somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজ ২০ জুলাই, আমার জন্মদিন। এতএব, জীবন থেকে আরও একটি বছর মাইনাস!

২০ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই দুনিয়াতে এমনি একটি দিনে আমি এসেছিলাম, আজ আমার সেই দিন। আমি নিজেও এ বিষয়ে অবহিত যে জগতের লক্ষ কোটি মানুষের এই পথচলায় আমার অতি ক্ষুদ্র আমিটির পৃথিবীতে আগমন বা প্রস্থানে কোন ভাবেই আলাদা কোন গুরুত্ব বহন করে না! তবু জানতে ইচ্ছে করে। সত্যি, আমাকে দিয়ে কোন কাজ হয়েছে কারো ?

কালের অথৈ গহ্ববরে নিমজ্জিত হওয়া বেশ কয়েক বছর আগের এমনি একটি দিনে আমি পৃথিবীর আলো বাতাস প্রথম স্পর্শ করি। নিশ্চয় সেই দিনের জন্ম ক্ষণে আমি গলা ফাটিয়ে কান্না করেছিলাম আর আমার জন্মদাত্রী- জন্মদাতা দ্বয় আমার কান্নাকে উপেক্ষা করে হাসি মুখে পরমানন্দে ভবিষ্যত লক্ষ্য নির্ধারণে ছিলেন অতি ব্যস্ত। আমার মুখে কান্না ছাড়া আর কোন ভাষা ছিলোনা। ছলছল চোখে হয়ত দেখেছিলাম চারপাশটাকে আর অবাক দৃষ্টিতে সব কিছু পরখ করতে করতে আবার হয়ত কান্না, কান্নাই যে তখন একমাত্র ভাষা। আমার বাবা-মা আমার কান্নাকে হয়ত আমার ক্ষুধার্তের সংকেত হিসেবে ধরে নিয়েছিলো তাই কোন খাবার আমার জন্য যুতসই সেটাই খুঁজতে কিংবা যোগাড় করতে তাঁরা ছিলেন মরিয়া অথচ তাঁরা কেউই প্রশ্ন করেনি আমার কান্নার পেছনে কি রহস্য প্রোতিত ছিলো !

আমি হয়ত সেদিন কেঁদেছিলাম এই ভেবে আমাকে যে পৃথিবীতে স্থানান্তর করা হলো তা আমার জন্য মোটেই বাস যোগ্য নয়, আমিতো আমার পূর্ববর্ত্তী স্থানেই ভালো ছিলাম। কোন অপরাধে আমাকে জোর করে তোমরা এই বীভৎস পৃথিবীতে ডেকে আনলে ? এই বিশাল প্রশ্নের ভার সইতে না পেরে হয়তো ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম আর সবাই ভাবলো এই বুঝি ক্ষুধা মিটেছে! সময়তো কোন সরকারী অফিসের টেবিলে ধূলোয় মোড়ানো কোন ফাইল নয় যে আটকে থাকবে তাইতো চলন্ত সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে আমার ক্ষুদ্র শরীরটা বাড়তে শুরু করলো। শক্তি জমতে লাগলো আমার কোমরে আর তাই কোমরের উপর ভর করে শিখি কিভাবে বসতে হয়। ততক্ষণে হাত আর পা গুলো চঞ্চল হতে শিখে গেছে, শুধু বসে থেকেই ক্ষান্ত হয়নি সামনে যা পাই তাকেই আঁকড়ে ধরে দাঁড়াতে ইচ্ছে করে। হোচট খেতে খেতে হাঁটতে শেখা, বাবা-মা'রা তখন কি নির্দয় হয় ! পড়ে গিয়ে কোথায় ব্যাথা পেলাম তা দেখার সময় তাঁদের নেই। ইস কিংবা উঁফ শব্দ দ্বয়ের কোন একটি দিয়ে তাদের দরদ প্রকাশ করে আবার আমাকে হাঁটতে তাড়া দেন। আমিও শিখে গেছি কিভাবে হাঁটতে হয় সেই সাথে ভুলে গেছি জন্মক্ষণের কান্নার অন্তরালের ইতিহাস।

