somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জাহিদুল হক সুবন
এই শহরে অনেক হাজার হাজার ছেলে আছে যারা চুপচাপ থাকে, কথা কম বলে। পৃথিবীতে তারা বোকা, লাজুক, হাঁদারাম নামে পরিচিত। আমাকে এর সাথে তুলনা করলে তেমন একটা ভুল হবে না। নিজের ব্যাপারে বলাটা অনেক কঠিন। তবে নিজেকে মাঝে মাঝে অনিকেত প্রান্তর ভাবি।

গল্প: বোকা মেঘ

২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাকে কান ধরে উঠবস করিয়ে শিউলি কি মজা নিচ্ছে আমি বুঝি না। চার বার কান ধরে উঠবস করে বললাম "তোর কপালে জীবনেও ভালো জামাই জুটবে না।" সে আমার দিকে তার চেহারায় বিরক্তিকর একটা ভাব নিয়ে বললো "সামনে একটা রিলেশনে জড়াবো বুঝছিস? হেন ত্যান রিলেশন না। একদম সিরিয়াস। আমি যে কোচিং এ পড়ি সেখানের ছেলে। নাম আফরাজ। ছেলে সাতদিন আগে প্রপোজ করেছে। একটু ভাব নিছি। বলছি কিছুদিন ভাবতে দাও। ছেলে মাশাআল্লাহ। আমার সাথে যায়। তোর মত আবুল না।" আমি কান ছেড়ে দিয়ে ওর পাশে গিয়ে বসে বললাম "দোস্ত আমার মত তোরে কেউ ভালোবাসবে না। কিন্তু রিলেশনে যখন জড়াতে চাচ্ছোস ভালো কথা।আজকে একটা ট্রিট দে। বহুদিন হলো তুই খাওয়াস না।" শিউলি একটু রেগে বললো "তোর কি লাজ শরম বলতে কিছু নাই? একটু আগে না কান ধরাইলাম। আবার ধরাবো? শোন আমি কিন্তু খুব সিরিয়াস। ঐ ছেলের সাথেই রিলেশন করবো। তুই কোন প্রকার ঝামেলা করবি না। আর এখন থেকে আমার সাথে হাটলে একটু দুরুত্ব বজায় রেখে হাটবি ঠিকাছে? না হয় ছেলে মাইন্ড খাবে।" আমি ওর দিকে তাকিয়ে গাধার মত চুপ করে থাকি। মাঝে মাঝে ভাবি শিউলি ছাড়া আসলে এই শহরটায় আমার কেউ নেই। বন্ধু বান্ধব যে নেই তা না। কিন্তু আমার সবচাইতে প্রিয় বন্ধুটা হচ্ছে শিউলি। আমি বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে। আমার বাবা একজন বেসরকারি কলেজের পিয়ন। কোন রকম দিন চলে। আমাকে নিয়ে তাদের কত চিন্তা কত আশা। মা কিছুদিন পর পর ফোন করে বলে “আব্বা তোমার শরীরটা ভালা। টাকা পয়সা লাগবো?” আমি প্রতিবার মাকে এই কথার উত্তর দিতে পারি না। কথার প্রসঙ্গে বদলে বলি “লাগলে বলবো।পড়তেছি তো এখন রাখি।” আমি আমার মায়ের সাথে মিথ্যা কথা বলি। আমার খুব কষ্ট লাগে খুব। মিথ্যা কথা বলি যে তার একটা কারন আছে। আমি মায়ের এমন কথা সহ্য করতে পারি না। তাই অযুহাত দিয়ে ফোন রেখে দেই। গতবার যখন বাড়িতে গিয়েছিলাম বাবার চশমার একটা গ্লাস ফাটা দেখেছিলাম। আমি বলেছিলাম “এটা বদলাও না কেন?” বাবা একটা হাসি দিয়ে বলেছিল “তোমার রেজিষ্ট্রেশন ফি কতজানি?” আমার খুব খারাপ লাগছিল। নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছিল। আমি কেমন একটা সন্তান? যে বাবার জন্য একটা চশমাও কিনতে পারি না। শহরে এসে এই কথা গুলো যখন আমার বিষন্ন মন নিয়ে শিউলিকে বলেছিলাম ও আমার গালে একটা চড় মেরে বলেছিল “আমাকে বলে গেলে হতো না? আমি ফোন দিলাম তাও ধরিস নাই। এখন কোন সাহস নিয়ে বলিস?” আমি কিছু বলিনি। শুধু গালে হাত দিয়ে ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। তারপর ও আমার কাছে চশমার পয়েন্ট জানতে চায়। এর ঠিক চারদিন পর আব্বা আমাকে ফোন দিয়ে বলে “বাজান তোমাকে চশমা কিনতে কে বলছে? আমার ফাটা চশমাটাই তো ভালো ছিল। ক্যান এতোগুলা টাকা নষ্ট করলা? কিন্তু চশমাটা খুব পছন্দ হইছে। চশমাটা যখন চোখে দিছি তখন মনে হয়েছে তুমি আমার আশে পাশে আছো।” আমি কি বলবো কিছুই বুঝতে পারিনি। পরে জানলাম শিউলিই চশমাটা পাঠিয়েছে। আমি যখন জিজ্ঞেস করলাম “কেন পাঠাইছিস?” সে আমার দিকে তাকিয়ে বলে “ওই এমনি পাঠাই নাই অপদার্থ। যখন তুই চাকরি করবি তখন সুদে আসলে সব শোধ করে দিবি বুঝছিস?” আমি সত্যিই একটা অপদার্থ। আর এই মেয়েটাই আমাকে বলে দুরুত্ব বজায় রেখে হাটতে। ওর সাথে আমি কত দুষ্টামি করি। মজা করি। আমরা শুধু খুব ভালো বন্ধু এছাড়া আর কিছু না।এই দুরুত্ব বজায় রাখতে আমি জানি আমার একটু খারাপ লাগবে। কিন্তু সময়টা যখন মানুষকে পথ দেখিয়ে দেয়। জীবনে কেউ একজন আসে তখন দুরুত্বটা এমনিতেই হয়ে যায়।আমি সময়ের দিকে তাকাই। দুপুর তিনটা বাজে। এই সময়টায় আমার একজনের সাথে দেখা করার কথা। গতকাল আমি একটা ভ্যানিটি ব্যাগ পেয়েছি।কিছু কাগজ পত্র আর টাকা পয়সা ছিল।সাথে একটা বায়োডাটাও ছিল। নাম আয়শা কাশফী। সেখান থেকে নাম্বারটা নিয়ে যখন ফোন করলাম ওপাশ থেকে মেয়েটা খুব অস্থির হয়ে বলেছিল “আপনার যা টাকা পয়সা দরকার সব নিয়ে নিন। ওখানে আমার পাসপোর্ট আছে। ওগুলা দিয়ে দিন প্লিজ।” আমি বললাম “আমি আসলে ব্যাগটা পেয়েছি। আমার এগুলোর প্রতি কোন লোভ নেই।কাল তিনটার সময় দেখা করুন দিয়ে দিব।” উনাকে বলে দিয়েছিলাম কোথায় দেখা করতে হবে। আর এই কথা গুলো আমি শিউলিকে জানাইনি।শিউলি আমার সামনে থেকে অনেক আগেই উঠে চলে গিয়েছে।

