somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জাদিদ
তুমি আমার রাতবন্দিনী। ধূসর স্বপ্নের অমসৃণ সুউচ্চ দেয়াল তুলে তোমাকে আমি বন্দী করেছি আমার প্রিয় কালোর রাজত্বে। ঘুটঘুটে কালোর এই রাজত্বে কোন আলো নেই। তোমার চোখ থেকে বের হওয়া তীব্র আলো, আমার হৃদয়ে প্রতিফলিত হয়ে সৃষ্টি করে এক অপার্থিব জ্যোৎস্না।

যাপিত জীবন কড়চাঃ জনৈক পিতা।

১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:২২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

২০১৭ সাল। অফিসের নিচে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছিলাম।
হঠাৎ একজন অতি বৃদ্ধ মানুষ আমার হাত ধরে বললেন, বাবা আমারে দুইটা ভাত খাওয়াইতে পারো?
কিছু কিছু মানুষ আছে যাদের কন্ঠে নগ্ন দারিদ্রতা থাকে না, থাকে অসহায়ত্ব, লজ্জা আর বঞ্চনার শব্দ।
আমি কিছু বুঝার আগেই মুখ দিয়ে বের হয়ে গেলো, হ্যাঁ বাবা চলেন, দুপুর তো ভাত খাবারই সময়।
সামনেই অদূরে একটা হোটেলে গেলাম। আজকের তরকারী হচ্ছে, আলু সিম আর ফুলকপি দিয়ে রুই মাছের ঝোল, লাল শাক, মুরগী, আর গরু ভুনা, ডিম আর ডাল।
জিজ্ঞেস করলাম, কি খাবেন?
তিনি কিছুটা ক্ষীন স্বরে বললেন, ভাত আর ডাল দিলেই হবে বাবা।
সানগ্লাস পড়লে আমাকে কিছুটা কঠোর মনে হয়। আমি সানগ্লাস খুলে বললাম, বাবা আপনি সংকোচ ছাড়া খান। যা দিয়ে ভালো লাগে, সেটা দিয়েই খান।
তিনি আমাকে একটা অভাবনীয় উত্তর দিলেন। বললেন, - না রে বাবা। অপচয় কত্তি নেই। এই অপচয় কইরে আজকে এই দশা। আমার ভাত, ডাল হলেই হয়ে যাবে। আজকে বেশি বেশি খালি পরে দুইদিন হয়ত না খাইয়ে থাকা লাগপে।
তিনি খেলেন, আমি দেখলাম। অল্প সামান্য যে কয়টা দাঁত আছে, তা দিয়ে আসলে ভাত চাবানো যায় না। ডালের সাথে ভাত হলে মোটামুটি গিলেই খাওয়া যায়। তাই তিনি হয়ত ডাল ভাতকেই বেছে নিয়েছেন।
জিজ্ঞেস করলাম,কই থাকেন, কি করেন?

অনেক কিছুই বললেন, অনেক কিছুই শুনলাম। ঝিনাইদহ/ ঝিকরগাছা অঞ্চলে উনার বাড়ি। থাকেন, কাফরুলের দিকে, এক গ্যারেজে। গ্যারেজ মালিকই দুই বেলা খাওয়া দেয়।
জিজ্ঞেস করলাম, ছেলেমেয়েরা কই?
তিনি বললেন, উনার স্ত্রী মারা যাবার পর ছেলেরা কেউ আর উনার দায়িত্ব নিতে রাজি হয় নি। প্রায় নাকি ছেলের বউ আর ছেলেদের সাথে ঝগড়া হতো। তাই একদিন বাসা থেকে বের হয়ে গেছেন। কয়েকদিন রাস্তায় এখানে সেখানে ঘোরাঘুরি পর এক গ্যারেজ মালিকের সাথে পরিচয় হয়। আর সেই থেকে সেখানে থাকা।

বললাম, তা কাফরুল থেকে এই দিকে কেন আসছেন?
তিনি কোন জবাব দিলেন না। চুপ করে আছেন দেখে জিজ্ঞেস করলাম, বলেন কেন আসছেন এই দিকে?
দেখলাম, তার চোখে পানি। অল্প কিছু দাঁত সমৃদ্ধ মাড়ি কান্নার দাপটে আরো ভেতরে চলে গেছে। চোখ মুছে বললেন, বাবা ছেলেটারে খুব দেখতে মন চাচ্ছিলো। তাই তাদের বাসায় যাচ্ছিলাম শাহজাদপুরে। কিন্তু পরে হঠাৎ মনে হলো, এখন গেলে ভাববে আমি টাকার জন্য গেছি, আবার ঝগড়া। তাই ফেরত আসছি। এখন আর আগের মত শরীর কুলায় না। মাঝপথে কাহিল হয়ে পড়ছি।

