গাজীপুরে ধর্ষণের পর নার্সারিতে পড়া শিশুকে মাথা থেতলে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
জাহাঙ্গীর বাবু
কার কাছে চাইবো বিচার?কি করে হবে প্রতিকার?মানবতা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? নারী কিশোরী যুবতী ধর্ষণের সাথে বহুগুনে বেড়ে যাচ্ছে শিশু ধর্ষণ। সামাজিক অবক্ষয়,মাদকের বেসামাল উপদ্রবকে দোষারোপ করেই কি থামানো যাবে শিশু ধর্ষণ। অনিরাপদ আজ পথ ঘাট পাড়া মহল্লা গ্রাম শহর।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম,অনলাইন,প্রিন্ট,স্যাটেলাইট মিডিয়ায়,মানববন্ধন,মিছিল,মিটিং এ প্রতিবাদ,প্রতিরোধের চেষ্টা নেহায়েৎ কম নয়।তবু কেন কমছেনা,বন্ধ হচ্ছেনা,খুন,ধর্ষন।
আজকের নৃশংস হত্যাকান্ডের দুঃসংবাদ পেলাম সিঙ্গাপুর প্রবাসী বন্ধু লিয়াকতের টেলিফোনে।ছবি গুলি পাঠিয়ে কেঁদে কেঁদে বললেন ভাই,কিছু লেখেন,আপনার কলমে অনেক জোর! নিউজ করেন।ফোন করলাম লিয়াকতের চাচাত ভাই তাহির মামা রাসেল ভাইকে।অনুমতি চাইলাম ছবি প্রকাশের।তিনিও ভারাক্রান্ত গলায় বললেন ভাই কিছু লেখেন,আর যেন কোন তাহির অকাল প্রয়ান না হয়।আর যেন কোন বাবা মায়ের কোল খালি না হয়।আসলেই কি আমার এই লেখায় পরিবর্তন আসবে? ঘটনার বিবরণে জানা যায় নিন্মের ঘটনা প্রবাহ।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের শরীফপুরের সোন্ডা এলাকা থেকে তাফান্নুম তাহি নামে এক নার্সারি ক্লাসের ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানা পুলিশ ওই এলাকার কাশফুলের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে। পুলিশের ধারণা তাহিকে কোনো দুর্বৃত্ত ফুসলিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে তাকে হত্যা করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।
তাহির বড় বোন ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী তানিমা তাহসিন তানহা জানায়, বাসার কাছাকাছি তাদের নানার বাড়ি। আমরা দুই বোন ছাড়া আমার মা-বাবাসহ সবাই নানার বাড়িতে ছিলেন।
রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছোট বোন তাহি নানার বাড়িতে গিয়ে গোসল করতে চাইলে তাকে এগিয়ে দিয়ে তানিমা বাসায় চলে যায়। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নানার বাড়িতে যায়। কিন্তু নানার বাড়িতে তাহিকে দেখতে না পেয়ে খোঁজ করে। কিন্তু বাড়ি ও আশপাশের কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে বাচ্চারা বাড়ির পার্শ্ববর্তী কাশফুলের জঙ্গলে তাহির নিথর মরদেহ দেখতে পায়।
গাছা থানার এসআই মো. কবির উদ্দিন জানান, বিকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে তিনি গাজীপুর সিটির শরীফপুরের সোন্ডা এলাকা থেকে তাহির লাশ উদ্ধার করেছেন।
তাহি স্থানিয় মাতৃছায়া আইডিয়াল স্কুলের নার্সারি ক্লাসের ছাত্রী। তার বাবার নাম মো. হুমায়ূন কবির। মা আবেদা সুলতানা রুমা ওই স্কুলে শিক্ষকতা করেন।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, তার ধারণা তাহিকে কোনো এক দুর্বৃত্ত ফুসলিয়ে নিয়ে ধর্ষণ করার পর জানাজানির ভয়ে তাকে হত্যা করে সেখানে লাশ ফেলে পালিয়ে গেছে।
ইট দিয়ে তার মাথায় আঘাত করায় মগজ বের হয়ে গেছে। মরদেহের পাশ থেকে রক্তমাখা একটি ইট উদ্ধার করা হয়েছে।
সুরতহাল শেষে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাহির মামা আসাদুর রহমান রাসেল বাদী হয়ে গাছা থানায় মামলা করেছেন।
রিশা,তনু,মিতু সহ অনেক ধর্ষন হত্যাকান্ডে লিখেছি কবিতা,করেছি মন্তব্য প্রতিবেদন,আজ তেমন কিছু লিখতে পারিনি।শুধু হাত কাঁপছে। কার কাছে চাইব বিচার। আমিও কন্যার পিতা।নিজের গায়ে আঁচড় না লাগলে আমরা প্রতিবাদ করিনা,চুপ থাকি।বেড়ে চলে অন্যায়।
আল্লাহর কাছেই দিলাম বিচার।বন্ধ করো আল্লাহ তোমার কুদরতি ইশারায়, বাকীটা রইলো বিচার ব্যাবস্থার উপর।যদি আমার দাবী ধর্ষনের শাস্তি হোক ফাঁসি।
মনে হয় সতের কোটি জনতার কাউন্সিলিং দরকার।ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সংবাদ হয়েছে দেখলাম,আশাকরি আমার পরিচিত পত্রিকাও খবর প্রকাশিত হবে প্রতিবাদ স্বরুপ।আমার নাম না দিলেও তাহির রুহের মাগফেরাত কামনা করবেন সবাই।অসহায় জনজীবনে অনিরাপদ জনপদে আরো সচেতন হতে হবে অভিভাবকদের।
সিঙ্গাপুর প্রবাসী
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