পরবর্তী আধঘন্টা পর এই স্যাত স্যাতে রোদের মাঝে আয়শা কাশফীর সাথে আমার দেখা হয়। আমাকে দেখে উনি একটা সস্থীর নিশ্বাস নিয়ে বললো “আমার অনেক ভালো লাগছে জানেন।আমি যখন ব্যাগটা হারিয়ে ফেলেছিলাম কি করবো বুঝতে পারছিলাম না।কেমন করে হারালো তাও খেয়াল নেই। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জনাব।” আমি একটু চুপ করে থেকে ব্যাগটা উনাকে দিয়ে বললাম “সব ঠিকঠাক আছে কিনা দেখে নিন।” উনি একটা হাসি দিয়ে বললো “দেখতে হবে না। আপনাকে আমার কেন যেন বিশ্বাস হচ্ছে। কি নাম আপনার?” আমি বললাম “আদনান হাবিব। ডাকনাম আদনান।” তারপর দুজনেই চুপ করে রইলাম। কি মনে করে যেন আমি বললাম “একটা কথা বলি হ্যাঁ।” কাশফী মাথা নেড়ে বুঝায় বলুন। আমি বললাম “ক্ষুধা লেগেছে। কিছু খাওয়া হয়নি। আমি যে ম্যাসে থাকি ম্যাসের বড় ভাই বাড়িতে গিয়েছে।পকেটে কোন টাকাও নেই।একটা টিউশনি করাই।এখনো বেতন দেয়নি। আপনি যদি কষ্ট করে আমাকে দুপুরের খাবারটা খাওয়ান উপকার হবে।” কাশফী কিছুক্ষন আমার দিকে তাকিয়ে থাকলো। আমি জানি আমার এই রকমটা বলাটা একদম উচিৎ হয়নি।নিজেকে কেমন যেন ফকির ফকির লাগছে।এই রকম বলাটা কি আমাকে মানিয়েছে? কাশফী স্বাভাবিকভাবেই একটা হাসি দিয়ে বললো “বুঝতে পেরেছি। কোন ব্যাপার না।আপনি আমার উপকার করেছেন। আমি না হয় আপনাকে এইটুকুই উপকার করি।উপকারে উপকারে কাটাকাটি হয়ে যাবে কি বলুন।” আমি আমার ফকির মার্কা দাঁত গুলো দেখিয়ে একটা হাসি দিলাম।তারপর কাশফী নামের এই মেয়েটা আমাকে দুপুরের খাবারটা খাওয়ায়।খেতে খেতে ওর সাথে টুকটাক কথা বলেছিলাম।আমার জীবনের কিছু গল্প। যখন চলে আসছিলাম তখন উনি আমাকে বললো “এই এক হাজার টাকা রাখুন।আপনি আমার অনেক উপকার করেছেন।আপনার অবস্থাটা আমি বুঝতে পেরেছি। আপনার কাজে লাগবে।” আমার কেন যেন এই টাকা দেওয়ার ব্যাপারটা খারাপ লাগছে। আমি বললাম “মাফ করবেন।আমার ব্যবস্থা আমি করে ফেলবো।আসলে আমি দুঃখিত। আপনাকে ব্যাগটা দিয়েই আমার চলে যাওয়ার উচিৎ ছিল।” কাশফী একটু আমার দিকে কেমন করে যেন তাকিয়ে হাসলো তারপর বললো “এই আপনি কি ভাবছেন বলুন তো।আমি কি মন খারাপ করে দিলাম? আচ্ছা আচ্ছা স্যরি। টাকাটা নিন।এখন তো টাকা নেই পকেটে তাই না? কিভাবে চলবেন? কিছুদিন পর টাকা পেলে আমার টাকাটা আবার আমাকে দিয়ে দিয়েন।ঠিকাছে?” আমি চুপ করে তাকিয়ে থাকি।এই সামান্য ঘটনায় এমন একটা মেয়ের সাথে আমার পরিচয় হবে আমি ভাবতে পারি না। মনে হচ্ছে আমাদের আগেও কত কথা হয়েছিল।আমরা একে অপরকে চিনি, আমাদের কষ্টের কথা একে অপর বুঝতে পারি। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললাম “শুধু হাওলাত নিচ্ছি কেমন?” সে শুধু টাকাটা দিয়ে হাসলো। আমি চুপ করে তাকিয়ে থাকলাম।