কথাটা শুনে আমার বুকের ভেতরটা কেমন যেন চিন চিন করে উঠল। চোখের পানি আড়াল করার জন্য সানগ্লাস পড়লাম। অফিসে ফিরে বার বার সেই বৃদ্ধ মানুষটির কান্নামাখা মুখ আমার চোখের সামনে বার বার ভেসে উঠছিলো। একগাদা মানুষের চোখকে ফাকি দিয়ে কোন মতে বাথরুমে গিয়ে চোখ মুছলাম। বিব্রতকর! মহা বিব্রতকর পরিস্থিতি।

আমি জানতাম তবে মনে মনে অস্বীকার করতাম যে আমি একজন দুর্বল মানুষ। কিন্তু পরিস্থিতি আজকে আমাকে বার বার চোখ মুছতে বাধ্য করে স্বীকার করালো - আমি একজন ভয়াবহ দুর্বল মানুষ।

হঠাৎ করে আব্বার কথা মনে পড়ল। সকালে সবাই উঠে গেলেও আমি মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করে ঝিম মেরে পড়ে থাকি। মাঝে মাঝে আব্বা এসে কপালে হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করে, বাবা অফিসে যাবা না? উঠবা না বাবা?

আজ দুপুরে টের পেলাম সন্তানের প্রতি স্নেহ ভালোবাসা পূর্ন পৃথিবীর সকল বাবাদের দেখতে প্রায় একই লাগে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ বিকাল ৩:২২
২১টি মন্তব্য ২১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইতালির ফেরুসিও ল্যাম্বরগিনি এবং বাংলাদেশের একজন বঞ্চিত নাহিদ!

লিখেছেন ককচক, ১৮ ই আগস্ট, ২০২২ ভোর ৫:২১



একটু আগে সময় টিভির একটা প্রতিবেদনে দেখলাম, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বঞ্চিত একটা ছেলে নিজের মেধা ও পরিশ্রমে মাত্র ১২ হাজার টাকা খরচ করে একটি পুরানো বাইসাইকেলকে মোটরসাইকেলে রূপান্তরিত করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষার দৈন্যতা.......

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২২ সকাল ১০:৪০

শিক্ষার দৈন্যতা.....

আপনার চারপাশের লোকজনকে পাঁচজন জীবিত বৈজ্ঞানিকের নাম করতে বলুন। এবার তাঁদের পাঁচজন বাংলাদেশী জীবিত শিক্ষাবিদের নাম করতে বলুন। (জীবিত কিন্তু জাফর ইকবালের নাম বললে চলবে না)। যদি বা তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবনঃ সভাপতির আন্তরিকতা

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২২ সকাল ১০:৫৫

ঢাকা শহরে আমি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আছে । এখানে এসে আমি একটা জিনিস শিখে নিয়েছি সেটা হচ্ছে এখানে মানুষ কেউ কারো নয় । আস্তে আস্তে আমিও এমনই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগার হিসাবে মানুষের প্রতি আপনার কর্তব্য কী?

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২২ দুপুর ১:৪৩



একজন ব্লগার একজন সাধারন মানুষের চেয়ে আলাদা।
একজন সাধারন মানুষ কাজ করে। সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সে শুধু তার কাজ এবং সংসার নিয়েই ভাবে। দেশ বা সমাজ নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভূতের রানীর জন্মদিনে !!

লিখেছেন নূর মোহাম্মদ নূরু, ১৮ ই আগস্ট, ২০২২ বিকাল ৫:৫০


ভূতের রানীর জন্ম দিনে !!
(মজা দেই, মজা লই)
নূর মোহাম্মদ নূরু

উৎসর্গঃ ভূতের রানীসহ সকল ভূতদেরকে!

ভূতের রানীর জন্ম দিনে ব্যপক আয়োজন,
পঁচা মাছের কোপ্তা কাবাব মরা মুরগীর রান।
নাতীন জামাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×