somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বাবু
ঘামের কালিতে হৃদয়ের কোরা কাগজে লিখি শ্রম সাহিত্য

লাশের পাশে আপনিই যাবেন না,যেতে পারবেন না।

১০ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৫:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
ঘরে থাকুন,নিজের পরিবারের মৃত্যুর কারন হবেন না!

লাশের পাশে আপনিই যাবেন না,যেতে পারবেন না।


জাহাঙ্গীর বাবু

এ সময়ে প্রতিটি পরিবার নিশ্চিত করবে তার পরিবারের ঘরে থাকা,সময়টা স্বাভাবিক নয় বুঝতে হবে। শহরের পাশাপাশি গ্রামে ঘরে ঘরে আত্মঘাতী করোনার বিস্তার চলছে মহাসমারোহে।

সময়, সুযোগ থাকার পর ও পরিবারের লোকজন করোনার ভয়াবহতা বুঝার চেষ্টা করেন না,করছেন না,আফসোস ও কম পড়ছে তাদের জন্য।আমি নিজেই দেখছি এগিয়ে আসছে আমার দিকে মৃত্যু দানব। যদিও প্রতি মুহুর্তেই মৃত্যু মুহুর্ত।আজরাইলতো আছেই আল্লাহর ইশারার।

মৃত্যু! গাড়িতে উঠতে,রাস্তা পার হতে,গাড়িতে চলতে,চড়তে কখন জানিনা,এই দেহে ডায়াবেটিক সহ কত রোগের বাস,বেঁচে আছি মহান স্রষ্টার করুণায়। ইন্সুলিন,ট্যাবলেট কত কিছু চলে বাঁচার লিপ্সায়।

করোনা নামের ক্ষুদ্র ভাইরাস মনুষ্য সৃষ্ট নাকি প্রাকৃতিক এ নিয়ে মতভেদ, আল্লাহর হুকুম ছাড়া এক ধুলি কনাও নড়ে না,ব্যাস,সবইতো আল্লাহর হুকুম।

অদৃশ্য এই করোনা ভাইরাসে ফুসফুসটাকে ঝাঁঝরা করে,নিশ্বাস বন্ধ করে দেয়,শুরুটা নিত্য অসুখ জ্বর সর্দি কাশি। সামান্যতেই অসামান্য আক্রমন।

সরকারের নিষেধ মানছেন না,ঘরে ঘরে আবেগ ভালোবাসার ঠেলাঠেলি,মারা গেলে লাশটাও কাঁধে নিতে পারবেন না,যদি দয়া করে কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে আসে তাহলে কবর না হয় মাটির গর্ত পাবেন, নাইলে কুকুর বিড়ালের মতো মরবেন! তাও বাইরে যাচ্ছেন,আসছেন,নিজের মা,বাবা,সন্তান,স্ত্রী,আত্মীয়দের, পাড়া প্রতিবেশীদের,দেশকে এই ভাইরাসে আক্রান্তের মাধ্যম হচ্ছেন!কিছু প্রয়োজন তো থাকেই,সরকরাও খাদ্য আর চিকিৎসার জন্য ছাড় দিয়েছে।

আর্মি,পুলিশ দিয়ে কি হবে? নিজের ঘর নিশ্চিত করুন,সরকার একা কি করবে, এখনো গ্রামে ঘরে ঘরে চলে উৎসব,যতটুকু পারেন চেষ্টা করেন না কেন? এক সারিতে বসে মাথার উকুন বাছতে বাছতে সংসারে আগুন লাগানো গল্প না করে, ছোট বাচ্চাদের কিশোরদের ঘরে রাখার চেষ্টা করেন না।

বৃদ্ধ মা বাবা মুরুব্বীদের এক ঘরে রাখুন,বাজার থেকে এসেই ছোট শিশু বাচ্চাকে জড়িয়ে না ধরে কাপড় গুলো ধুয়ে দিন পরিস্কার হোন তারপর তার কাছে যান।

আমিরিকা,ইটালী ফ্রান্স শেষ হয়ে যাচ্ছে,মক্কা মদীনায় ইবাদত বন্ধ সে কবে, নিজের দেশের মসজিদ,মন্দির,গীর্জা উপাসনালয় জমায়েত বন্ধ, তাও চলছে স্বাভাবিক চলাফেরা,বাজার,চায়ের আড্ডা বুঝতেছেন না সময়টা অস্বাভাবিক।


অতি লোভী মালিকগং,কিংবা দায়বদ্ধ মালিক গন ফ্যাক্টরী চালাচ্ছেন,কারখানা চালাচ্ছেন! এ সময়ে চাকরী হারাবার ভয়ে আমরা না হয় প্রতিদিন, প্রতিমুহুর্তে করোনার উপসর্গ আর ট্রান্সমিশন,বাহক হিসাবে আছি,কাজ করছি,আমাদের বসেরাও মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চালাচ্ছেন প্রতিষ্ঠান,নিজেরাই নিজেদের সাথে করছেন প্রতারণা,সরকার ও পারছেনা মিল ফ্যাক্টরি শতভাগ বন্ধ করতে।যখন করবে তখন আর সময় থাকবেনা।যারা প্রতিষ্ঠান চালায় প্রতিদিন কিংবা মাঝে মাঝে অফিসে আসে তারা ভয়ংকর অবস্থানে আছে।তারা ভাইরাস পরিবাহি ও বটে,আসলে প্রত্যেক প্রাণীই ভাইরাস পরিবাহী।আমিও।কতো যানবাহন লোহা লক্কড়, প্লাস্টিক সামগ্রী, ভাইরাস পরিবাহী,শিল্প কারখানায় কত ট্রাক আসে প্রতিদিন কতো ট্রাক বের হয় মালামাল নিয়ে,সব কিছুই ভাইরাস পরিবাহী।

