somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আরশাদ চাচা -- ইন দ্যা হেল

০৭ ই জুলাই, ২০০৬ বিকাল ৪:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





আফটার টার্মিনেশন অফ মনুষ্য লাইফ :-) ..................... এট দ্যা রুম অফ ডিস্ট্রিবিউশন হেড . . . .

হেড : আপনার নামটা যেন কি?
চাচা : হো.মো. আরশাদ।

হেড : চাচার ইহজগতের রঙ্গিলা কাহিনীর রগরগে রিপোর্টে উপর চোখ বুলাতে বুলাতে, আপনি তো মাশাল্লা যে পরিমাণ মহৎ কর্ম সম্পাদন করে এসেছেন তাতে তো হাবিয়া দোজখে হবে না। নতুন দোজখ বানাতে হবে। তার উপর আপনি আবার হোমো। বাঙালিদেও মধ্যে আপনিই প্রথম যে নিজেকে হোমো বলে পরিচয় দিয়েছেন। বাঙালিদের জন্য তো এর ব্যবস্থা নাই। আপনি তো আমাদের সমস্যায় ফেলে দিলেন।

চাচা : ঈষৎ রাগতস্বরে, কি যা তা বলছেন? আমি হোমো? এই অপবাদ খোদ ঈশ্বরও আমায় দিতে পারবেন না। আপনি জানেন নিশ্চয়, আমার অফিসিয়ালি দুই দুইখান বউ ছিলো, আর আন-অফিসিয়ালি কয়খান ছিলো তার হিসেব নিজেরও জানা নাই (চাচার মুখে গর্বের হাসি)।

হেড : কমপ্লেক্স কেইস। একজিনিস বেশিদিন ভালো লাগে না, তাই এট লাস্ট আপনিও টেস্ট চেইঞ্জ করলেন। কিন্তু ওই টেস্ট চেইঞ্জটাই আমাদের সমস্যায় ফেলে দিলো। কি করা যায়? ওকে, আপাতত আপনাকে ডেডলি হোমো গ্রুপের সাথে শিফট করে দিই। পরে দেখা যাবে কি করতে পারি আপনার জন্য।

চাচা : চিৎকার করে উঠলেন, না না ধর্মবতার, এই অন্যায় করবেন না। আমার রসুন (প্রথম চাচীকে চাচা আদর করে রসুন ডাকতেন), মনীষা েেসকেন্ড চাচীকে এই নামে ডাকতেন, সম্ভবত মোম্বের মনীষার সাথে মিল খুঁজে পেয়েছিলেন) যেখানে আছে সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করুন।

হেড : সেটা তো সম্ভব নয়। উনারা এখন ক্লিনটনের কাছেই আছেন। ডোন্ট ওরি, উনাদের আদর যত্নের কোন ত্রুটি হচ্ছে না।

চাচা : (চাচার চোখ দুটো চকচক করে উঠলো) তাহলে আমাকে সোয়াপ (এঙ্চেইঞ্জ) করে দিন না। মনিকা আর হিলারির সাথে। প্লিজ ধর্মাবতার প্লিজ, এই অনুরোধ উপেক্ষা করবেন না।

হেড : খুব নীরস কন্ঠে, না হোমো সাহেব, তা সম্ভব নয়। উনারা তো খোদ ঈশ্বরের রুমে ডিউটি দিচ্ছেন। একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন হেড- আমি বরং আপনাকে ডাল্টন জনের ওখানেই থাকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। মন খারাপ হলে গান টান শুনতে পারবেন। সো, চিন্তা করবেন না।

চাচা : এবার উচ্চস্বরে কেঁদে উঠলেন। এই শাস্তি আমাকে দেবেন না। আমি একজন এক্স-মেজর জেনারেল, প্রেসিডেন্ট, কবি, প্রেমিক। এ অসম্মান আমাকে করবেন না।

হেড : (সান্ত্বনা দিয়ে) আশাহত হবেন না। সব স্বৈরাচারী শাসক, ভুঁয়া কবি আর ফ্রড প্রেমিকদের সাথে আপনার নিয়মিত সাক্ষাত হবে। উনারা আপনার পাশের রুমেই থাকেন। সে যাক গে, এখন কাজের কথাই আসি। বলেই তিনি একটা টিভি স্ক্রীণ অন করলেন। এরপর চাচাকে বললেন, দেখুন আপনি তো অনেক অপরাধ করেছেন, শাস্তি পেতে হবে বিধান অনুযায়ী। স্ক্রীণের এই শাস্তিগুলোর মধ্যে কোনটা আপনার পছন্দ হয় বলুন?

