somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মনে পড়বে তোমায় কিংবদন্তী শিল্পী আব্দুল জব্বার

৩০ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
মনে পড়বে তোমায় কিংবদন্তী শিল্পী আব্দুল জব্বার


জাহাঙ্গীর বাবু

সময়টা সম্ভবত ১৯৮৬ সাল। তখন পড়তাম গাজীপুরের কালীগঞ্জ আর আর এন সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে।বাবা চাকরী করতেন রেলওয়েতে। থাকতাম আড়িখোলা রেলওয়ে ষ্টেশনের কোয়ার্টারে।বাসার পেছনেই কালীগঞ্জ শ্রমিক কলেজ।কালীগঞ্জ তখন মসলিন কটন মিলের জন্য বিখ্যাত।মিলের শ্রমিকদের সন্তানরা পড়বে এখানেই তাই শ্রমিক কলেজ।৯০ এর পর ধ্বংস হয়ে যায় সেই মিল.সে যাই হোক ,ভূমিকা টানলাম কালীগঞ্জের কারণ সেখানেই কাটে আমার দুরন্ত কৈশর। অনেক স্মৃতি সেখানে।

বলেছিলাম সময়টা সম্ভবত ১৯৮৬ সাল।আমি কিশোর লুঙ্গি আর সেন্টু গেঞ্জি পরে সময় কাটতো শ্রমিক কলেজের লম্বা টিন শেড ক্লাস রুমের বারান্দায়।সামনে বিশাল মাঠ। সারি সারি নারিকেল গাছ ,লাল মাটি। মাটির উপর ঘাস। সেখানেই গড়াগড়ি। বিকেল ছাড়াও রাখাল বন্ধুদের সাথে ভর দুপুরে ফুটবল খেলা চলতো ।খেলছিলাম কোন এক দুপুরে।কলেজ ছাত্রদের দৌড়াদৌড়ি। চলছিল বোধকরি নবীন বরণ অনুষ্ঠান। আমি কলেজের কেউনা।লুঙ্গি আর সেন্টু গেঞ্জির রাখাল।শুনলাম শিল্পী আসছে নাম তার আব্দুল জব্বার।

শিশু বেলা থেকেই রেডিও শুনি। অনেকের গান ভালো লাগতো।অনেক শিল্পীর নাম জানতাম। তার মধ্যে আব্দুল জব্বার একজন।সালাম সালাম হাজার সালাম,ওরে নীল দরিয়া , তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়,তারা ভরা রাতে, এমন অনেক গান শুনেছি। কলেজের টিন শেডে পায়া যুক্ত পার্টিশন দিয়ে বিভক্ত করা হতো.অনুষ্ঠানের সময় পার্টিশন সরিয়ে দিলে বিশাল হল রুম। গান চলছিলো। কলেজের প্রফেসর ,ছাত্র ছাত্রীরাও মুগ্ধ হয়ে শুনছেন প্রিয় শিল্পীর গান.আমার ইচ্ছা কাছে থেকে দেখার। টুলের নিচ্ দিয়ে ছাত্রদের পায়ের ফাঁক দিয়ে একবারে স্টেজের সামনে পৌঁছতেই মাইকে বলা হলো ,শেষ গান ,অনুরোধের চিরকুটে লেখাছিলো তারা ভরা রাতে। শিল্পী বললেন,এই গানটা গাইতে কষ্ট হয়.তিনি তখনও অসুস্থ্য ছিলেন। সবার হয় হৈ চৈ ,শিল্পী গাইলেন ,তারা ভরা রাতে ,তোমার কথা মনে পড়ে বেদনায়। গান শেষে হুড়মুড় করে বেরিয়ে গেলো ,আমি তখন ক্ষীণকায় ,কিশোর,বেশ ভূষা রাখালের। শিল্পী যাচ্ছে ,যাচ্ছে গনি আজিজ পরিষদ নয়তো অন্য কোন পরিষদের নেতাদের সাথে আমি দৌড়াচ্ছিলাম।জীবনে সরাসরি একবার দেখেছিলাম।