অফিসার বসেরা প্রতিদিন আসে যায় বাস,মাক্রোবাসে, এ শহর ও শহর থেকে, পাশের কক্ষেই দু চার দিন পর সহকর্মীদের চেহারা বদলায়,নাম বদলায়,তিন ফুট দুরত্বে থেকে কথা বলি,এক দুই জেলা দুর থেকে আসলে চৌদ্দ দিনের কোয়ান্টারেন এ থাকি, প্রতি বার আসা যাওয়ার পথে হাত ধুই সাবানে,নাকে পলিমার না হয় কাপড়ের আচ্ছাদন, মাঝে মাঝে ট্রাকের চাকায় ব্লিচিং এর হিস্যু,কতো নাটক চাকরী রক্ষায়,নিজেই মাইকিং করি নিরাপদে থাকুন।নিজের ক্ষতি নিজেই করছি।

সাহায্য নিতে দিতে,কর্মক্ষেত্রে আসতে,যেতে লক্ষ্য লোকের আমিও একজন,গ্রাম থেকে শহর,শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে দিচ্ছি ভাইরাস। গরীব ক্ষুদার জ্বালায় হেঁটে গন পরিবহনে,ধনী খুশিতে ঠেলায়,প্রাইভেট কার,মার্সেডিজে। দোয়া,মোনাজাতে,অফিস-আদালতে,গাড়িতে,বাজারে অলিতে গলিতে,চায়ের আড্ডার ভীড়ে ঠেলাঠেলি করে সামাজিক দুরত্বের বারোটা বাজাচ্ছি।

মসজিদের মিম্বরে বসে দাঁড়িয়ে ইচ্ছা মতো বলেছেন,মসজিদ বন্ধের ষড়যন্ত্র!ফেসবুক ইউটিউবে পরিস্থিতি না বুঝেই বলেছেন, করোনা ভাইরাস ইহুদীদের জন্য, কেউ আবার করোনার চেয়ে শক্তিশালী,তারাই ইঁদুরের গর্তে।

টকশো,ভাষনে,মিথ্যার সাথে করেছেন বেসাতী,উৎসবে মেতে বিমান বন্দরের পাহারায় গাফেলতি,কোয়ান্টারেনের নামে জ্বর মেপেই দিয়েছেন খালাস,উদ্যত আচরনে লজ্জিত করেছে কোটি প্রবাসীকে, বাথরুমের মতো নোংরায় করেছেন কোয়ান্টারেন, ডাক্তারের নাই পি পি ই,নাই ভেণ্টিলেশন ও এটাতো লন্ডন আমেরিকায়ও নেই,কম আছে আমরাতো বেটার পজিশনে আছি। যদিও মৃত্যুর তালিকা হচ্ছে দীর্ঘ,যানবাহন বন্ধ না করে দিয়েছেন ছুটি,হুট করে নিয়ে এলেন শহরে,আবার পাঠালেন,কত বিতলামি আর বাইচালি,কত বড় হারামীপনা করলেন এখন প্রতি ঘরে ঘরে ভাইরাস ছড়িয়ে চলছে লকডাউন,তবু সবার সাবধানতায় যদি কিছু প্রাণ রক্ষা হয়!

যারা গ্রামে,শহরে নিজ বাসস্থানে আছেন তারা নিজের পরিবারের মৃত্যুর কারন হবেন না।সময়টা স্বাভাবিক না।আবেগ ভালোবাসার নয় সময়টা, সময়টা সচেতনতার,বেঁচে থাকার,বাঁচিয়ে রাখার।জন্ম,মৃত্যু আল্লাহর হাতে,আল্লাহই বলেছেন, চেষ্টা করতে,সচেতন হতে।
একান্নবর্তী পারিবারিক দুরত্ব নিশ্চিত প্রয়োজন সবার আগে,নিজেরাই বন্দী করুন নিজেকে, দেখবেন সরকার, আর্মি,পুলিশ অন্য সাহায্যের দিকে মনোনিবেশ করবে। এটা আনন্দ উল্লাসের সময় নয়,ধৈর্য্যের সময়,ইবাদতের সময়। আমি,আমরা কেউ জানিনা কে বহন করছি এ করোনা ভাইরাস,এই ভাইরাস বড়ই চরিত্রহীন।সাবধান,কলংক দিবেনা,দিবে মৃত্যু। দিবে জানাজাহীন, প্রিয়জনের স্পর্শহীন মৃত্যু।নিজেরাই নিশ্চিত করুন নিজেদের কোয়ান্টারেন, আইসোলেশন।বন্ধ করুন মাখামাখি।আড্ডাবাজি,দেখাদেখি।বন্ধ করুন নিজেরাই নিজেদের পি মারা,আসুন অন্যকে আঙ্গুল না দিয়ে নিজের আঙ্গুল পরিস্কার করি। প্লীজ।
৯-৪-২০২০
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০২০ বিকাল ৫:২১
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ সময়ের ব্যবধানে তারা দুজন

লিখেছেন সামিয়া, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ১১:৫৩



কোর্টের সামনের চত্বরে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। দুপুরের রোদটা তখন কিছুটা নরম হয়েছে। মানুষের ভিড়, আইনজীবীদের কালো কোট, চায়ের দোকানের ধোঁয়া আর ফাইল হাতে ছুটে চলা লোকজন মিলে জায়গাটা যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×