somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রাপক হীন খোলা চিঠি

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৭ রাত ১২:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জীবনের কাদা মাখা বন্ধুর এই পথ চলতে চলতে আজ আমি বড়ই ক্লান্ত। সাতাশ টি বসন্ত পার করেছি তোমার অপেক্ষায়। হয়নি পরিমিত ভাবে পথ চলা, না হয়েছে ভালবাসি কথাটি বলা। খুজিনি আকাশের ঠিকানা, বাকি রেখেছি সব, রেখেছি হৃদয়ের পাকা খাতায় লিখে, একদিন তুমি আসবে সেদিন হালখাতা করে সব চুকিয়ে নিব। আজও আমি আকাশে পেঁজাতুলা রাশির প্রেমে পড়তে পারিনি, কারণ তো একটাই শূন্যতা। মহৎ বিশাল কোন সরলতাও আজও শুধুই সরলতা আমার কাছে, বাস্তবিক ভালবাসাও টা ঠিক এমনই। কবিতার লাইন গুলাও এখনও আমি ঠিক মতো পড়তে শিখিনি, কেন জান কি তুমি? হ্যাঁ কারণ টা আর কিছু নয়, শুনেছি প্রেমে পড়লে গদ্য ময় কবিতার লাইন গুলা তার ছন্দ ফিরে পায়। আমি এখনো কোন মলিন ইতিহাসের সাক্ষী হতে পারিনি, কারণ তো তুমি, তুমি আমাকে কাছে এসে ভালবাসার কোন কথা না বললে আমি কিভাবে তা শিখব? ভালবেসে তোমায় মলিন কোন ইতিহাসের পাতায় নাম লিখাবো, বিরহের অনলে পুড়ে সাক্ষী হয়ে থাকবে সব অজানা কথা। নক্ষত্রালোকিত নিবিড় বাতাসের সাথে আমার এখনও পরিচয় হয়নি, কারণ তো তুমি, চাঁদনী রাতে বাতাসের সাথে তুমি কখনও আমার স্বপ্নে আসনি, শেখাওনি তুমি কিভাবে রাত জেগে মাতাল হাওয়ার তালে তাল দিয়ে ভালবাসার কথা শুনতে হয়, তাকিয়ে থাকতে হয় দোদুল্যমান উচাটন মন নিয়ে খোলা বাতায়নে। পাখিদের চঞ্চল ডানার শো শো শব্দ অমানিশার রাতের গভীর নীরবতা যদি ভেঙ্গে দিতে পারে, তাহলে আমি কেন এখনও চুপি চুপি প্রতিটি আধার রাতের প্রহর গুলো নীরবে পার করি? চোখ খুলে দেখবার মত সাহস টা আমার মাঝে কে দিবে? কারণ তো তুমি, তুমি আমার কাছে এসে কানে কানে কোনো দিন ভালবাস বলনি, তাই তো আমি আঁধারের মাঝে ভালবাসা খুঁজতে শিখিনি। অন্তিমশরীরিণী মোমের শেষাংশে আলোর তীব্ৰতা কমে আসলেও তবুও সে নিভু নিভু হয়ে আলো দিতে থাকে, অগ্নির মতো প্রদীপ্ত রাশি রাশি ভালবাসা নিয়েও আমাকে একদিন হয়তো নিভন্ত প্রদীপের মত থেমে যেতে হবে, কারণ তো তুমি, কেউ কোনো দিন হয়তো মনের ভুলে আলোক শিখা জ্বালিয়ে দিলেও, সেই আলোয় কবিতার বই নিয়ে তুমি কোন দিন পড়তে আসনি, পুড়তে পুড়তে শেষ হতে বসা প্রদীপ্ত ভালবাসা আজও তোমার অপেক্ষায়। আমার বিলুপ্ত প্রায় হৃদয়, মৃত চোখের দৃস্টি এখনও খুঁজে ওই দুচোখ, মরতে চাই ডুবে ও চোখের চাহনীতে, জানি তুমি আসবে না, যদিও তুমি আস নীরবে, অশ্রু ভেজা ও চোখের জল বাধা মানবে না আমি জানি, কিন্তু এ কথা বলবে না বড় অসময়ে এসেছি আমি আমায় তুমি ক্ষমা কর। কেনই না বলবে, ভালবেসে যাকে হৃদয়ের আপন অংশে ঠাঁই দিতে পারোনি, আজ মৃতপ্রায় সৈনিক সারাটি জীবন যুদ্ধ করে উন্নত শিরে তবুও দাঁড়িয়ে, তাকে ছোট করার মত সৎ সাহস দেখাতে তুমি পারবেনা আমি জানি। হৃদয়ের গম্বুজের বেদনাময় রেখা তোমার, কোন একদিন হয়তো কাউকে তা টপকাতে দিবে, কিন্তু কি জান, সে দিন ঐ রেখা পার হওয়ার আনন্দ উল্লাসে সে মাতবেনা, ওই রেখা পার করাটাকেও সে এভারেস্ট জয় করা ভাববে না, অথচ কতশত সাধনা কত জল্পনা কত কল্পনা ছিল ওই রেখা পেরোবার, বিজয় উল্লাস করা হয়তো হবে না আমারও, কারণ কি জান ? কারণ তো তুমিই। যেদিন গালিচায় রক্তাভ রৌদ্রের ন্যায় মুড়িয়ে থাকবে আমার নিথর দেহ, সেদিন তুমি চাইলেও ছুঁয়ে দেখতে পারবে না। মনের কোনে শত কষ্টের জন্ম দিলেও তুমি পারবেনা কাঁদতে। হয়তো পড়ে থাকবো হিম ঘরে, শান্তনা পেতে দেরি হবে নিজের মনের কাছে, তবুও তুমি থাকবে এমনি, আশ্চর্য আর বিস্ময়ে কাঁদতে থাকবে অন্ধকার বিছানায়।কুয়াশায় সন্ধ্যার ঝাপসা হবে চারিদিক, ঝিঁঝিঁ পোকা ডাকবেনা, আজানের ধনি কিংবা শংখের সুর আসবে কানে, হয়তো আবার নতুন করে মাতবে অন্য কোন গানে, গুছিয়ে নিবে ঝরাপাতায় বাধা ঘর।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই অক্টোবর, ২০১৭ রাত ৮:৩১
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×