somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাজ,ভিসা,আই,পি,সেলারী ঠিক আছেতো?যাচাই করে বিদেশে আসুন।

০৮ ই মে, ২০১৭ দুপুর ২:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাজ,ভিসা,আই,পি,সেলারী ঠিক আছেতো?যাচাই করে বিদেশে আসুন।
জাহাঙ্গীর বাবু
আমাকে অনেকে নানান কথা বলেন।আমি নাকি শ্রমিকদের কাজের কথা লিখে মান হানি করি।আসলে আমি চাই সচেতন করতে।বিদেশের ভুত মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে কষ্টে হলেও নিজ দেশে স্বাবলম্বী হতে।

নীল টুপি ডিগ্রী পাশ, রিগার,সিগন্যালম্যান,স্ক্যাফোল্ডার,সেফটি সুপারভাইজার,ওয়্যার্ক এট হাইট সুপার ভাইজার,স্কাফোল্ড সুপারভাইজার,সেফটি কোর্ডিনেটর সার্টিফিকেটধারী।সকালে টুল বক্স মিটিং থেকে পেপার ওয়ার্ক,পারমিট এমন কোন কাজ নেই করছেনা। দেশে বর্তমানে এই রকম ভুরি ভুরি সার্টিফিকেটধারী বিদেশ ফেরৎ বসে আছে বেকার প্রায় পয়ত্রিশ হাজার।শিপ ইয়ার্ড বন্ধ হচ্ছে,বিল্ডিং এর কাজ কমে যাচ্ছে।তার পরও নতুন আসতে চাচ্ছে। ট্রেনিং স্কুলে ভর্তি হতেই সাড়ে তিনলাখ টাকা এখানে আসা পর্যন্ত দশ বার লাখ বেতন দিনে আঠার ডলার ।মাসে সত্তর থেকে একশ ডলার বাসাভাড়া কেটে নেবে।কাগজে বেশী লেখা থাকবে সেলারীর অংক।লেভী এখন এগারশ । মার্কেট ডাউন ,অনেক কোম্পানী নিরুপায়। পুরাতন আসতে চাইলে লাগছে পাঁচ লাখ এর বেশী।পারমিট এগারো মাসের। যারা একবার আসে তাদের বার বার আসতে হচ্ছে।দেশে সেটেল হতে পারছেনা।



একজন শ্রমিকের সকাল সাড়ে চারটা থেকে রাত বারোটা গাড়ী,কাযে লেগে যায়।এখন আগের মতো নেই।প্রায় ইনবক্সে কিভাবে আসা যায়, জানতে চায়। পুরাতনরাও দেশে থেকে বলে যে কোন ভাবে যেতে হবে,নিয়ে যান।এসেই গন্ডগোল বেতন কম,হার্ড কাজ।টাকা ফেরর চাই। এটা এখন সেরাঙ্গুনের নিত্য ঘটনা। সাপ্লাই কোম্পানী ছাড়া ডিমান্ড ও থাকেনা। আগে যারা চার পাচ হাজার ডলার মাসে ইনকাম করতো এখন আঠারো ডলার এর কাজ করছে।দুই বছর তিন বছর দেশে ছিলো জমা জাতি বিনিয়োগ দেশে লুট হরিলুট। সিঙ্গাপুর আসতে নতুন পুরাতন সাবধান।মিনিষ্ট্রি অফ ম্যান পাওয়ার কাগজে কলমে আইন কানুনে বাস্তবেও স্বচ্ছ।কোম্পানী গুলিও তাদের ডকুমেন্টে পাকা। আপনি আমি ইচ্ছে করেই আসছি। জেনে শুনেই আসছি।আর এখানে এসে পরিবেশ নষ্ট করছি। ওই যে পাশের বাড়ির আবুলের ছেলে বাবুল বাড়ি করেছে,ব্যাবসা করছে, শুধু আমার ছেলে বেকার। আরে সবাই আবুল না বাবুল না,হাতের পাঁচ আংগুল এক সমান না। সবার ভাগ্য রেখা এক না।জোরাজুরি করে ভাগ্য ফেরেনা। বরং কষ্ট ডেকে আনা। আমার বাইশ বছর চাকরী জীবন আপনি গতকাল পাশ করে আমার সাথে তুলনা করা কি ঠিক। ক্লাসের সবাই কি ডাক্তার,ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে। বিদেশের লাগেজ গুলি দেখেই বিদেশে আসার চিন্তা করা কি ঠিক।না খেয়ে মরলে দেশে মরেন বাবার মায়ের কিংবা আপনার আসার জন্য আট দশ লাখ আর মুল্যবান সময় বাঁচবে।

