'ঘুষ'। আপাতদৃষ্টিতে খুব ছোট আর নিরীহ টাইপের এশটি শব্দ। কিন্তু বিসতৃতি মারাত্মক। অলি-গলি, টিকাটুলি পেরিয়ে এখন এই ক্ষুদ্র বস্তুটি (!) পৌঁছে গেছে পাকস্থলিতে ও। কিভাবে? একটু যাচাই করে দেখুন না, এই একটু আগেই আপনি যে মজাদার সুস্বাদু খাবারগুলি চেটে-পুটে রসনা নিবারণ করে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন, তার উৎস কি? যদি বলেন, 100% হালাল কামাই তবে পা দুটো দিন, ধুলো নিই, কারণ আপনি পুরুষ না মহাপুরুষ। আপনাকে জানাই লাল সালাম(লাল কেন? বিপ্লবী বিপ্লবী জোশ আছে লালের মধ্যে তাই)। সে যাই হোক। ঘুষ নামক জিনিসটা নাকি দেয়া এবং নেয়া সমান অপরাধ- গুরুজনে বলে। কিন্তু তাই বলে একটুও থেমে নেই এই ঘুষ কালচার। নচিকেতার একটা গান এ প্রসঙ্গে একটু জাবর কাটার স্পর্ধা দেখাই---
ঘুষ আমার ধর্ম, ঘুষ আমার কর্ম, ঘুষ নিতে নেই সংশয়।
প্রকাশ্যে চুমু খাওয়া এই দেশে অপরাধ, ঘুষ খাওয়া কখনোই নয়।
কারো ফাইল পাস করে নির্লজ্জের মতো হাতখানা পেতে দিতে পারি,
আমি সরকারি কর্মচারী, আমি, আমি সরকারী কর্মচারী।
না না, শুধু সরকারী অফিসগুলোতেই আর সীমাবদ্ধ নেই ঘুষের সীমানা। বাজারের আলু-পটলের মতো প্রকাশ্যে দরদাম করে চলছে এর বিনিময় সরকারী, বেসরকারী সব জায়গায়। সরকারী-বেসরকারী, খুচরা-পাইকারী, মন্ত্রী-দপ্তরী সব লেভেলে দৌর্দন্ড প্রতাপে চলছে এর রাজত্ব। আর লোকলজ্জা? ছো: মশায়, লজ্জার চক্ষু তো কবেই খেয়েছি আমরা। এখন শুধু চর্মচক্ষুই আছে যার কাছ দেখে যাওয়া আর তালে তাল দিয়ে যাওয়া। ঘুষ (থুক্কু ঘুষ বলতে ঘুষখোরদের আপত্তি অনেক তাই এর শিল্পিত নাম কখনো বখশিস, কখনো পারিশ্রমিক, কখনো উপহার, কখনো চা-পানি খরচ) দিতে পারেনি বলে কত ক্যাবলাকান্ত কেরাণীর মতো ছা-পোষা লোকদের পেনশনের ফাইল বছরের পর বছর এক টেবিলেই আটকা পড়ে আছে আজো তার হিসেব জানা নেই।
তবে সবচেয়ে লেটেস্ট খবর হলো ঘুষ বন্ধে সরকার আন্তরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা শুরু করেছে। তার অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে রাস্তার মোড়ে মোড়ে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসানো হচ্ছে যাতে করে ট্রাফিক পুলিশদের নির্লজ্জের মতো রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ঘুষ খাওয়াটা বন্ধ হয়ে যায়। খুবই উত্তম উদ্যোগ। আসুন তালিয়া লাগাই। এই প্রসঙ্গে নবনিযুক্ত পুলিশের আইজি আনোয়ারুল ইকবাল বলেছেন, 'রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাফিক পুলিশ ঘুষ নেয় এটা লজ্জার। এটি বন্ধ করতে হবে।' (প্রথম আলো : 09-07-2006ইং)। আসলেই তো - ঘুষের মতো শৈল্পিক একটা জিনিসকে রাস্তার মাঝে উলঙ্গভাবে আদান-প্রদান, এতো ঘুষের শ্লীলতাহানি বই আর কিছু নয়। কিন্তু কথা হলো, এতো গেলো রাস্তার বেশ্যাকে ঠেকানোর উপায়। কিন্তু হাই সোসাইটির কল গার্লকে ঠেকানোর জন্য কি কিছু করা হবে ? জনগনের এটাই জিজ্ঞাসা। তাহলে তো সব অফিসেই ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বসাতে হবে। শুরু করতে হবে হাওয়া ভবন থেকে। আসেন সবাই ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা লাগাই। আমি ভাবছি দেশে গিয়ে সিসিটিভির ব্যবসা শুরু করবো। পার্টনার হতে চাইলে আওয়াজ দেন।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