রাত আটটার সময় শিউলিকে যখন আমি ফোন দিলাম তখন দেখলাম ফোন ওয়েটিং।আমি জানালার কাছে যাই। জানালা ধরে ভাবি আজকে কত তারিখ।প্রতি মাসের দশ তারিখ আমাকে টিউশনির টাকা দেয়। আজকে মোটে আট তারিখ। মায়ের কথা মনে পড়ে। মা ইদানিং আমায় নিজ থেকে ফোন দেয় না। আজকে সকালে আমি একবার ফোন করেছিলাম।বাবা ফোনটা ধরেছিল। আমি যখন বললাম “কেমন আছো বাবা?” বাবা বললো “ভালো আছি বাজান।” তারপর কিছুক্ষন কথা বলার পর যখন বললাম “মা কই?” বাবা কিছুক্ষন ঝিম মেরে ছিল। বললো “কাজ করতেছে। পরে কথা বলবে তোমার সাথে।” আমার কেন যেন বিষয়টা অন্যরকম লাগলো।বাসায় কাজ করলে কি কথা বলা যায় না?এর একটু পরই আমি মায়ের কাশি শুনতে পাই।বাবাকে বলি “মায়ের কাশি তাই না?” বাবা চুপ করে ছিল। আমি আবার বললাম “কাশি এইজন্য আমার সাথে কথা বলবে না? আমি চিন্তা করবো এই জন্য?” বাবার কেমন যেন নিশ্বাসের শব্দ পেলাম আমি।তারপর একটা গোঙরানী দিয়ে বললো “বাজান এতো কিছু বুঝতে নাই। এই হালকা পাতলা কাশি ঠিক হয়ে যাবে।তুমি চিন্তা করবা না একদম করবা না।” আমি আস্তে করে লাইনটা কেটে দিয়েছিলাম।আমার এই ভালো বাবা মা গুলো এমন কেন? আমার কান্না আসে খুব কান্না আসে। আমার ভালো বাবা মায়ের জন্য। তোমরা কি জানো তোমরা আমার একটা পৃথিবী? এইটা আমি তোমাদের কখনো বুঝতে দিব না।একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আমি আবার শিউলিকে ফোন দিয়ে দেখি ওয়েটিং। এর কিছুক্ষন পর আমি আবার ফোন দিলাম। আসলে ওর কাছে আমার নোট খাতা। ওকে এই টুকুই বলার জন্যই ফোন দিচ্ছি নোট খাতাটা যেন আগামীকাল ক্লাসে নিয়ে আসে।তিনদিন ধরে আমাকে ঘুরাচ্ছে আজকে না কালকে দিব বলে বলে।কিন্তু ও কার সাথে এতো কথা বলছে? মুহুর্তেই আমার কেন যেন একটু খারাপ লাগতে শুরু করেছে। আশ্চর্য ওর ফোন ওয়েটিং হলে আমার কেন এই রকম খারাপ লাগবে? এই খারাপ লাগার কারণ কি? আমি চুপ করে বসে থাকি। পনেরো বিশ মিনিট পর ও নিজেই ফোন দিয়ে বললো “কি হয়েছে? এতো ফোন দিচ্ছিস কেন? আজব তোর জন্য কি একটু ভালো করে প্রেম করতে পারবো না?” আমি একটু ইতস্তত হয়ে বললাম “আসলে আমি খুব দুঃখিত।দোস্ত কালকে আমার নোট খাতাটা নিয়ে আসিস কেমন? এই জন্যই ফোন দিচ্ছিলাম।তুই আবার প্রথম থেকে প্রেম শুরু কর। আমি রাখি।” ওকে কিছু বলতে না দিয়েই আমি ফোনটা কেটে দেই।অদ্ভুত একটা কালো ছায়া আমার ভিতরটাকে ছুয়ে দিল। এই ছায়ার নাম কি মন খারাপ?

