
প্রবাসে বাংলাদেশের শ্রমিকরা গাধার খাটুনি খাটে। এই খাটুনির ফলে তারা যে টাকা পায় সেই টাকার বিরাট একটা অংশ বাংলাদেশে পাঠায় । এই পাঠানোটা বিরাট ঝামেলা। কারণ, টাকা পাঠাতে খরচ লাগে, আবার রেটের ব্যাপার আছে। সাধারণত ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠালে পাঠানোর খরচ লাগে, রেট একটু কম পাওয়া যায়। তাই অনেক শ্রমিক হুন্ডি ব্যবসায়ীদের ফাদে পড়ে। তারা টাকার রেট একটু বেশী দেয় ঠিকই । কিন্তু তারা মাঝে মাঝে শ্রমিকদেরকে ঠকায়। সব চেয়ে বড় কথা হুন্ডি ব্যবসায়ীরা দেশে কে ঠকায়। কিভাবে ঠকায়?
হুন্ডি ব্যবসায়ীরা যে টাকা দেশে পাঠায় সেটা কোন যথাযথ ব্যাংকিং চ্যানেল নয়। ফলে এই টাকা কোন রেমিটেন্স হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকে যায় না। হুন্ডি ব্যবসায়ীরা হয় কোন পণ্য কিনে দেশ পাঠায়। দেশে গিয়ে সেই পণ্যের দাম থেকে শ্রমিকদের নিকটজনকে টাকা বুঝিয়ে দেয়। ফলে ব্যাংক খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কারণ এলসি ছাড়াই তারা বিদেশ থেকে পণ্য নিয়ে আসে।
এই কারণে অনেক চোরাকারবারী, কালো টাকার মালিক বিদেশে টাকা পাচার করার সুযোগ পায়। এটা বন্ধ করতে চাইলে সরকার নিচের পদক্ষেপগুরো নিতে পারেঃ
১। শ্রমিকদেরকে বিনাখরচে টাকা পাঠানোর সুযোগ দিতে পারে।
২। বাজারের প্রচলিত রেটের চেয়ে একটু বেশী রেট দিতে পারে যাতে শ্রমিকরা ব্যাংক চ্যানেলে টাকা পাঠাতে উৎসাহী হয়।
৩। নিয়মিত মনিটর করতে পারে এবং নতুন নতুন কেৌশল বের করতে পারে যাতে সাধারণ শ্রমিকরা হুন্ডি ব্যবসায়ীদের ধারে কাছেও না যায়।
৪। প্রবাসী শ্রমিকদেরকে বিনা খরচে কিংবা নাম মাত্র খরচে সামান্য একটু বেশী রেটে দেশে টাকা পাঠানোর সুযোগ দিলে দেশের রেমিটেন্স বাড়বে বহুগুণে।
বিষয়টি নিয়ে সদাশয় সরকার বাহাদুর ভেবে দেখতে পারেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
