somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগে শিয়ালদের দৌরাত্ম্য

১৪ ই জুলাই, ২০০৬ সন্ধ্যা ৭:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক বছর আগের কথা। আমি তখন এস.এস.সি. পরীক্ষাথর্ী। সাধারণ বিজ্ঞান 2য় পত্রের পরীক্ষা। জবা ফুলের ব্যবচ্ছেদ বা এরকম কিছু একটা পরীক্ষণের নাম ছিলো। তো আমি ব্যবচ্ছেদ করার জন্য যে ফুলটা পেলাম সেটা ছিলো বেশ জীর্ণ-শীর্ণ। এটাকে নিখুঁতভাবে ডিসেকশন সম্ভবপর নয় বলে মনে হলো। তাই ম্যাডামকে ফুলটা চেইঞ্জ করে দিতে বললাম। ম্যাডাম চেইঞ্জ করে দিলেন। ইতিমধ্যে, আরো দু'জন তাদের ফুল বদলে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানালেন। ম্যাডাম বললেন, 'ঐ শুরু হয়েছে। এক শিয়াল ডাক দিয়েছে, এবার সব শিয়ালকে ডাক দিতে হবে। এটা জেনেটিক্যাল প্রবলেম'। অনেকদিন পর সে ঘটনাটার কথা মনে পড়ে গেলো। তার মূল কারণ হলো, সামপ্রতিক সময়ে ব্ল্লগে শিয়ালদের দৌরাত্ম্য বেড়ে গেছে। কিছুদিন আগে এক শিয়াল হাক্কা-হুয়া করে ডাক দিলো, অমনি বাকী সব শিয়ালরাও লেজ তুলে সেই যে হাক্কা হুয়া করা শুরু করলো এখনো থামার লক্ষণ নেই। প্রকৃতিজগতে শিয়াল খুবই ধূর্ত প্রাণী। গৃহস্থের হাঁস মুরগী চুরি করতে বড় ওস্তাদ। তবে এই ধূর্ততার মধ্যে গৌরবের কিছু নেই কারণ ধূর্ত চোরের গর্বের কিছু নেই বলে। ব্ল্লগের শিয়ালরাও খুব ধূর্ত। এই ধূর্ততা পেয়েছে জেনেটিক্যালি ওই একাত্তরের শিয়ালদের কাছ থেকে। একাত্তরের শিয়ালগুলো অনেকাংশে নিবের্াধ ছিলো। অনেক সময় তারা নিজের মুরগী পর্যন্ত বর্গা রেখে আসতো হায়েনার কাছে হায়েনাকে তুষ্ট রাখতে। বর্তমান শিয়ালদের অনেকেই সেইসব হায়েনাদের ঝাড়। চান তারা দেখতে দেখতে দু'চোখে কবরের আন্ধার।

শিয়ালগুলোর বিদ্যার বহরে ঘাটতি আছে। সব অন্ধ শিয়ালে ছোঁক ছোঁক করছে চারপাশ। ওরে শিয়াল চোখ মেলে দেখ, তোদের পাশেই মালেশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার দিকে। তোদের চেয়ে অনেক বেশি ধর্মমনা আর সংস্কৃতিমনা ওরা। তোরা তো সব গ্রন্থগত বিদ্যে দিয়ে দেশকে সাত আসমান উপরে তোলার স্বপ্ন দেখছিস। যতসব রামছাগলের দল। ভুল, ছাগলও এতো নির্বোধ নয়। এক শিয়াল সম্ভবত শিয়ালনি দেখলাম লিস্টি করে ফতোয়া দিয়েছে, অনেককে কাফের ঘোষণা করেছে, নিশ্চিত দোজখে যাবে বলে সার্টিফিকেট দিয়েছে। ওই লিস্টির সবাই যে দোজখে যাবে সে ব্যাপারে আমিও একমত। কারণ তাদের কেউ বুজুর্গ (নাকি বুজুরুক) সাঈদী সাহেবের কাছ থেকে শিয়ালনির মতো বেহেস্তের টিকিট কিনেননি। অতএব দোজখে যাওয়া তাদের নিশ্চিত। কিন্তু লিস্টিটা বড্ড ছোট। শিয়ালনির বুদ্ধিতে মনে হয় শর্ট পড়েছিলো। শিয়ালনি জানে না, ঘোর মূর্তি উপাসককেও হলফ করে দোজখে যাবে এ কথা বলা যায় না কারণ সে মরার আগে ধর্ম পরিবর্তন করে মুমিন হতেও পারে। তার ধর্মজ্ঞান এতোই সীমিত।