রহিম চাচার টঙ্গের দিকে আসতেই একবার মনে মনে ভাবলাম কাশফী যে এক হাজার টাকা দিয়েছে তার মধ্যে থেকে তিনশত টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে।মানি ব্যাগে সাতশত টাকা আছে।পকেটে যখন টাকা থাকে না তখন কত দুপুর গেছে এই রহিম চাচার দোকানে চা আর বন খেয়ে দুপুর কাটিয়েছি।ভার্সিটির গেইটের কিছুটা দুরেই রহিম চাচার চায়ের টঙ্গ।ভাবলাম হোটেলে ভাত খাবো নাকি চা বন খাবো? এই গুলা ভাবতে ভাবতেই যখন হাটছিলাম শিউলি পিছনে রিকশার উপর থেকে ডাক দিয়ে বললো “ওই রিকশায় উঠ।” আমি ওর দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলাম তারপর বললাম “আজকে তোর সাথে কোথাও যেতে ইচ্ছে করছে নারে।” সে বললো “উঠতে বলছি উঠ। তোরে বলছি না আমার কথার কখনো না করবি না।চড়াইয়া তোর দাঁত ফেলে দিব আমি।” আমি একটু চুপ করে থেকে রিকশায় উঠতে রিকশা ওয়ালা মামা প্যাডেল চেপে টান দেয়। আমি বললাম “তুই আমার সাথে সব সময় এই ভাবে কথা বলস কেন? তুই একটা মেয়ে মানুষ মেয়ে মানুষের মত থাকবি।সব সময় জ্বলে উঠিস। আর এই যে রিকশায় বসে যাচ্ছি তোর আফরাজ দেখলে তো মাইন্ড খাবে।” শিউলি আমার কথা শুনে হাসতে হাসতে বললো “তোমার সাথে আমি কেমন করে কথা বলবো বাবু?” আমি চুপ করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকি।রিকশায় চড়ার সময় আমি সব সমময় পুরোটা পথ ওর দিকে তাকিয়ে থাকি। বাতাসে যখন ওর খোলা চুল গুলা উড়তে থাকে আমার অদ্ভুত ভালো লাগা কাজ করে। আমার চুপ থাকা দেখে বললো “লাঞ্চ করছিস?” আমি মাথা নেড়ে না সুচক ইশারা দেই। ও বললো “আমি জানতাম করস নাই।এই জন্য রিকশায় উঠতে বলছি।” আমি কি বলবো বুঝতে পারি না। শিউলি কেমন কের যেন আমার এই বিষয়টা বুঝে ফেলে। ও প্রায় আমাকে দুপুরে লাঞ্চ করায়। যেদিন বাসায় ভালো কিছু রান্না করে সেদিন ফোন করে বাসায় যেতে বলে। আমি টেবিলে বসে খাই আর ও ঠিক আমার পাশে বসে থাকে। ওর ছোট একটা ভাই আছে। এখন ক্লাস সেভেনে পড়ে। যাওয়ার সময় ওর জন্য আমি চকলেট নিয়ে যাই। ওর ভাই শায়েদ আমাকে প্রতিবার বলে “ভাইয়া চকলেট খাওয়ার বয়স চলে গেছে। একটু আপডেট হোন।” আমি একটা হাসি দেই। ব্যাক্কল মার্কা হাসি। ওর মা আমাকে খুব পছন্দ করে। মা মাঝে মাঝে নাড়ু, নানা রকম পিঠা পাঠায়। পাঠালে একদম বেশি করে পাঠায়। এতো খেতে পারি না। ম্যাসের বড় ভাইকে কিছুটা দিয়ে বাকি গুলো আন্টিকে দিয়ে দেই। তখন আন্টির মুখে একটা তৃপ্তির খুশি দেখতে পাই। কিন্তু ওর বাবা আমার দিকে কেমন করে যেন তাকায়। একবার আমাকে বললো “বাবা তোমাকে দেখলে আামর ভয় হয়। আমার মনে হয় তোমার প্রেমে পড়তে আর বেশি দিন নেই আামার মেয়ের। আমি এটা মেনে নিব না। সো প্রেমটেম করবা না ঠিকাছে?” আমি শুধু বলেছিলাম আচ্ছা। রিকশা চলতে চলতে শিউলি আমাকে বললো “আমাদের প্রেম কিন্তু হুলুস্থুল চলছে বুঝছিস। মাঝে মাঝে আমি ওকে গান শুনাই। সেও শুনায়।” আমার কেমন যেন লাগলো ওর কথা শুনে। আমি কিছু বলি না। তারপর একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকে দুপুরের লাঞ্চ করি। আর ও আমার পাশে বসে চুপ করে তাকিয়ে থাকে। সে কিছু খায় না। এই তাকানোর মাঝে সে কি অনুভূতি অনুভব করে আমি বুঝতে পারি না। আমি শুধু বললাম “আর মাত্র কয়েক মাস। ভার্সিটি থেকে বের হয়ে যাবো। তোরে অনেক মিস করবোরে। সব সময় ভালো থাকবি। তুই জানিস না তুই আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু।” শিউলি একটা কথাও বললো না।