আজ আমি অনেকটা বছর পেরিয়ে আসলাম। আমি যখন আমার পেছনে তাকাই, তখন দিন, মাস, বছর পেরিয়ে চলে যাই সেই অতীতে যেখানে আমার শুরু। আমার মুখের ভাঙ্গা, ভাঙ্গা কথা আর একটু হাসিতে তৃপ্ত হত সবাই। আমাকে নিয়ে কতই না স্বপ্নের জন্ম হয়েছিল তখন! আজ শৈশব, কৈশর আর অনেকটা সময় পেছনে ফেলে যৌবনে আমি। জীবন চলার বাঁকে জন্মদিয়েছি কত রূপকথা। ছোট্ট একটা জীবনে কত ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছি। অনেকটাই বড় হয়ে গেছি। অনেক পথ পাড়ি দিয়েছি, অনেক কিছু দেখেছি, অনেকের সাথে পরিচিত হয়েছি, অনেকের সাথে অনেক রকম বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছি, অনেক মজার সময় পার করেছি, অনেক কষ্টের সময়ও পার করেছি। হরেক রকম ঘটনার সাক্ষী হয়েছি, নিজে থেকে অংশগ্রহণও করেছি।

গত হওয়া সময়ের সাথে যোগ হচ্ছে আরো একটি বছর। সকলের কাছে সব ভুলের ক্ষমা চাচ্ছি। তারো আগে ক্ষমা চাই মহান রবের কাছে। আজ ও আগামীর দিনগুলো সবাইকে নিয়ে ভাল থাকতে চাই। চাই সুন্দর কিছু মানুষদের সাথে ভালভাবে বেঁচে থাকতে। দেখতে দেখতে দিন গড়িয়ে সাপ্তাহ, সাপ্তাহ গড়িয়ে মাস, আর মাস গড়িয়ে যাচ্ছে বছর! জন্মদিন একটা মাইল ফলক, জীবন চলার পথের প্রতীক। জন্মদিন মানে সেই প্রতীক দেখেই মনে পড়ে, গেল আরো একটা বছর গেল! কিন্তু আসলে কি! পৃথিবী থেকে বিদায়ের পথে দেখে যাওয়া বছরের মাইল ফলক জন্মদিন দেখে আমি আসলে এখন আর খুশি হতে পারি না!

সবাই দোয়া করবেন যেন আপনাদের মাঝেই মরি বাঁচি...
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জুলাই, ২০১৬ রাত ২:২১
৭টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আন্দোলনের সময় বেকারদের দরকার ছিল, এখন কি আর নেই?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২০


সারজিস আলমকে দেখে একসময় মনে হয়েছিল, বাংলাদেশের রাজনীতিতে হয়তো সত্যিই নতুন কিছু আসতে যাচ্ছে। কোটা আন্দোলনের আইকনিক মুখ, গর্বিত ঢাবিয়ান, এনসিপির বড় নেতা। শেখ হাসিনার আমলে সকাল বিকাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৩২

বাংলাদেশ কি মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হবে?

প্রশ্নটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়।
গত ৭ আগস্ট সৌদি আরবের মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান Makkah Joint Defence Agreement-এ স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা জানেন না তাদের জন্য! কফি এনিমা (Coffee Enema)!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৩

কফি এনিমা হলো মলদ্বার দিয়ে কোলন বা বৃহদন্ত্রে তরল কফি প্রবেশ করিয়ে পেট পরিষ্কার করার একটি বিকল্প পদ্ধতি। নিচে এটি শরীরে দেওয়ার সাধারণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলোঃ

প্রয়োজনীয় উপকরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০

মাদ্রাসায় শিশুর নিরাপত্তা কোথায়?
====================
একটি ১১ বছরের শিশু যার বয়স খেলাধুলা, পড়াশোনা আর স্বপ্ন দেখার। সেই শিশুকে যদি যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয় এবং তার গর্ভে একটি সন্তান জন্ম নেয়, তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×