আমরা নিজেরা নিজেদের কৃতদাস ভাবি।ভাবতে বাধ্য হচ্ছি।একটা ছেলে বিদেশে আসতে চাইলে লাখ লাখ হাওলাত দিচ্ছি।দেশে কিছু করতে এক টাকাও দিচ্ছিনা। দেশে থেকে জীবন থেকে শিখতে দিচ্ছিনা। বিদেশে কিছু লোক ভালো ও থাকে। পরিবার নিয়ে থাকে। খবর নিলে জানা যায় তার বিশাল কষ্টের ইতিহাস। যাক, বিদেশে আসবেন আসুন, শতকরা পঞ্চাশ ভাগ ভালো থাকলে বাকী পঞ্চাশের অবস্থা খারাপ।সেই খারাপে আপনার নাম থাকলে আপনি ভুক্ত ভুগি।ফেসবুকের হাসি মাখা ছবি,আলো ঝলমলে ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি দেখে বিদেশের শ্রমিক হবেন না। নোয়াখালি কবির হাটের একজন দেশে দুইটা দোকান উনি এসেছেন।এখন বলছেন প্রতিদিন কানে ধরছেন।আগামী মাসেই চলে যাবেন।ফাকে থেকে দশলাখ আর এক বছর বরবাদ। সাদা রস গোল্লার মতো ফেসবুক প্রফাইল দেশে তোলা ছবির এখন মুখ ঢেকে রাখেন
প্রবাসে ভালো আছেন যারা আছেন, যারা নেই কষ্টে আছেন।যারা আসবেন বুঝে শুনে,ভেবে চিনতে। বিনিয়োগ আর লভ্যাংশ ভেবে আসবেন।ভিসা মানে আই,পি হচ্ছে। রিজেক্ট হচ্ছে।টাকার অংক ও বাড়ছে। হাফ পেমেন্টের পর আই পি কেন্সেলের ব্যাবসাও চলছে।বার বার বলি,এক বার দেশ ছাড়ে যে,মাতৃভুমি তাহাকে পর করে।
অতএব ,এগার মাসের পারমিট,ষোল থেকে আঠার ডলার বেতন পার ডে, ৮/১০/১২ লাখ খরছ করে আসা, ইউ টার্ন হলে কমপক্ষে পাঁচ লাখ খরচ হচ্ছে। এটা চিকিৎসা ঘুরাঘুরির আসা নয়। ব্যাবসা, ঘুষ,রাজনিতির অর্থের শ্রাদ্ধ করা নয়।ভিটে,জমি,সুদের টাকা।বাবা মা ভাই আত্মীয় স্বজনের টাকা। কষ্ট দেহের। আসবেন, আসুন। কাজ,ভিসা,আই,পি,সেলারী ঠিক আছেতো? যাচাই করে বিদেশে আসুন।
সব কাজ করার মানসিকতা রাখুন।ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিন।
বিদেশের মজা নিন।ইচ্ছা মতো গালি দিন আমাকে।
বিভিন্ন সভা,সেমিনার,পত্রিকা,ফেসবুক স্টেটাসে বলি,লিখি, আমি ভুল করেছি আপনার করবেন না।সে ভুল করেছে আপনি করবেন না।
সিঙ্গাপুর সত্যি একটি সুন্দর নিয়মের দেশ,শান্তির দেশ।এ দেশীয়দের জন্য,যাদের অনেক টাকা তাদের জন্য।শ্রমিকদের কিছু অংশ ভালো আছে। বাকী যারা জানে তারাই জানে।
সিঙ্গাপুর

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০১৭ দুপুর ২:১১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×