ছয় দিন পর আমি নীলক্ষেতে কাশফীর সাথে দেখা করে হাওলাত করা টাকাটা দিয়ে বললাম “আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।” কাশফী একটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললো “আজকে কিছু খাবেন না?” আমি একটা হাসি দিয়ে বললাম “আর লজ্জা দিবেন না।” কাশফী কিছুক্ষন চুপ করে থাকলো। ওর চেহারায় আমি বিষন্নতার আভা দেখলাম। বললাম “আপনার কি মন খারাপ?” সে আবার একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো। তারপর একটু সময় নিয়ে হাটতে হাটতেই বললো “আমি আসলে এখানে থাকি না। কানাডায় থাকি। এই মাসের শেষের দিকে চলে যাবো।” আমি ও আচ্ছা নামক শব্দ উচ্চারন করলাম। তারপর ও আবার বললো “ওখানের একটা ছেলেকে আমি খুব ভালোবাসি জানেন। ছেলেটাকে আমার সমস্থ কিছু দিয়েছি। কিন্তু হঠাৎ করে ও বদলাতে থাকে। আমাকে এড়িয়ে চলতে শুরু করলো। ঐ শহরটা আমার আর ভালো লাগতো না জানেন। ভাবলাম দেশে কিছুটা দিন কাটিয়ে যাই। ওর সাথে আমিও কথা বলা কমিয়ে দেই। এতো অবহেলা সহ্য হতো না। ও আমার সাথে এমন করতে পারলে আমি কেন পারবো না। গতকাল রাতে ফোন করে অনেক কেঁদেছে জানেন। বলেছে আমাকে আর একটুও হাত ছাড়া করবে না। আমিও যখন এড়িয়ে চললাম এটাতে নাকি ও অনেক কষ্ট পেয়েছে আর এটা ও বুঝতে পেরেছে।” আমি বললাম “আমরা মানুষরা এমোনি। যে কাছে থাকে, ভালোবাসতে চায় আমরা তাকে বুঝি না, তাকে মূল্যায়ন করি না।হারিয়েই ফেললেই মর্মটা বুঝতে পারি। খুব ভালো থাকুন কাশফী।”

সামনে আমার ফাইনাল পরীক্ষা। এই তিন চারটা মাস আমার উপর প্রচুর ধকল গিয়েছে। শিউলির সাথেও আমার তেমন একটা চলাচল হয় না। ও ওর আফরাজকে নিয়ে ভালোই আছে। পনেরো কি বিশ দিন আগে যখন ওদের দুজনকে একসাথে দেখলাম আমার ভিতরে কি যেন একটা হয়েছিল। এই হওয়ার কারণটা আমি খুঁজি পাই না। ওরা রিকশা করে কোথায় যেন যাচ্ছিল। রিকশাটা আমার সামনে থামতেই শিউলি বললো “দোস্ত মুভি দেখতে যাই স্টার সিনেপ্লেক্স এ।কই থাকিস? আজকাল তোরে দেখাই যায় না।ইচ্ছে করছে তোরেও নিয়ে যাই।কিন্তু ও বিষয়টা পছন্দ করে না।” আমি একটা হাসি দিয়ে আফরাজের দিকে তাকিয়ে বলেছিলাম “এইসব সিনেমা দেখার ইচ্ছা আমার নেই।দোস্ত আমি নিজেই একটা সিনেমা।আমাকে দেখলে বুঝতে পারিস না? আমার এই জীবনটাতে কত কিছু আছে। তোরা বরং যা। বলার জন্য ধন্যবাদ।”

ইদানিং মাঝ রাতে হঠাৎ করেই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়। আমার খুব খারাপ লাগে। শিউলির জন্য খারাপ লাগে। এই খারাপ লাগাটা কেনই বা আমাকে আচ্ছন্ন করবে? ক্লাস শেষ করে যখন বের হলাম তখন দেখি শিউলি ক্যাম্পাসে বসে আছে। একবার ভাবলাম ওর কাছে যাই কিন্তু পরে মনে হলো না থাক। ও ওর মতই থাকুক। কিছুটা পথ যখন হেটে গেলাম তখন পিছন থেকে ডাক দিয়ে বললো “আমাকে দেখেও এমন করে চলে যাচ্ছিস কেন? আমি মানুষটা কি খারাপ?” আমি থতমত খেয়ে বললাম “কি বলিস এই গুলা? আসলে তোকে ডিসটার্ব করতে মন চায়নি। কেমন আছিস?” শিউলি আমার দিকে তাকিয়ে একটু সময় নিয়ে বললো “আজকাল আমার একদম ভালো লাগে না জানিস।আমরা মানুষকে নিয়ে যে স্বপ্নটা আঁকি।যে গল্প গুলো সাজাতে চেষ্টা করি তা আসলে হয় না।” আমি বললাম “আফরাজের সাথে ঝগড়া হয়েছে?” সে চুপ করে থাকে। আমি তার চুপ থাকা দেখে বললাম “এই সামান্য বিষয় নিয়ে মন খারাপ করতে নেই। এইসবের মধ্যে এই রকম হয়।” আমি ওর দিকে ভালো করে তাকাই। চোখের নিচে হালকা দাগ পড়েছে। আমি আবার বললাম “রাতে কি ঠিক মত ঘুমাস না? তোকে একটা কথা বলি শোন। আমরা সব মানুষেরা সব কিছু পাই না।এই না পাওয়ার কষ্টটা আমাদের অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়।কিন্তু এই কষ্ট গুলো বুকের মাঝে জমা করে রাখতে নেই। এগুলো খুব যন্ত্রনা দেয়।” শিউলির চোখে আমি পানি দেখি। ও আমায় বললো “আমাদের ভালোবাসাটা আগের মত নেইরে। ও সব সময় আমাকে ছুয়ে দিতে চেষ্টা করে। কথায় কথায় শরীরে হাত দিতে চায়। কিন্তু আমি দিতে দেই না। আমার একদম ভালো লাগে না।চারদিন ধরে আমাদের মাঝে অনেক ঝগড়া হয়েছে।” আমি কি বলবো বুঝতে পারি না। আমি শুধু এইটুকুই বললাম “কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ এটা নিশ্চয় তোর বুঝার বয়স হয়েছে। তোর বাসায় বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসতে বল ওকে। আমি যাইরে। হাতে কিছুটা কাজ আছে।বাবার শরীরটা ভালো না। মা ফোন করেছিল।ভাবছি আগামীকাল বাড়িতে যাবো।”