1ম ভিডিও - একজন লোক শক্ত গাছের গুড়ির উপর মাথা আর হাতে ভর দিয়ে পা দুটো উপরে তুলে দাঁড়িয়ে আছে আর একজন তার পিঠে সপাং সপাং করে চাবুক চালাচ্ছে।
চাচা চিৎকার করে উঠলেন, না না, এটা নয়। নেঙ্ট।

2য় ভিডিও - একজন লোককে একটা ব্লেন্ডার মেশিনের মতো যন্ত্রের ভিতর ঢুকিয়ে জুস বানানো হচ্ছে।
চাচা আবার চিৎকার দিয়ে উঠলেন, নেক্সট, নেক্সট।

3য় ভিডিও - একজন লোক ভীষণ নোংরা পানিতে কোমর ডুবিয়ে কফি খাচ্ছেন। আর মাঝে মাঝে বিকট চিৎকার দিচ্ছেন। এরপর সুন্দরী ললনাদের হিন্দি গান শুরু হলো।
চাচা হাসি মুখে বললেন, স্টপ, স্টপ। এটাই সিলেক্ট করুন। তৃপ্তিতে মন ভরে গেলো চাচার।

হেড মুচকি হেসে বললেন, ঠিক আছে, চলেন আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আসি। চাচা অনিচ্ছাসত্ত্বেও পা বাড়ালেন। হোমোদের এরিয়াতে প্রবেশ করতেই ডাল্টন জন চাচাকে স্বাগত জানালেন। মধুর হাসি দিয়ে বললেন,
স্বাগতম বন্ধু, আজ তুমি আমাদের সবাইকে আনন্দ দিবে। অনেকদিন আমরা ডিফেরেন্ট টেস্ট খুঁজছিলাম। বাংলাদেশি ফাওয়ারকে পেয়ে আমরা সবাই উল্লাসিত।

চাচা ভীষণ ভয় পেয়ে গেলেন। তোতলাতে তোতলাতে বললেন, আমাকে ছোঁবে না, আমার সিফিলিস আছে, এইডস আছে। সব শালারা মরে যাবে। একটাও বাঁচবে না।

জন উচ্চস্বরে হেসে উঠলেন। ডার্লিং তোমার মনে হয় মতিভ্রম হয়েছে। মরারা দুইবার মরে না। নো প্রবলেম, রাত হলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

হঠাৎ হেড তাড়া দিলেন। হোমো সাহেব আপনার শাস্তির সময় হয়ে গেছে। চলুন শাস্তি কক্ষে। চাচা উচ্ছ্বসিত হলেন, চলুন চলুন, কফি খাওয়া হোক, খুব মাথা ধরেছে।

হেড চাচাকে শাস্তি প্রকোষ্ঠে নিয়ে গেলেন। চাচাকে কোমর অব্দি নোংরা পানিতে দাঁড় করিয়ে দেয়া হলো আর হাতে দেয়া হলো কফির মগ। চাচা চুমুক দিলেন, ধ্যেৎ, এটা কফি? ভোটের চাও এর চেয়ে ভালো। বলতে না বলতে চাচার পায়ে কিসে যেন ঠোকর মারলো। চাচা চিৎকার দিয়ে উঠলেন, কিসে ঠোকরায়? সাপ নাকি?

হেড হেসে বললেন, না ওটা পিরানহা। এক ধরনের মাছ, মাংস খুবলে খায়। সমস্যা নেই সব মাংস খেয়ে ফেললে আবার নতুন মাংস গজাবে।

চাচা মনে মনে প্রমাদ গুনতে থাকলেন। ভয়ে চোখ দুটো ঠিকরে বের হয়ে আসতে চাইলো। এরমধ্যে এক যমদূত টাইপের লোক চাবুক হাতে এগিয়ে এলেন। চাচা ভীষণ ভয় পেলেন। আকুল হয়ে জানতে চাইলেন, চাবুক কেনো?

হেড বললেন, অনেক তো মজা করে কফি খেলেন। এবার আপনাকে মাথা নিচে দিয়ে পা উপরে তুলে দাঁড়াতে হবে আর ও আপনার পাছায় চাবুক মারবে।

চাচা প্রচন্ড আক্রোশে চিৎকার করে উঠলো, না না, এটা চরম অন্যায়। আপনার ফুটেজে এই ধরনের কোন শাস্তির দৃশ্য ছিলো না।

হেড হেসে বললেন, হোমো সাহেব আপনি ফুটেজে বিজ্ঞাপন বিরতির আগের অংশ দেখেছেন, হিন্দি গানের (আমাদের লর্ড আবার হিন্দি গানের ভক্ত কিনা) পরের অংশ দেখেননি।

চাচা তখন নিজেরে চুল নিজে ছিড়তে শুরু করেছেন। হেড হুংকার দিলেন, হোমো সাহেব, কুইক, হাত আর মাথা নিচে দিয়ে দুই পা উপরে তুলে দাঁড়ান।


*** শেষের দিকের অংশটা একটা কৌতুককে মডিফাই করে বানানো হয়েছে।

সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Victims of enforced disappearances পার্সন হিসেবে আমার বক্তব্য.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

গত ২৫ এবং ২৬ এপ্রিল ২০২৬ এ মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এবং World Organization Against Torture (OMCT) এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×