাখি...অনেক শক্ত করে...হারিয়ে যায় যদি..


সেদিন দুজনে মিলে শাহবাগ এর সিগনাল এ স্লিপনট এর স্নাফ শুনছিলাম...সে আমার কাধে মাথা রেখেছিলো...আমি কাধে যে ভার অনুভব করেছিলাম তাতে ছিলো আমার প্রতি তার অগাধ আস্থা...আমি চোখ বন্ধ করে খুব আস্তে আস্তে বলেছিলাম "প্লিজ এভাবেই থেকো"...চারিপাশের কোলাহলে তা মিলিয়ে গিয়েছিলো...কিন্তু ঢাকার রাজপথ সেদিন দেখেছে কিভাবে তার কষ্ট গুলোকে আমি আমার নিজের করে নিয়েছিলাম...মেয়েটা কিচ্ছু টের পায়নি..

হঠাত তার খুব জ্বর হয়...দেখার মতো কেউ নেই...আমি ফোনের ওপাশ থেকে তার দুর্বল কন্ঠ শুনে অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে রাখি...ইচ্ছে হচ্ছিল সব কষ্ট গুলোকে নিজের ভেতরে নিয়ে নিতে...
আমি বলছিলাম "আমি আছি"
সে ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে বলেছিলো "রোশান তুমি নেই...তুমি নেই রোশান"
নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছিল...আমি কাদিনি...আমি ভেঙ্গে পড়লে তাকে কে দেখবে?
আমি নিঃশ্বাস বন্ধ করে শান্তভাবে উত্তর দিতাম "তুমি ঘুমাও...আমি আছি"...
সে আমার কথায় বিশ্বাস করে ঘুমিয়ে পড়তো...

এরপর তার সাথে আমার প্রথম ঝুম বৃষ্টির দিন...২৭ নম্বর রোডে কিছুটা রোমান্স...কিছুটা ড্রামা...এইতো বেশ ছিলো...সে চলে যাওয়ার পর আমি একা একা বৃষ্টিতে ভিজছিলাম..খুব স্বার্থপর আমি না?...কে জানে যদি তার জ্বর এসে পড়ে? আমিই না হয় তার হয়ে বৃষ্টিবিলাস করে নিলাম..হলাম না হয় একটু স্বার্থপর...

ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট এর মেয়েটার সাথে সিএসই ডিপার্টমেন্ট এর ছেলেটার প্রেম এভাবেই চলতে থাকে পুরো শহর জুড়ে...শহরের ল্যাম্পপোস্ট গুলো তাদের অপেক্ষায় থাকে...তাদের ছাড়া এ শহরের নাটক গুলো অসম্পূর্ণ হয়ে থাকে...
রিকশার পাশের সিট টা তাকে খুব মিস করবে এ কটা দিন...এই শহর তাকে মিস করবে...
এই যে তাড়াতাড়ি চলে আসেন...নাহলে আমার কাধে মাথা রাখবে কে? আপনার কপালে চুমু খাবে কে? রাতের বেলায় আপনাকে অন্ধকার ওভার ব্রিজ পাড় করে দিবে কে? আমি রিকশা ভাড়া বেশি দিলে আমাকে বকা দিবে কে? আপনিই তো...তাই না?
" প্লিজ? জলদি চলে আসো ? "
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১০:০৯
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:২৫



ক্লাস ফাকি দিয়ে তারা আড্ডা মারছে। এই দিকে পিতা মাতা হয়তো মনে করবে যে আমার মেয়ে ক্লাস করতে গিয়েছে। এই স্থানটি খুবই নিরিবিলি। দেশের আইন-শৃঙ্খলার অবস্থা খুবই খারাপ। এমন ফাকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×