রাত নয়টা বাজে। সন্ধ্যার পর থেকেই গ্রাম গুলোর ভিতরে কেমন যেন নিরবতা ছড়িয়ে পড়ে। যদিও কুমিল্লা শহরের কাছেই থাকি। মা আমার কাছে এসে বলে কিছু একটা করতে পারলা বাবা?” আমি মাকে ভরসা দিয়ে বলি “কোন চিন্তা নেই মা। বাবার কিছু হবে না। মাদ্রাসার একটু দুরে যে জমিটা আছে ওটা নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে কথা হয়েছে। কাগজ পত্র রেডি করতে বলেছি। বন্ধক দিয়ে পঞ্চাশ হাজার টাকা নিব। বাবার অপারেশন হয়ে যাবে। তুমি একদম ভয় করবা না। পিত্তথলিতে পাথরই তো মাত্র।” মা আমার দিকে কেমন করে তাকিয়ে থাকে। আমি মায়ের চোখে পানি দেখি। আর কি বলবো বুঝতে পারি না। আমি আমার ভালো বাবাটার কাছে গিয়ে বসি। বাবা আমার দিকে তাকিয়ে বলে “বাবা। তোমার মা বেশি চিন্তা করে। আমার পেট নাকি কাইটা ফেলবে। সারা রাত ধরে কান্না করছে। একটুও ঘুমায় নাই। আমি ঘুমের মাঝেও বুঝতে পারছি।” আমি চুপ করে থাকি। আমার চোখে পানি আসে। কিন্তু এই পানি দেখানোর কোন ইচ্ছা নেই আমার। আমি বাহিরে বের হয়ে আকাশটার দিকে তাই। এই ঘুটঘুটে অন্ধকারে আকাশটার দিকে তাকিয়ে আল্লাহকে বললাম “আমি অনেক ভাগ্যবান আল্লাহ, তোমার কাছে অনেক কৃতজ্ঞ এমন বাবা মায়ের সন্তান হওয়াতে।

সময়ের সাথে সাথে একটা মানুষের কাধে অনেক দায়িত্ব আসে। একজন মানুষ না চাইলেও এই দায়িত্বটা তাকে অনেক কিছু শিখিয়ে দেয়। ঠিক তেমন আমিও এর ব্যতিক্রম নই। বাস্তবতা অনেককেই পথ দেখিয়ে দেয়। সাদিক ভাইকে মেইল সেন্ড করেই দেখি চারটা বেজে গেছে। আজকে একটু তাড়াতাড়ি বের হওয়ার কথা অফিস থেকে। সাদিক ভাই এর ল্যান্ডফোনে কল করে বললাম “ফাইলটা আমি মেইল করে পাঠিয়েছি। আপনি একটু দেখিয়েন। আর আমি এখন বের হয়ে যাচ্ছি।” সাদিক ভাই শুধু ইটুকুই বললো “আচ্ছা।” কিছু দিন আগে শিউলির সাথে আমার হুট করে একবার দেখা হয়েছে। কেমন যেন বদলে গিয়েছে মেয়েটা। আগে আমার সাথে যেমন করে কথা বলতো তার কোন কিছুই ওর মাঝে আমি পাইনি। চার বছর ওর সাথে আমার যোগাযোগই ছিল না। আমাকে দেখে নিশ্চুপ হয়ে তাকিয়ে ছিল। আমি বললাম “অনেক বছর পর তোর সাথে দেখা। তুই অনেক সুন্দরী হয়ে গেছিসরে।” আমি ভাবছিলাম ও একটু হাসবে বা লজ্জা পাবে। কিন্তু ও একটা হাহাকার করা নিশ্বাস নিয়ে বললো “কেমন আছিস তুই?” আমি বললাম “এই তো বেশ আছি। কিন্তু এখন বাবা মায়ের অপদার্থ ছেলে নই। তুই চাইলেই আমাকে অপদার্থ বলতে পারবি না।” শিউলি একটু হাসলো। কিন্তু এই হাসির মাঝে আমি সেই আগের হাসিটা পাইনি। সে বললো “চাকরি করছিস?” বললাম “সবে মাত্র ছয় মাস হলো জয়েন করেছি।” সেদিনও শিউলি আমাকে রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়েছিল। আমি টেবিলে বসে খেতে খেতে বলেছিলাম “তো সংসার কেমন চলছে?” ও শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস নিল।কিন্তু আমার কথার প্রত্যুত্তর না দিয়ে বলেছিল “তোকে কত বছর পর খেতে দেখছি।” আমি কি বলবো বুঝতে পারিনি।একবার ভেবে ছিলাম ওকে জিজ্ঞেস করি এইভাবে তাকিয়ে কি দেখে বা কি অনুভব করে।? কিন্তু বলিনি। আমার চুপ থাকা দেখে ও আবার বললো “আফরাজের সাথে আমার সম্পর্কটা আর টিকেনি। আমি খুব কষ্ট পেয়েছি জানিস খুব।আমিও ছাড়িনি, ওর দুগালে দুটো চড় মেরে বলেছিলাম ভালোবাসা বুঝিস? যদি বুঝতে পারিস তাহলে ভালোবাসাটা নিয়ে আমার সামনে আছিস।কিন্তু ও আর আসেনি। ভালোবাসাটা এমন কেন বল তো?” আমি কিছু বলতে পারিনি শিউলিকে। ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম আর মনে মনে বলেছিলাম শিউলি তুই হয়তো জানিস না তোর জন্য ভিতরে ভিতরে আমি কত কষ্ট পেয়েছি। এই কষ্টটা যখন অনুভব করতে পারলাম তখন বুঝতে পেরেছিলাম তোকে আমি কতটা চেয়েছি। এই চাওয়ার নাম কি ভালোবাসা সেটা আমি জানি না। খাওয়া শেষে আমার নতুন নাম্বারটা দিয়ে চলে এসেছিলাম। আর গতকাল রাতে ফোন করে বলেছিল “আমার সাথে একটু দেখা করতে পারবি?” আর এ কারনেই অফিস থেকে তাড়াতাড়ি বের হওয়া।

