somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

“মা বড় না বউ বড়?” -একটি সাকিব আল হাসানের গল্প... (By: কুমড়া পটাস)

০৯ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৩:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


খবর: সিরিজে সাকিবকে আর পাচ্ছে না বাংলাদেশ। স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশিরের পাশে থাকতে জরুরি ভিত্তিতে আজ রাত নয়টার ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রে উড়াল দিচ্ছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। বিষয়টি নিশ্চিত করে দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ জানিয়েছেন, ‘সাকিবকে জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে হচ্ছে।’ সাকিবের জায়গায় দলে আসতে পারেন এনামুল হক। (প্রথম আলো)

“সাকিব শুনলাম আর্জেন্ট ছুটি লইয়া আবার বিদেশ যাইতাছে?”
হুমমম… ইউএসএ যাচ্ছে।
“কেন? জিম্বাবুয়ের লগে ম্যাচ ফালাইয়া এখন বিদেশ যাওয়া লাগবো?”
আরেহ। শিশির তো প্রেগনেন্ট। ডেলিভারী ডেট সামনেই। এখন সাকিবের থাকা জরুরী।
“তাতে কি? সাকিব জানে না, দেশ হইতাছে মায়ের মত! এখন দেশ যখন ওরে চায় – সে তখন বউয়ের আঁচলে পলায়?”
ব্যাপারটা আসলে তা না…
“আমারে ঐসব বুঝাইস না। সিম্পল কথার জবাব দে, “মা বড় না বউ বড়?”

আসলেই এরকম কিছু পাবলিককে আমি বা, আপনি… কেউই কিছু বুঝাতে পারবো না। ঘটনাটা এমন কিছুই না। সবাই জানেন যে বিশ্বসেরা বাংলাদেশী অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বাবা হতে যাচ্ছেন। আমাদের শুভ কামনা রইলো সাকিব-শিশির জুটি এবং তাঁদের আগত সন্তানের জন্যেও। আগেই সাকিব ছুটি নিয়েছিলেন স্ত্রী’র সাথে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন বলে। তবে, জিম্বাবুয়ের সিরিজটির জন্য খোদ শিশিরই সাকিবকে ফেরত পাঠান। পরে সংবাদ সম্মেলনে এসে তা স্বিকারও করলেন তিনি। তবে, এ নিয়েও আমরা বাঙালী কম যাই না মন্তব্য করতে। সবার মুখেই একই বাণী –
দেশে কি কোন প্রসূতি হাসপাতাল নাই?
বউটারে দেশে রাখলে এত ঝামেলায় পড়তে হত না।
দেশে কি ভাল ডাক্তার অথবা প্রসূতি হাসপাতাল ছিল না?


আমি বুঝতে পারছি, এই ভাইয়া-আপুদের স্বদেশপ্রীতি অত্যাধিক। তাহারা দেশে কেন শিশিরকে রাখা হলো না, দেশে কি ভালো প্রসুতি হাসপাতালের অভাব অনুভূত হচ্ছে কি না, ইত্যাদি বিশাল বিশাল রাষ্ট্রীয় সমস্যা নিয়ে প্রবল চিন্তিত। আমি বুঝতে পারছি, খুবই স্বাভাবিক। দেশপ্রেম তো থাকা আমাদের ঈমানের অংশ। স্বদেশ প্রেম এক মহৎ গুণ।

তবে, তারা দেশপ্রেম দেখাতে গিয়ে একটা কথা সম্ভবত ভুলে গিয়েছেন। আমাদের শিশির ভাবীর বাড়ি কিন্তু ইউএসএ। আর প্রথম সন্তান জন্ম দিতে আমাদের মা-জননীরা যে বাপের বাড়ি যায়, সেটাতো খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। এটা নিয়ে এত্ত ফালাফালির কি আছে রে ভাই? এখন সাকিবের শ্বশুড় বাড়ি আমেরিকা হইছে দেখে কি কবিরা গুনাহের কাজ করে ফেলছে সে?

