somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষমা করে দিলেন আশরাফুল

০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১২ সকাল ৯:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



খ্যাতি মানুষকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে তা খুব কাছ থেকেই দেখেছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। খ্যাতির বিড়ম্বনাতেও সাক্ষী থেকেছেন। ফর্মের চূড়ায় উঠে দেখেছেন ভালোবাসার ঢল কতটা প্রবল। ফর্মে না থেকে বুঝেছেন ভালোবাসার মানুষ কীভাবে বদলে যায় বিপদের দিনে। অর্থ, সুনাম, ব্র্যান্ড, ভ্যালু_ কোনো কিছুতেই আজকের তামিম ইকবালের চেয়ে পিছিয়ে নেই মোহাম্মদ আশরাফুল। বন্ধু নাফিস ইকবালের ছোট ভাই তামিম ইকবালকে তার অধিনায়কত্বেই অভিষেক করিয়েছেন। কতদিন কাঁধ চাপড়ে দিয়ে সাহস জুগিয়েছেন। কতদিন উৎসাহ দিয়েছেন 'ও আমাদের ভবিষ্যৎ' বলে। ছোট ভাইয়ের স্নেহের সেই তামিম ইকবালই কি-না গতকাল মারতে উদ্যত হয়েছিলেন আশরাফুলের ওপর। '.... ছেলে। আজ তোকে মেরেই ফেলব...' বলে মুখ দিয়ে বিশ্রী সব শব্দ বের করেছিল। চোখ পাকিয়ে তেড়ে এসেছিল আশরাফুলের দিকে। তামিমের এই বদলে যাওয়া চেহারা দেখে পাথর হয়ে গিয়েছিলেন আশরাফুল। প্রতিবাদ তো করেনইনি, উল্টো হাত ধরে বলেছিলেন_ 'তামিম, ভাই... আমি তো তোকে কিছু বলিনি। আমি শুধু বলেছি উনি (ভিক্টোরিয়ার গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বাদল) কেন চিৎকার করছেন আমাদের ক্রিকেটারদের ওপর।' আশরাফুলের এই সরলতাকেই হয়তো দুর্বল বলে মনে করেছিলেন তামিম। আর তাই তামিমের সতীর্থ ভিক্টোরিয়ার অধিনায়ক যখন আশরাফুলকে পুরো ঘটনার জন্য সরি বলেন তখনও পাশ থেকে তামিম তার প্রতিরোধ করেন। 'আমার খারাপ লেগেছে একটি জায়গায়। যখন সাকিব সরি বলল, তখনও তামিম পাশ থেকে বলছে সরি বলার কী আছে। সাকিব সরি বলবি না। বিশ্বাস করুন, ওইটুকু ব্যাপার আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। তা ছাড়া সব ঠিকই আছে। খেলার মাঠে এমন মাঝে মধ্যে হতেই পারে। আমিও তা নিয়ে ভাবছি না। সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ যে, আমি ওই সময় তামিমের মতো মাথা গরম করিনি। সেটা হলে ভয়ঙ্কর কিছু হয়ে যেতে পারত।'


জাতীয় দলে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে খেলে আসা আশরাফুল এভাবেই বড় ভাইয়ের মতো ছোট ভাই তামিমের বেয়াদবি ক্ষমা করে দিয়েছেন। 'ক্ষমা করার কী আছে। ও যদি মনে করে ভুল করেছে, তাহলে আর কিছুই বলার নেই। তবে এমনটা না হলেই ভালো হতো। যা হয়েছে তা হয়েছে।' ফর্মের চূড়া থেকে মাটি_ সবই স্পর্শ করা আছে আশরাফুলের। তাই তিনি জানেন, যখন ফর্ম ভালো থাকে না তখন মাঠেই মনোযোগ বেশি দেওয়া উচিত। 'ম্যাচটা এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে, আমাদের ফয়সাল হোসেনের ডিকেন্সের আউটটা টার্নিং পয়েন্ট ছিল। যা দেখে ড্রেসিং রুমের সামনে থেকে ভিক্টোরিয়ার ক্লাব কর্মকর্তা চিৎকার করতে থাকেন। আমি তখন আম্পায়ারকে দৃষ্টি আকর্ষণ করি। আর তখনই তামিম রেগে যায়। অথচ ওদের অধিনায়ক সাকিব কিন্তু নিশ্চুপ ছিলেন। বুঝলাম না, তামিম কেন অতটা রিঅ্যাক্ট করল।' আশরাফুলের মতো মাঠে উপস্থিত অনেকেই তামিমের হঠাৎ রেগে যাওয়ার কারণটা বুঝতে পারেননি।
১৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×