শিউলির সাথে দেখা হলো পাঁচটায়। আমি ওকে দেখে বেশ কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকলাম তারপর বললাম “তুই শাড়ি পড়লে এতো সুন্দর লাগবে জানতাম না।” শিউলি কিছু বললো না। একটু পর আমি ওর চোখে পানি দেখি।এই পানি কিসের বুঝতে পারি না। চারপাশের পরিবেশের সাথে ওর চোখের পানি মানায় না। ধানমন্ডি লেকের এই জায়গাটায় বসে আমি একবার আকাশটার দিকে তাকাই। শিউলি আমাকে বললো “তোকে একটা কথা জিজ্ঞেস করা আছে সত্যিটা বলবি কেমন?” আমি চুপ করে ওর কথা শোনার অপেক্ষায় থাকি। শিউলি একটু গভীর হয়ে বললো “তোর সাথে যখন আমি রিকশায় চড়তাম তুই অন্যদিকে না তাকিয়ে পুরোটা রাস্তায় আমার দিকে তাকিয়ে থাকতি। এমনটা কেন করতি? এই প্রশ্নটা তোকে করবো বলে বলে কখনো করা হয়নি।” আমি ওর কথা শুনে অবাক হলাম একটু। বললাম “ভালো লাগতো তাই তাকিয়ে থাকতাম। তোকে খুব মায়ামায়া লাগতো। তুই হয়তো বিশ্বাস করবি না, আমি যখন খেতে বসি আমার মনে হয় তুই সামনে বসে আছিস। চুপ করে খাওয়া দেখছিস। এমনটা আমার সব সময় মনে হয়। আমার তখন খুব শান্তি লাগেরে।” শিউলি আমার দিকে কেমন করে তাকায়। তারপর বললো “কখনো সাহস করে বলিস নাই কেন? আমি প্রায় ভাবতাম তুই এই রকম একটা কিছু বলবি, আমাকে চাইবি।কিন্তু আমার ভয় হতো। ভাবতাম তুই আমাকে বন্ধু ছাড়া কিছুই মনে করিস না। আফরাজের কথা যখন তোকে প্রথম জানালাম তোর কোন রিয়েক্টই দেখলাম না। আমি ভাবলাম তুই আমাকে বাধা দিবি।কিন্তু তা না করে আমার থেকে ট্রিট চাইলি। কিন্তু দেখ কি থেকে কি হয়ে গেলো। এমন কেন আমাদের জীবনটা?” আমি কি বলবো বুঝতে পারি না। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি।একটু ইতস্তত হয়ে বললাম “আমার ঠিকানা তো তুই জানতি খোঁজ করলি না কেন?” শিউলি একটু সময় নিয়ে বললো “তোর সাথে আর দেখা হবে কিনা জানি না। দুই সপ্তাহ পর আমার বিয়ে। ছেলে সিঙ্গাপুর থাকে। বিয়ের পর সাথে করেই নিয়ে যাবে। তোর সাথে অনেকবার যোগাযোগ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু খুব লজ্জা লাগতো। নিজেকে ছোট মনে হতো। ভাবলাম তুই তোর মত থাক। তুই আসলেই আমার ভালো একটা বন্ধু এটা তুই কি জানিস? সব সময় খুব ভালো থাকবি।” এটা বলেই ও আমার দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে উঠে পড়লো। আমার কি বলা উচিৎ বুঝতে পারলাম না। ওর কথা শুনে আমার ভিতরটা ধক করে উঠে। ওর চোখে আমি জল দেখি। ও আস্তে আস্তে হাটতে থাকে। আর আমি চুপ করে তাকিয়ে থাকলাম। ভালো লাগা ব্যাপারটায় এমন। আমার আর ভালো লাগে না।এই ভাবে বার বার হারিয়ে ফেলতে একদম ভালো লাগে না। আমি ওকে ডাক দিয়ে বললাম “আমার সাথে যাবি?” ও আমার দিকে ফিরে তাকায়।কিছুক্ষন চুপ করে থাকার পর ভেজা ভেজা চোখে বললো “তুই কি আমাকে নিয়ে পালাবার কথা ভাবছিস?এমনটা কখনো ভাববি না বলে দিলাম। না হয় সেই আগের মত কান ধরাবো।” আমি ওর কাছে গিয়ে সাহস করে হাতটা ধরে বললাম “আমি এতো কাপুরুষ না।তোর বাবা আমাকে তোর সাথে প্রেম করতে নিষেধ করেছে। কিন্তু বিয়ে করতে তো আর নিষেধ করে নাই। স্বপ্নের আলোর মাঝে তোকে চুপিচুপি করে ভয়ানক ভাবে যতবার চেয়েছি এই চাওয়াটা কখনো মরে যায়নি।শুধু চোখ বন্ধ করলেই এই চাওয়া গুলোকে আমি দেখতে পাই।” শিউলি আমার দিকে অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে থাকে। আমি আলতো করে ওর চোখের জল মুছে দিয়ে হাতটা আরও শক্ত করে ধরি। তাকে বললাম “আমার জীবনের এই চাওয়া গুলো যে তোকে শোনাতে ইচ্ছে করে। শোনাতে ইচ্ছে করে এই চাওয়া গুলোতে আমি কতটা কষ্ট পেয়েছি।আর যাই হোক আমি এই শহরের বোকা মেঘের দলের মাঝে তোকে হারিয়ে যেতে দিব না।” শিউলি আমার কথা শুনে কান্না করে। আমি কিছু বলি না। কিছু বলার প্রয়োজনও নেই। শুধু এখন এইটুকুই প্রয়োজন ওর চোখের পানি মুছে দেওয়া...
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:১৬
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফাউন্টেন পেন আর কালির দোয়াত... (জীবন গদ্য)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৩ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৫০



