somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেবদূতের নগর ভ্রমণ : 2

০২ রা জুলাই, ২০০৬ রাত ৮:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক চোলাই ধোলাই শেষেও যখন দেবদূতের কাছ থেকে কোন ইনফরমেশন বের করা গেলো না তখন ওসি সাহ্বে চরম আশাহত হলেন কেননা গুপ্তচরের গোপন অভিসন্ধি আবিষ্কার করে প্রমোশনের যে রঙিন স্বপ্ন তিনি অন্তরে লালন করছিলেন সে স্বপ্নের অকাল মৃতু্যতে তিনি ফাটা বেলুনের মত চুপসে গেলেন। অবশেষে তিনি দেবদূতকে অর্ধ উন্মাদ মনে করে ছেড়ে দেওয়ায় উত্তম বলে সাব্যস্ত করলেন। দেবদূত ছাড়া পেলেন।

জেল হতে বের হয়ে মুক্ত আকাশ আর বিশুদ্ধ বাতাসে দেবদূত কিয়ৎ রোমাঞ্চিত হলেন। যদি ও ইমারতের ভিড়ে আকাশের দেখা পাওয়াই মুস্কিল আর বাতাস ভর্তি বিষাক্ত গ্যাস, তথাপি চৌদ্দ শিকের ভেতর থাকতে থাকতে এই পরিবেশই দেবদূতকে ভীষণ আলোড়িত করলো। দেবদূত যেন নব উদ্যম ফিরে পেলেন। তিনি রাস্তায় আপনমনে হাঁটতে লাগলেন। কেমন যেন বেশ নীরব একটা পরিবেশ। বেশ শান্ত, তার নিকট মনে হলো স্বর্গও এইরকম শান্ত নয়। সবসময় নারদের প্যাচাল লেগেই থাকে, ইন্দ্রের নাচ-গান নন-স্টপ ক্যাবল টিভির মতো 24 আওয়ার চলতে থাকে আর ঐ গাঞ্জাখোর পাবলিক, মহামুনি শিব মাঝে মাঝে লঙ্কাকান্ড বাঁধিয়ে বসে। তারচেয়ে এই দেশ অনেক ভালো। আগেকার দুঃসহ স্মৃতি ভুলে তিনি বেশ আশাবাদী হয়ে চারপাশ পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন।

কিছুদূর এগোতেই একদল ষন্ডা মার্কা লোক তাঁকে ঘিরে ধরলো। সবচেয়ে বিকট দর্শন লোকটা বাজখাঁই গলায় বলে উঠলো, আংকেল কই যান? অফিসে নাকি? জানেনই তো আইজকা হরতাল। বাসা থেইকা বাইর হইলেন কেলা? দেবদূত এই প্রথম হরতাল শব্দটি শুনলেন। তাই তিনি অস্পষ্টভাবে বিস্ময়ের সাথে উচ্চারণ করলেন, হরতাল!!! হরতাল আবার কি? দেবদূতের কথা শুনে চ্যাংড়া টাইপের একটা ছেলে তিড়িংবিড়িং করে লাফাতে লাগলো।

-- আংকেল মনে অয়, সরকারি দলের সমর্থক। হরতাল হুইনা ভেংচি কাটছে দেখছস? চল, হালারে ল্যাংটা কইরা পিলারের লগে বাইন্ধা রাখি।

-- আংকেল আইজকা আর অফিসে যাইয়া কাম নাই, ষন্ডা মার্কা লোকটা বললো। আমাগো নেত্রী আপনাগো লাইগা ছুটি দিছে। ঘরে বইয়া মৌজ করবেন, আন্টির লগে বইসা বাংলা সিনেমা দেখবেন, তা না, বাইর হইছেন অফিস করনের লাইগা। অহন আমরা একটু আপনারে লইয়া মৌজ করমুনে। বলতে বলতে পকেট থেকে একটা চকচকে ছুরি বের করলো লোকটা। দেবদূত কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। তিনি বোকার মতো দাঁড়িয়ে রইলেন।

-- আংকেল, যা কই মন দিয়া হুনেন, চ্যাংড়া টাইপের ছেলেটি বললো। পরথমে পাঞ্জাবিটা খুলেন, চিপা থেইকা টাকা পয়সা বেবাক বাইর করেন, তারপর পায়জামা, ভিতরে কিছু পড়লে হেইডাও খুলেন। মানে... জন্মদিনের পোশাক আপনারে আমরা দেখবার চাই।

দেবদূত করনীয় বুঝতে না পেরে হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে রইলেন। লিডার আওয়াজ দিলো, ওই দেরী কইরা লাভ নাই। হাত লাগা। অর্ডার পাওয়া মাত্র মুহুর্তের মধ্যে তারা দেবদূতকে দিগম্বর করে ল্যাম্পপোস্টের সাথে বাঁধার আয়োজন করতে লাগলো। দেবদূত লজ্জায় দুই চোখ বন্ধ করে রাখলেন। তাঁর মাটির সাথে মিশে যেতে ইচ্ছে করছিলো।

এরমধ্যে দুইদিক থেকে দুইটা মিছিল এসে মুখোমুখি হলো। প্রচন্ড মারামারি আর গোলাগুলি শুরু হলো। দেবদূতকে ছেড়ে দিয়ে লোকগুলি হট্টগোলের মধ্যে মিলিয়ে গেল। হঠাৎ দেবদূতের পায়ে একটা গুলি এসে লাগলো। দেবদূত লুটিয়ে পড়লেন। সবাই পালাতে লাগল। অনেকে দেবদূতের উপর পা মাড়িয়ে চলে গেল। পরিস্থিতি একটু শান্ত হলে, একদল লোক এসে দেবদূতকে একটা কাপড় দিয়ে মুড়িয়ে নিয়ে খাটিয়া টাইপের একটা জিনিসের উপর উঠাল। একজন জিজ্ঞেস করলো, ভাইজানের নাম কি? দেবদূত কাতরাতে কাতরাতে বললো, আমি দেবদূত। পাশ থেকে একজন বললো বড় নাম, শ্লোগান দিতে কষ্ট হবে। শর্ট কর। অন্যজন বললো, দেবু বললে চলবো তো? হ্যাঁ, হ্যাঁ- সবাই সম্মতি দিলো। প্রচন্ড গর্জন উঠলো সাথে সাথে,

আমার ভাই, তোমার ভাই, দেবু ভাই, দেবু ভাই। দেবু ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবো না। দেবু ভাইয়ের কিছু হলে, জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে।

মিছিলটা ক্রমে অলি-গলি ছাড়িয়ে রাজপথে এলো। আর দেবদূত একসময় অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। পরদিন পত্রিকায় বিরাট করে ছাপা হলো, গতকালের সরকারী ও বিরোধী দলের তুমুল সংঘর্ষে দেবু নামক এক ব্যক্তি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। তিনি এখন হাসপাতালে মৃতু্যর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। সরকারী ও বিরোধী উভয় দলই তাকে নিজেদের কর্মী বলে দাবী করেছেন। তার পরিবারের কেউ এখন পর্যন্ত খোঁজ করেননি।

হায় দেবদূত! কৃষ্ণ কোথায়??????
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×