ইন্টারভিউ বোর্ড : আপনি তো অনেক দূর থেকে এসেছেন?
ছেলেটা : জি।
বোর্ড : কিসে এসেছেন?
ছেলেটা : কিছুটা পথ বাসে আর বাকিটা রিক্সায়?
বোর্ড : আপনার বাসা কি ওখানেই?
ছেলেটা : জি।
বোর্ড : বাসায় আর কে কে আছেন?
ছেলেটা : জি, আমি মেসে থাকি।
বোর্ড : ও। আপনার মেস ভাড়া কত পড়ে?
ছেলেটা : 800 টাকার মতো।
বোর্ড : খাবার কি মেসেই খান নাকি বাইরে?
ছেলেটা : জি, রাতে মেসে খাই আর দুপুরে হোটেলে।
বোর্ড : হোটেলে খান? ওগুলো তো খুব নোংরা। অসুখ করে না।
ছেলেটা : মাঝে মাঝে সমস্যা হয় একটু আধটু। তবে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
বোর্ড : কত খরচ হয় প্রতিদিন?
ছেলেটা : 12 থেকে 15 টাকা (ঈষৎ লজ্জা নিয়ে বলে)।
বোর্ড : কি বলেন? মাত্র 12 থেকে 15 টাকায়?
ছেলেটা : (খুব আড়ষ্ট হয়ে পড়ে) এই আর কি! সবজি দিয়ে খাই তো তাই কম লাগে।
বোর্ড : ওকে . . . . . .
বোর্ড : আচ্ছা। আপনি কি এখন কোথাও চাকরি করছেন?
ছেলেটা : না, চেষ্টা করছি।
বোর্ড : তো আপনার চলে কিভাবে?
ছেলেটা : তিনটে টিউশনি করি। টেনেটুনে চলতে হয়।
বোর্ড : ও। কতো পান টিউশনি থেকে?
ছেলেটা : বাইশশ টাকার মতো।
বোর্ড : জমাতে পারেন কিছু?
ছেলেটা : না, প্রতি মাসে বাড়িতে 500 টাকার মতো পাঠাতে হয়।
বোর্ড : বাড়িতে কে কে আছেন?
ছেলেটা : মা আর ভাই, বোন।
.........................................
এরকম আরো 20 মিনিট অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে সেই ছেলেটার একান্ত অনুভূতিগুলিকে, সরল দিন-যাপনের কষ্টগুলিকে সবার সামনে টেনে এনে তার বিব্রতকর মুহুর্তগুলি উপভোগ করছিল সেই তথাকথিত সমাজে প্রতিষ্ঠিত উচ্চস্তরের মানুষগুলি। ছেলেটার যোগ্যতা যাচাই করার কোন দরকার ছিলো না তাদের, কারণ- অনেক ইন্টারভিউয়ের মতো এটাও ছিল একটা সাজানো নাটক।
লাঞ্চ আওয়ারে আয়েস করে যখন মুরগীর রান চিবোয় তখন মনে থাকে না একটু আগেই তারা একটা পুরো মানুষকে চিবিয়েছিল। আমার টিপিক্যাল মধ্যবিত্ত চিন্তাধারার মনটা শুধু অক্ষম ক্রোধে ছটফট করতে থাকে। আর সেই ছেলেটা . . . . . . . . সেই ছেলেটা হয়তো সস্তা কোন হোটেলে দুপুরের খাবার খেয়ে, লোকাল বাসের বাম্পারে ঝুলতে ঝুলতে ধূলি ধুসরিত হয়ে বাসায় ফিরবে। এক বুক আশা নিয়ে অপেক্ষা করবে একটা স্বপ্নময় খামের জন্য যা কোনদিন তার দোরগোড়ায় পৌঁছাবে না।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০০৬ দুপুর ২:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



