somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানবাধিকার এবং সন্ত্রাসের অধিকার...

২৮ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সমস্ত মুম্বাই জুড়ে যে সন্ত্রাস আর হত্যাযজ্ঞ চলছে তা সন্ত্রাসের এক নতুন মাত্রা নির্দেশ করছে, এত পরিকল্পিত এবং ব্যাপক মাত্রার আক্রমন সম্ভবত ইন্ডিয়া আগে দেখেনি- বুধবার রাত্রের ঘটনার পর ৪০ ঘন্টারও বেশী সময় কেটে গেছে- পরিস্থিতির উপর পুরা নিয়ন্ত্রন এখনও আসেনি। আতঙ্কের মুহুর্ত গুলোতে দিশাহারা সাধারন নাগরিক অপেক্ষা করে আছে তাদের এ দুঃস্বপ্ন কখন শেষ হবে-আর কত প্রান এর মধ্যে ঝড়ে যাবে।

ভারতের বানিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই এর নির্মম ঘটনায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৩০ছাড়িয়ে গেছে- নতুন করে এক অষ্ট্রেলিয়ান টুরিষ্ট এর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে- কমান্ডো যোদ্ধারা এখনো লড়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে- জিম্মিদের উদ্ধার করতে।

আমরা কি অনুমান করতে পারি- এ ধরনের ঘটনা গুলোতে অপরাধীদের খুজে পাওয়া যায় কিনা? তাদের আইনের হিফাজতে নেওয়া হয় কিনা- তাদের বিচার এবং শাস্তি হয় কিনা?

একজন সাধারন নাগরিকের পক্ষ থেকে এ বিচার দাবী একটা অতি ন্যয্য আর স্বাভাবিক চাওয়া।

সমস্ত পৃথিবী জুড়ে হত্যা সন্ত্রাস আর আতঙ্ক ছড়িয়ে সাধারন মানুষদের পরিনত করা হচ্ছে তাদের সহজ লক্ষ্য বস্ততে। আমরা জানি না এ থেকে আমাদের নিজদের-আমাদের পরিবার- আমাদের শিশুদের বাঁচানোর কার্যকর পন্থা কি? মানবতার বিরুদ্ধে নিরীহ নির্দোষ অসহায় মানুষদের লাশের উপর দাড়িয়ে যারা তাদের লক্ষ্য হাসিলের রাস্তা খুঁজে নিচ্ছে- তাদের আমরা কি ভাবে মোকাবিলা করবো?

রাষ্ট্র তার সাধারন নাগরিকের জান মাল হিফাজত করার জন্য কি ভুমিকা পালন করা উচিত--এই গুরুত্বপুর্ন প্রশ্নটাও এখানে আমি তুলতে চাই। সাধারন নাগরিক হিসাবে আমি রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা চাই- ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিচার চাই-যে আমার ক্ষতি করেছে তার শাস্তি চাই। আর এই চাওয়াটা আমার অধিকারের মধ্যে পড়ে- আমার মানবাধিকার।

আমাদের দেশেও-বিগত দিন গুলোতে ধর্মের নামে জঙ্গী কর্মকান্ড অনেক রক্ত ঝড়িয়েছে- সে সব সন্ত্রাসীদের অনেকেই ধরা পড়েছেন এবং বিচারের পর শাস্তি পেয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের পক্ষ থেকে এটা স্বস্তির বিষয়- যদিও এ ধরনের বিচার প্রক্রিয়া অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনেক সময় নিয়ে নেয়। বছরের পর বছর চলে যায় অভি্যোগ দাঁড় করাতে, সাক্ষী প্রমান জোগাড় করতে-আইনের দীর্ঘসুত্রিতার পথ ধরে চলতে থাকে বিচার কার্য্য। জে এম বি জঙ্গী নেতাদের বিচার করতে গিয়ে আমরা দেখেছি সর্বদলের ঐক্যমত থাকা সত্ত্বেও এবং অভিযুক্ত্ররা উচ্চ আদালতে আপীল করার সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরেও--আমরা দুই বছরের কমে এই বিচার শেষ করতে পারি নাই।

ইন্দোনেশিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখেন- ২০০২ সালের অক্টোবর ১২ তারিখে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে নাইটক্লাবে বোমা বিস্ফোরন ঘটনা হয়েছিলো- সেই ঘটনার মুল অপরাধীদের শাস্তি কার্যকর হল মাত্র এ মাসের প্রথম সপ্তাহে। প্রায় ৬ বছর লেগে গেল এই বিচার শেষ করতে-
বিচার কার্যে দেরী হওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ইস্যু হয়তো অভিযুক্তদের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা- তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া ইত্যাদি ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের পাশে দাড়ানোর জন্য মানবাধিকার কর্মীদের সাধারনতঃ অভাব হয় না- এটা নিয়ে আমি আপত্তিও উত্থাপন করতে যাচ্ছি না- সন্ত্রাসীদের ধরে ধরে বিনা বিচারে ফাঁসিতে ঝোলানোর দাবীও আমি করছি না।

শুধু মনে করিয়ে দিতে চাচ্ছি- বিলম্বিত বিচার ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকের মানবাধিকার খর্ব করে কিনা সে প্রশ্নটা আমাদের যাচাই করে নেওয়া উচিত। এ কথাটা আমরা প্রায়ই মনে রাখি না।

আজকে মুম্বাই এ যে নৃশংশতা ঘটে গেল-তার জন্য দায়ী অপরাধীরা কবে ধরা পড়বে-কবে বিচার শুরু হবে আর তার কৃতকর্মের শাস্তি কার্যকর হয়েছে এটা দেখার জন্য একজন ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিককে কত বছর অপেক্ষা করতে হবে?

আমাদের লেগেছিল দুই বছর-ইন্দোনেশিয়ার লেগেছে ৬ বছর- ভারতের লাগবে কয় বছর??

টেররিষ্টদের হতাশ হবার কোনই কারন ঘটেনি দেখাই যাচ্ছে।


সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে নভেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:৫১
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×