somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনার নয়, জয় হোক এমন ফুটবলের, জয় হোক ফুটবলপ্রেমীদের এমন উন্মাদনার।

২৩ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিল দক্ষিণ আমেরিকার দু'টি দেশ, যারা হাজার মাইল দূরে অবস্থান করেও নীল-সাদা কিংবা সবুজ-হলুদ রংয়ের পতাকার এমন আধিক্য দেখে বা উড়তে দেখে, যে কারোর মনে হতে পারে, আমাদের কত কাছে তাদের অবস্থান। হতে পারে সেটা এককভাবে পেলে বা ম্যারাাডোনার খেলার নৈপূণ্য বা দলগতভাবে খেলার গতির তীব্রতা বা ছন্দ। আবার নিজ দেশের ফুটবলের এমন দৈন্যদশাও অনেকাংশে দায়ী। কারন গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ দেখতে বসলে কাউকে না কাউকে সমর্থন করতে হয়, বিষয়টা অনেকটা দুধের স্বাদ ঘোলে মিটানোর মত অবস্থা।

আগে যখন মোহামেডান বা আবাহনীর কোন খেলা হতো, তখন পাড়ায় পাড়ায় উড়ত সাদা-কালো বা নীল রংয়ের পতাকা, এখন যেমনটা আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের নীল-সাদা বা সবুজ-হলুদ রংয়ের পতাকা উড়ছে। অনেকের কাছে নিজের দেশ ছাড়া অন্য দেশের এমন পতাকা উড়ানো সমর্থনযোগ্য নয়। কিন্তু আমার কাছে নিজের দেশের পতাকার অসম্মান না করে যে কোন দেশের পতাকা উড়ানো একধরনের আনন্দের উপলক্ষ্য মনে হয়। সেটা হতে পারে খেলা বা আঞ্চলিক বা আন্তর্জাতিক কোন অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে, সেটা অনেকটা অনেক রংয়ের মাঝে নিজেরটা খুঁজে নেয়ার মতো বা সবার মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার মতো।

এই প্রসঙ্গে একটা গল্প মনে পড়ে গেল, যদিও সেটা রাজনৈতিক সংস্কৃতিক বিষয়ক, কিন্তু সেটাও ছিল আমার কাছে বৈচিত্রময়। কলেজে পড়ার সময় ১৯৯৫-৯৬ সালে বুয়েটে প্রায় যেতাম এলাকার এক বড় ভাইয়ের কাছে। একদিন দেখলাম উনার রুমে একক জনের পড়ার টেবিলের উপর একক দলের স্টিকার, কারো টেবিলের উপর ছাত্রদল, কারো টেবিলের উপর ছাত্রলীগ, কারো টেবিলের উপর ছাত্র শিবিরের কিংবা কারো টেবিলের উপর সমাজতান্ত্রিক দলের স্টিকার। জিজ্ঞাসে বিমোহিত হলাম যে, উনারা নিজেরা একক দলের সমর্থকই শুধু নয়, এদের মধ্যে একাধিক জন আছেন, যারা দলের মনোয়ন পেয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচন করছেন। বিভিন্ন দল নয় বরং বিভিন্ন মনের মানুষের এমন সহাবস্থানের বিষয়টা আমাকে আজও বিমোহিত করে রাখে।

এমন ভিন্নতা বা বৈপরীত্য বা আলাদা পছন্দকে প্রকাশ করার স্বাধীন প্রকাশভঙ্গীকে উপভোগ করি চরমভাবে, সেজন্য আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের সাপোর্টার্সদের এমন উন্মাদনাকে উপভোগ করি পরমভাবে (absolutely)। ব্রাজিলের সাপোর্টার্স হিসেবে কোস্টারিকার বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়ে যেমন আনন্দিত হই, ঠিক তেমনি আর্জেন্টিনার বিদায়ের শংকায় শন্কিতও এই আমি। কারন আমি ব্রাজিল সাপোর্টার হলেও আমার ঘরনী আর্জেন্টিনার সাপোর্টার আবার আমার ছেলে জারার তার চাচা বা ভাইয়াদের শেখানো বুলি (আর্জেন্টিনা জিন্দাবাদ) আমার সামনে এসে জোরে জোরে বলে, সুতরাং ঘরের কর্তা হিসেবে আমাকেও মেনে নিতে হয়, পছন্দ যার যার, ঘর সবার।

২৩. ০৬. ২০১৮ (ঢাকা)।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুন, ২০১৮ দুপুর ২:২৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অবশেষে শেষ হলো! কিন্তু তিনি ফিরবেন কবে?

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ২০ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩৫

আমি সর্ব প্রথম আগ্রহ নিয়ে ফুটবল ওয়ার্ল্ডকাপ দেখেছিলাম ১৯৯৮ তে। তখন আমি ক্লাস ৮এর ছাত্র।



আমার বড় ভাইয়ের তখন ফ্রান্সে যাবার কথা আমার আম্মার এক আত্মীয়ার বরের ব্যবসা ছিলো ফ্রান্সে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অহনার কীর্তিকলাপ, কিংবা পাগলামি, কিংবা ভালোবাসা

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২১

অহনা খুব জ্বালাতন করতো, অর্থাৎ খুব জ্বালাত,
বা বিরক্ত করতো আমাকে, যেমন, হঠাৎ হঠাৎ মাঝরাতে
মোবাইলে কল করে বলতো, ‘তুই যে ঘুমিয়েছিস, ঘুমানোর
আগে কি আমার কথা ভেবেছিস? বল, কতবার ভেবেছিস?
তাহলে একবার... ...বাকিটুকু পড়ুন

FIFA বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর ফাইনাল খেলা নিয়ে আমার সামান্য কিছু কথা

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:২৮

গতকালের FIFA বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর ফাইনাল খেলায় মেসি অত্যন্ত নিষ্প্রভ ছিলেন। দর্শকদের তাকে মাঠে খুঁজতে হয়েছে, তিনি তার চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, মাঠের সর্বকোণে বল... ...বাকিটুকু পড়ুন

চেতনা, ৭১ , পাকিস্তান ঘৃনা ও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:০৫


যুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত বাংলাদেশ ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ভিয়েতনাম দুটো দেশের অর্থনৈতিক যাত্রা শুরু হয় প্রায় একই সময়ে কিন্তু তুলনামূলক ভিয়েতনামের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক ক্ষেত্রে ভালো ছিল। বাংলাদেশে ছিল অনেক ভারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকে আমার মন ভালো নেই

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৯



দুঃখের সময়ে নানান মানুষের কথা মনে পড়ে। খুব কাছের মানুষের কথা মনে পড়ে আবার অনেক দূরের মানুষের কথাও মনে পড়ে। রক্তের আপন মানুষের কথা তো মনে পড়েই তবু একদিন কীভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×