স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র হতে প্রচারিত সালাম সালাম হাজার সালাম, জয় বাংলা বাংলার জয়সহ অনেক উদ্বুদ্ধকরণ গানের গায়ক স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠশিল্পী, গত শতকের ষাট ও সত্তর দশকের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী, একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক পাওয়া আব্দুল জব্বার আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।আবদুল জব্বার ১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে তাঁর গান গাওয়া শুরু। তিনি ১৯৬২ সালে চলচ্চিত্রের জন্য প্রথম গান করেন। ১৯৬৪ সাল থেকে তিনি বিটিভির নিয়মিত গায়ক হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৬৪ সালে জহির রায়হান পরিচালিত তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘সংগম’-এর গানে কণ্ঠ দেন।১৯৬৮ সালে ‘এতটুকু আশা’ ছবিতে সত্য সাহার সুরে তাঁর গাওয়া ‘তুমি কি দেখেছ কভু’ গানটি জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৬৮ সালে ‘পিচ ঢালা পথ’ ছবিতে রবীন ঘোষের সুরে ‘পিচ ঢালা এই পথটারে ভালোবেসেছি’ এবং ‘ঢেউয়ের পর ঢেউ’ ছবিতে রাজা হোসেন খানের সুরে ‘সুচরিতা যেয়ো নাকো আর কিছুক্ষণ থাকো’ গানে কণ্ঠ দেন। ১৯৭৮ সালে ‘সারেং বৌ’ চলচ্চিত্রে আলম খানের সুরে ‘ওরে নীল দরিয়া’ গানটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের মনোবল ও প্রেরণা জোগাতে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ‘সালাম সালাম হাজার সালাম’, ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’সহ অসংখ্য গানে কণ্ঠ দেন। তাঁর গানে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন।

এ ছাড়া যুদ্ধের সময় তিনি প্রখ্যাত ভারতীয় কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়কে নিয়ে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের পক্ষে জনমত তৈরিতে কাজ করেন। তখন কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ঘুরে প্রেরণা জোগাতে হারমোনিয়াম বাজিয়ে গণসংগীত পরিবেশন করেছেন। সে সময় গণসংগীত গেয়ে প্রাপ্ত ১২ লাখ রুপি তিনি স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ তহবিলে দান করেছিলেন।

সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আবদুল জব্বার ১৯৮০ সালে একুশে পদক ও ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার পান।(সূত্র:প্রথম আলো )

অনেক দিন জীবনের সাথে যুদ্ধ করলেন।কেন সরকারি ভাবে দেশের বাইরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হয়নি ? প্রশ্নটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই করছেন .আমাদের দেশের মুক্তি যোদ্ধা সংগীত শিল্পী ছিলেন আব্দুল জব্বার। কত চ্যানেল দেশে। নিশ্চয়ই প্রত্যেক চ্যানেলে তার গাওয়া গান পরিবেশিত হয়েছিলো ,তারা কি এগিয়ে এসেছিলো ?আজ ৩০ আগষ্ট ২০১৭ সাল। সকালে চলে গেলেন পরাজিত হয়ে.চ্যানেল গুলিতে চলছে তার স্মরণে অনুষ্ঠান। পাবে টি আর পি। কি পাবেন শিল্পী আব্দুল জব্বার ?

তিনি পরিবার ভক্ত অনুরাগীদের মাঝে বেঁচে থাকবেন তার গানের মাঝে। এ দেশটা স্বাধীন হয়েও বিভক্ত হয়ে যায় ! আমি জানিনা, শিল্পী আব্দুল জব্বার সেই বিভাজনের কারণে কি মৃত্যুকালে চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় সহোযগিতা পেলেন না ?

শিল্পী তোমায় হাজার সালাম।স্বপ্ন ভাঙলেই মনে পড়বে তোমায় ,তারা ভরা রাতে মনে পড়বে ,বেদনায় মনে পড়বে কিংবদন্তী শিল্পী আব্দুল জব্বার।

৩০-৮-২০১৭ ইং
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে আগস্ট, ২০১৭ রাত ১০:৪৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×