somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পুলওভার

১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শীত হামা দিতে আসছে গুটি গুটি পায়ে, ছুটির দিনের জমানো কাজের সাথে যোগ হলো নতুন ব্যস্ততা। তুলে রাখা গরম কাপড়গুলো দেখছে রোদ, ভাঙছে বছরের আড়মোড়। নানান কাপড়ের মাঝে সুটকেসের তলায় হালকা বাদামী রঙের কাপড়টার আভাস এক লহমায় মনকে দারুন এক আনন্দের আবেশে ভরিয়ে দিলো।

বন্ধুদের হাসিঠাট্টা সত্ত্বেও বঙ্গবাজার থেকে সস্তা এই পাতলা পুলওভারটা কিনতে মন টেনেছে এর আজব ডিজাইনের জন্যেই। বুকের মাঝ বরাবর সোনালী এক জ্যামিতিক নকশা, সেটা আবার একটা ছোট্ট পকেট! যাই হোক পুলওভারটা আরামদায়ক। সেবার হাসিঠাট্টার ঐ ছোট্ট পকেটে থেকে ভাইব্রেশন মোডে মুঠোফোনটা প্রায়ই বাজতে থাকত, রাতে ইচ্ছে করেই রিসিভ করা হতো না। শেষে টেক্সট আসতো কিবা অনেক বারংবারের পর রিসিভ করতেই ধমকি - "এ্যাই ফোন ধরো না কেনো?"

কোন একটা নাটকে দেখা দৃশ্যে ছিলো - কাছে এসে বসা ছেলেটাকে মেয়েটা বলছে "কইছি না হইরা বহো, তুমি কাছে আইয়া বইলে ভাইব্রেশন মোড আহে!!!" দৃশ্যটার চেয়ে বিপরীতভাবে, রাত নিঝুমে পুলওভারের ওই পকেটে ক্রমাগত বাজতে থাকা মুঠোফোনের ভাইব্রেশন মূহুর্তে নিয়ে আসতো ওকে কাছে। তিরতির করে পুরো আবেশ জুড়ে বইতো ও। আকাঙ্খিত চিঠি হাতে পেয়েও না পড়ে, তারিয়ে তারিয়ে চিঠির অনুভূতি অনুভবে নেয়া, স্পর্শ করে থাকা, ভাবখানা এমন যেন পড়ে ফেললেই শেষ। হাসি দিয়ে ওর ধমক খেতেও মোটেই খারাপ লাগত না। কখনো বলা হয়নি ওকে এই ছেলেমানুষি ব্যাপারটা, হাস্যকর ওই মূহুর্ত একান্তই নিজের।

ছেলেবেলা না বুঝে ভেঙে ফেলা চড়ুইয়ের বাসাটা ঠিক করা, গাছ থেকে হাড়ি ভেঙে খেজুরের রস খাওয়া,কলেজে ওঠার আনন্দ, সুনির্দিষ্ট কারোর হাসামাখা মাড়াকাড়া চোখ - কিছুই রয়ে যায় না হাতের মুঠোয় কিন্তু মনের মনিকোঠায় থাকে তাদের ঘিরে থাকা সুখস্মৃতিরা, শতকষ্টেও অটুট থাকে। ছোট্ট কোন ইশারাতেই তারা জ্বলজ্বল হয়ে মনকে খানিকের জন্যে হলেও সুখের ভেলায় ভাসায়। তেমনি অবহেলার এই পুলওভার ভাসিয়েছে সেইসব ছোট্ট একান্ত আপন হাসিতে। বিরক্তি, দু:খকে বিস্মৃত করে এই চটজলদি আনন্দটাই বড়, হোক না আজ দু'জনের চলা ভিন্ন পথে ভিন্ন ভিন্নজনের সাথে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ১:৪৬
৪৫টি মন্তব্য ৩৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কষ্ট থেকে আত্মরক্ষা করতে চাই

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৯



দেহটা মনের সাথে দৌড়ে পারে না
মন উড়ে চলে যায় বহু দূর স্থানে
ক্লান্ত দেহ পড়ে থাকে বিশ্রামে
একরাশ হতাশায় মন দেহে ফিরে।

সময়ের চাকা ঘুরতে থাকে অবিরত
কি অর্জন হলো হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য : মদ্যপান !

লিখেছেন গেছো দাদা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ দুপুর ১২:৫৩

প্রখ্যাত শায়র মীর্জা গালিব একদিন তাঁর বোতল নিয়ে মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। বেশ মৌতাতে রয়েছেন তিনি। এদিকে মুসল্লিদের নজরে পড়েছে এই ঘটনা। তখন মুসল্লীরা রে রে করে এসে তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেঘ ভাসে - বৃষ্টি নামে

লিখেছেন লাইলী আরজুমান খানম লায়লা, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৪:৩১

সেই ছোট বেলার কথা। চৈত্রের দাবানলে আমাদের বিরাট পুকুর প্রায় শুকিয়ে যায় যায় অবস্থা। আশেপাশের জমিজমা শুকিয়ে ফেটে চৌচির। গরমে আমাদের শীতল কুয়া হঠাৎই অশীতল হয়ে উঠলো। আম, জাম, কাঁঠাল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

= নিরস জীবনের প্রতিচ্ছবি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৪:৪১



এখন সময় নেই আর ভালোবাসার
ব্যস্ততার ঘাড়ে পা ঝুলিয়ে নিথর বসেছি,
চাইলেও ফেরত আসা যাবে না এখানে
সময় অল্প, গুছাতে হবে জমে যাওয়া কাজ।

বাতাসে সময় কুঁড়িয়েছি মুঠো ভরে
অবসরের বুকে শুয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Instrumentation & Control (INC) সাবজেক্ট বাংলাদেশে নেই

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৪ বিকাল ৪:৫৫




শিক্ষা ব্যবস্থার মান যে বাংলাদেশে এক্কেবারেই খারাপ তা বলার কোনো সুযোগ নেই। সারাদিন শিক্ষার মান নিয়ে চেঁচামেচি করলেও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাই বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে সার্ভিস দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×