somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনর্থক বকবকানি

২৫ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৩:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বরাবরই দলছুট ছিলাম। অভিমানে বুক জ্বালা-পোড়া রোগে আক্রান্ত হয়ে খানিকটা দূরত্বে বসে দেখেছি সচল জটলা। দেখেছি বক্তার মুখ থেকে ঝুড়ি ঝুড়ি বাক্যসম্ভার বেরিয়ে পড়ছে, তারপর থপ থপ করে এদিক ওদিক এগিয়ে পিছিয়ে জায়গা করে নিচ্ছে আনাচে কানাচে, কখনো হাঁচড়ে পাঁচড়ে অমনোযোগি শ্রোতার কান অব্দি বেয়ে উঠার চেষ্টা করে পিছলে যাচ্ছে কতকটা অংশ, কাঁধে চেপে খানিক ইতঃস্তত করে আবার ফিরে যাচ্ছে বক্তার কাছে। ভীষন ব্যস্ত আর বিভিন্ন রকম মুদ্রারত হাতের আঙুলে উল্টা হয়ে ঝুলে থাকে তারা। একাধিক বক্তার সম্মিলিত বাক্যাংশ জমতে জমতে ঝুলতে ঝুলতে শেষ মেষ দলে ভারী হয়ে লম্ফ নৃত্য শুরু করে জটলা ঘিরে। কোলাহলে অনীহা আমাকে আরেকটু তফাতে সরিয়ে নেয়।
চোখ বুজি। দেখি শাল শেগুনের বন। ঘুরে ঘুরে পড়ছে একটা, দুটা... হাজারটা শাদা ফুল। ছোট্ট আমার মত। অথবা আমার নাকফুলের মত। গিরগিটি লুকিয়ে গেলো ওই শুকনো ঝোপে। নিমিষেই রঙ পালটে খটখটে খয়েরী। চোখাচোখি হতেই লাজুক হাসি হেসে ফেলে। চেনে আমায়। ওরই দলের একজন কিনা! কেমোফ্লাজ - ঘাপটি মারা লোক!
লোক জানান দিয়ে নয়, তাই নীরবে তোর চোখপুকুরে ডুবে থাকাতেই ছিল আমার সুখ। বনগোলাপ আর রক্ত করবী খুঁজে পেতে আনবি, কাঁটায় হাত ছড়বি, কাঠগোলাপের মড়মড়ে ডাল ভেঙে চিৎপাত হবি- এই ছিল আমার অব্যক্ত আকাঙ্ক্ষা। ওদিকে গিরগিটিটার মত তুইও একবার পরখ করে নিরীক্ষণ করলি আমাকে। চামড়া আর এক পরত মাংসের আড়ালে ভেতরের কাঠবিড়ালিটাকে চিনলি।
কী করে, বলতো? তোর মনেও কি ছিল একটা চড়ুই ? উড়ুই উড়ুই ছটফটে তুই। রোদের সাথে সমঝতা করে আমায় বললি , "দেখা হবে কুয়াশায়... রুপালি মাছের ঝাঁক যখন কিনারে এসে ধরা দেয়। জলভরা হাতের তালুতে ওদের নিয়ে খানিক খেলা করো তুমি। যদি ভুলে সে জলে আঙ্গুল ডুবোই, ভেবে নিও মাছের লেজেরা বুঝি সুড়সুড়ি দিয়েছে। নরম সূর্য দেখো খেজুরের আঁকাবাঁকা পাতায়। কুয়াশা মিলালে চমকে হঠাৎ পালিয়ে যেও না, কাঠবেড়ালি... হ্রদের জলে মৎসপুচ্ছ আর আমার পাতানো হাতে তোমার কাগজে বন্দী কথামালা রেখে যেও এক ফোঁটা যত্ন করে।"
সপ্ত সহস্র সকাল জুড়ে কুয়াশা পেতে বসে আছি আমি। সরষে ক্ষেতে ভিজে কুয়াশা গড়িয়ে জল নামে চুইয়ে চুইয়ে। সাপেরা খোলস ছাড়ে তালপুকুরে।
ফিরে আয় চড়ুই। বড্ড একলা , দলছুট আমি। গিরগিটিকেও আর পাইনা খুঁজে। চারপাশে শুধু থপথপিয়ে ব্যাঙের মত অনর্থক বকবকানি আমায় তাড়া করে।
অম্ল নয়, অভিমানের জ্বালা বুকে।
অ্যান্টাসিড নয়, চাই তোকে।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×