এবার একটা গল্প বলি। এক লোক কোন পাপ কাজ করেন না। আর তার প্রতিবেশী সর্বদা মিথ্যাচারী। এই অপাপী লোক সবসময় হিসেব রাখেন পাপী লোকটি কি কি পাপ কাজ করলো না করলো এসবের। তার নিশ্চিত ধারণা ছিলো এই লোকটি নাস্তিক এবং দোজখে যাবে। মরার পর দু'জনকে আল্লাহর কাছে উপস্থিত করা হলো। অপাপী লোকটিকে জিজ্ঞেস করা হলো, তুমি সারাজীবন কি করেছো? লোকটি বললেন, এই লোকটি (পাপী লোকটিকে নির্দেশ করে) দূরাচারী। আমি প্রতিদিন তার পাপ কাজের হিসেব রেখেছি। আল্লাহ বললেন, 'সে প্রতিদিন পাপ কাজ করেছে আর অন্তত একবার মনে মনে বলেছে, হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিও। আর তুমি প্রতিদিন তার পাপ কাজের হিসেব নিয়ে এতোই ব্যস্ত ছিলে যে একবারও আমাকে স্মরণ করতে পারনি'। এই হলো জ্ঞানপাপীদের জ্ঞানের বহর। আমাদের বর্তমান শিয়ালদের অবস্থাও এইরকম। তবে শিয়াল যত ধূর্তই হোক ফাঁদে তাকে পড়তেই হবে। আসুন শিয়াল নিয়ে একটা ছড়া শুনি।

ফান্দে পইড়া কান্দে শিয়াল
ভুইলা গেছে হাক্কা হুয়া,
নতুন লেবাস ধরছে শিয়াল
রাজাকারের জাউরা পোয়া।
এবার শিয়াল বুঝবি কেমন
আমজনতার বাশেঁর ডলা,
ঠেসে ধরলে খাবি শিয়াল
ছিইড়া নিজের বাপের কলা।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০০৬ ভোর ৫:৩৯
২০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সবাই জামাতের পক্ষে জিকির ধরুন, জামাত বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে!

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩১



চলছে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা, তুমুল লড়াই হচ্ছে জামাত ও বিএনপির মধ্যে কোথাও জামাত এগিয়ে আবার কোথাও বিএনপি এগিয়ে। কে হতে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ সরকার- জামাত না... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচন তাহলে হয়েই গেল

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:১৬


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত বেসরকারি ফলাফলে ১৭৫টি আসনে জয় পেয়েছে দলটির প্রার্থীরা।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা ৫৬টি আসনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ : পর্যবেক্ষণ,পর্যালোচনা ও ফলাফল

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:২০



আজ রাত ১২ই ফেব্রুয়ারী, দেশব্যাপী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ এর ভোট গণণা চলছে ।

যত সমস্যার সৃষ্টি এই ভোট প্রয়োগ করা নিয়ে । কেউ বলছে ভোট দিতে হবে , কেন্দ্রে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেটিকুলাস ডিজাইনের নির্বাচন কেমন হলো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:২৪


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি ২১৩ আসনে জয়ী হয়েছে। তবে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ভালো ফলাফল করেছে জামায়াত ! এগারো দলীয় জোট প্রায় ৭৬ টি আসনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ চুরান্ত লজ্জার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে।

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



অনেক জল্পনা কল্পনার পর শেষ পর্যন্ত বিএনপির ভূমিধ্বস বিজয় হয়েছে- এ যাত্রায় দেশ চুরান্ত লজ্জার হাত থেকে বেঁচে গেলো। চারিদিকে যা শুরু হয়েছিলো (জামাতের তাণ্ডব) তা দেখে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×