শীতের মাঝা মাঝি পুকুরের পানি প্রায় মাজার কাছে চলে এসেছে । সারা বর্ষা আর শীতে পোনা মাছ গুল এখন প্রায় হাতের তালুর দ্বিগুন সাইজে । রুই মৃগেল আর বাটা মাছের চাষ করেন নিরেন আর বিরেন পাল নামের দুই ভাই । তাদের গ্রাম আমাদের গ্রামের প্রায় তিন গ্রাম দুরে । আমাদের গ্রামে বেশ কিছু পুকুর লিজ নিয়ে মাছের চাষ করেন তারা ।
আমি নিলয় আর বাবু ভাই তিন মাল্লা ঠিক করলাম মাছ খাব ।
সারা দিন আমি মাছ পর্যবেক্ষন করে কাটালাম । ঠিক হলো বাবু ভাই এর বাড়িতে মাছ রান্না হবে । মাছ রান্না সরন্জাম যোগাড় করলো নিলয় । সন্ধ্যা ৭ টা নাগাদ আমরা পুকুরে কৈ মাছ ধরার কারেন্ট জাল পাতলাম ।
শীতের দিনে ৮-৯টায় আমাদের গ্রামে নিসুতি পড়ে যায় সবাই সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়ে । রাত ৮ টার দিকে জাল উঠাতে গিয়ে তো আমরা অবাক ! জাল নাই ! ?! কি হলো চোরের উপরে বাটপারি হলো নাকি ? আমাদের জাল আবার কেউ চুরি করে নিয়ে গেল কিনা ? !
অবশ্য এতো সহজে হতাস হবার আগে একটু খুজে দেখতে লাগলাম । দেখলাম একটু দুরে আমাদের জালের ফাতনা ভাসছে । কোন রকমে জাল উঠাতে শুরু করলাম । আমার জীবনে এতো মাছ এক জালে ধরিনি ! প্রতি এক হাত জালে অন্তত ৩-৪ টা মাছ । ৬০ হাত জাল পানিতে রেখেই গোছাতে লাগলাম । সব জাল গোছান হয়ে গেলে দেখা গেল এতো মাছ যে এতো মাছ আমাদের পক্ষে খাওয়া সম্ভব না । তাই ৩ কেজির মতো মাছ রেখে বাকি সব মাছ আবার ছেড়ে দিলাম । আমরা আবার দয়ালু চোর কিনা !
মাছ আমরাই কুটে ধুয়ে সাফ করে হলুদ লবন মরিচের গুড়া মেখে ভাজতে থাকলাম । এতো শীত ছিল এর পরে পানিতে হাত পা আরো ঠান্ডা হয়ে গেছিল । তাই গরম গরম মাছ ভাজা বেশ ভাল লাগছিল । আমরা একেক জনে ১ কেজির মতো করে মাছ ভাজা খেলাম । চুরির মাছ স্বাদই আলদা কি বলেন ।।।
তবে তখন অনেক মজা পেলেও এখন আমি অনুতপ্ত খুব বেশি অনুতপ্ত
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ৯:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