ফাউন্টেন পেন আর দোয়াতের কালিতে আমরা কত সুখি ছিলাম। কত উচ্ছ্বল শিক্ষাজীবন,হই হুল্লোড় আর সুখ আনন্দে ভরা ছিল জীবন। নীল সাদা স্কুল ড্রেস,কালির ছিটার কালো নীল রঙ ছাপ,আহা আমাদের সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পলাশী থেকে বাংলাদেশ, মুক্তির কন্টকিত পথে (তেইশ জুন স্মরণে)

লিখেছেন বিদ্রোহী ভৃগু, ২৩ শে জুন, ২০১৯ রাত ৮:২৫



বিষাদ আঁধার এক
কেড়ে নেয় শক্তি সাহস
হতাশা, জোকের মতো নিভৃতে চোষে খুন;

অনিশ্চিত আশায়
বিপ্লবীর অকাল বোধন স্বপ্নে
ব্যার্থতার দায় ঢাকে ‘কিন্নর’ সুধিজন!

তেইশ জুন, সতেরশো সাতান্ন
প্রতারণা, শঠতা আর মিথ্যেতেই
রাতের আঁধারে ডুবে যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহুরে ফোকলোর

লিখেছেন কিবরিয়া জাহিদ মামুন, ২৩ শে জুন, ২০১৯ রাত ৯:৫৫



ক্লাশ থৃ তে পড়ি । প্রয়াত মিনু স্যার একদিন ক্লাশে বল্ল, তোরা আজকের শিশু তোরা একদিন বড় হবি । বড় হয়ে এই দেশ চালাবি । আজকে এরশাদ সাহেব দেশের প্রেসিডেন্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (তৃতীয় তথা শেষ পর্ব)

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ২৪ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:৩৪



মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (পর্ব ১)
মোহনীয় রমণীয় প্যারিস (পর্ব ২)


ল্যুভর মিউজিয়াম থেকে বের হয়ে একটা লম্বা হাটা দিতে হবে। অবশ্য চাইলে মেট্রোও (আন্ডারগ্রাউন্ড ট্রেন) ব্যবহার করা যায়, কারন ডে-ট্রাভেল কার্ড এমনিতেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পরিণয়

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ২৪ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১২:১০


আদরণীয়, কোথায় দিলে ডুব?
পানকৌড়ি যেমন অন্ন অন্বেষণে—
সরোবরজল তলে
তুমিও কী ঠিক তেমন কারণে?
চোখের আড়ালে থেকে রহিলে নিশ্চুপ…
বলো কোথায় দিলে ডুব?

চলছিলো ভালই প্রিয়ংবদা বলছিলে মধুকথা
কাটছিলো সময় মধুময়
গাড়ি চালনায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×