আরেক ভাইয়া তো আরও এক কাঠি সরেশ। তিনি নিজেকে বিসিবির মাননীয় স্পন্সর, ট্রাস্টি ইত্যাদি ইত্যাদি আরও অনেক কিছুই মনে করেন।
- সাকিবের আমেরিকান হসপিটালে বৌকে নিয়ে যাওয়ার টাকা কে দিসে আর কেমনে হইল? আমরা যদি না দিতাম তবে দেষেই ট্রিটমেন্ট নিত।


জ্বি ভাইয়া। আপনাদের মত কিছু কতিপয় মানুষ সাকিবকে প্রতি নিয়ত খুচরা টাকা-পয়সা দান খয়রাত করতেন এবং করছেন বলেই তো সাকিব আল হাসান আজ খেয়ে-পড়ে বাঁচতে পারছে। আজ আপনারা না থাকলে সাকিবের যে কি হতো! থাক, আর চিন্তাই না করি। ভয়াবহ!!
ভাইয়া বোধ হয় জানেন না, সাকিব সহ অন্যান্য সব খেলোয়াড়রাই আমার-আপনার মত ট্যাক্স প্রদান করেন। বিসিবি’র বেতন ছাড়াও অন্যান্য দেশীয় ও বিদেশী ক্লাবগুলোর পারিশ্রমিক, বিজ্ঞাপনের পারিশ্রমিক, নিজেদের ব্যবসা ইত্যাদি আরও অনেক পথ থেকেই তাদের টাকা আসে। সেই টাকার উপর ট্যাক্সও প্রদান করতে হয়। আর খোদ বিসিবিই তো সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে চলে। সেখানে “তাঁরা আমাদের টাকায় এত লাফাচ্ছে” এসব চিন্তা ভাবনাটা “বোকামি” বললেও ঢের ভুল হবে।

বুঝতে পারি যে আমরা ফ্যানরা, অনেক আবেগী। আবেগের ঠ্যালায় মুখ দিয়ে যে কত কিছু চলে আসে, তার কোন আত্তা-পাত্তা নেই। “আমরা স্বাধীন জাতি” – এর প্রমান আর কোথাও না মিললেও এই ফেসবুকে এসে বেশ বুঝতে পারি।

যারা এসব স্বাধীন চেতা কমেন্ট করেন, তারা হয় তো বাবা-মা কখনোই হন নাই, কিংবা অন্যের বাবা-মা হবার মূহুর্তটা পাশে থেকে দেখেন নাই। কিংবা, এসব না দেখেও ব্যাপারটা খুব কমন সেন্স দিয়ে উপলব্ধি করার ক্ষমতাটাও তাদের নেই। তাই, সাকিবের বিদেশ যাওয়াটার খারাপ দিক নিয়ে নিজেদের জ্ঞান জাহির করতে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।

যাই হোক। সাকিব আল হাসানের এত সবার “সুচিন্তিত” পরামর্শ নিয়ে এত মাথা না ঘামালেও চলবে। তিনি আপাতত নিজের প্রথম সন্তানের সুখ উপলব্ধি করুন এই কামনা করেই শেষ করছি আজকের স্পোর্টস কুমড়াফাইড।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ৩:৪৮
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫৬


ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। অন্তত প্রযুক্তির দিকে তাকালে এমনটাই মনে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ এতদিন মানুষের ভোট, মতামত, রাজপথ, রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে ইসলামপন্থা বনাম গণতন্ত্র: মানুষ যখন নাগরিক থেকে অনুসারী হয়ে উঠছে!

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩


কিছুদিন আগেও আমরা বলতাম, "দয়া করে ধর্মকে রাজনীতির সঙ্গে মেশাবেন না"। সরল এই কথাটির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বোধ ছিল - ধর্মীয় বিশ্বাস আর রাজনীতি এক জিনিস নয়। গত দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো প্রয়োজন নেই! আপনি কি মনে করেন?

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৪



বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে শিক্ষাগত যোগ্যতাবিহীন বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাবঞ্চিত কোনো ব্যক্তির পক্ষে এককভাবে স্থানীয় সরকারকে প্রযুক্তিনির্ভর এবং 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বা 'ডিজিটাল বাংলাদেশ'-এর লক্ষ্য অনুযায়ী আধুনিকায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×