somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছু পক্ষপাতদুষ্ট ইশপের গল্প

০৮ ই অক্টোবর, ২০১২ বিকাল ৫:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
১। রংহেডেড শেয়াল



এক বনে এক হামবড়া, মিথ্যাবাদী শেয়াল বাস করত। নিজেকে সে সবার চেয়ে সেরা ভাবত, এমনকি বনের রাজা বাঘও তার কথার আক্রমণ হতে রক্ষা পেত না। সব সময় বাঘের শিকারের অবশিষ্ট খেয়ে বেঁচে থাকলেও জোর গলায় দাবী করত, সে একাই আস্ত বুনো মহিষ মেরে ফেলতে পারবে।

এসব শুনে বনের রাজা বিরক্ত হয়ে শেয়ালকে ডেকে পাঠিয়ে বলল- আমার শিকার খেয়ে বেঁচে থাকিস আবার বড় বড় কথা বলিস, আজ থেকে তুই আর কোন খাবারের ভাগ পাবিনা।
শুনে শিয়াল বলে- তাহলে তো না খেয়ে মারা পড়ব মহারাজ, দয়া করুন।
এরপর নাকে খত দিয়ে বাঘের কাছে ভুল স্বীকার করে বিদায় নিল ধূর্ত শিয়াল। কিন্তু ফিরে গিয়ে সারা বনে প্রচার করতে লাগল, বাঘ শিয়ালের কাছে হার মেনে আধিপত্য স্বীকার করে নিয়েছে আর এখন থেকে বাঘের শিকারের অর্ধেক অংশ শিয়ালকে দেওয়া হবে।
এ কথা বাঘের কানে পৌঁছালে, রাগে ছুটে গিয়ে এক থাবার আঘাতে শিয়ালকে হত্যা করল।

সারকথাঃ যেসব কথা পাগলের মুখে শোভা পায়, সেসব কথা দায়িত্বশীল মানুষের জন্য বিপদ বয়ে আনে।
উপসংহারঃ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দয়া করে বিশ্বব্যাংকের ব্যাপারে কিছু বলা হতে বিরত থাকুন।


২। নেকড়ের ছলা-কলা



একবার নদীর পাড়ে এক নেকড়ে পানি খেতে এসেছে, হঠাৎ দেখল সামান্য দূরে এক মেষশাবক পানি খাচ্ছে। নাদুস নুদুস মেষ ছানাটিকে দেখে নেকড়ের জিভে পানি এসে গেল, কিন্তু কি অজুহাত দিয়ে এটিকে হত্যা করা যায়, তাই নিয়ে চিন্তায় পড়ল।

নেকড়ে এগিয়ে গিয়ে মেষ শাবককে বলল- ওই বেটা জঙ্গি, তুই এই বনে কি করিস?
শুনে আশ্চর্য হয়ে মেষ শাবক বলল- জনাব, আমি হলাম এই বনের অতি সাধারণ প্রাণী। আমার তো নখ, দাঁত কিছুই নেই; আমি জঙ্গি হলাম কিভাবে!!
নেকড়ে শুনে বলল- তুই জঙ্গি না হলেও আমার পিতাকে হত্যা করেছিলি।
মেষ শাবক বলল- হুজুর, তখন তো আমার জন্মই হয়নি; আমি কিভাবে হত্যা করলাম??
তখন নেকড়ে বলল- তুই সবসময় স্বাধীনতাবিরোধীদের পক্ষে কথা বলিস।
ছোট্ট মেষ ছানা উত্তরে বলল- এদের জ্বালায় তো আমিই বনে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে পারি না, সুযোগ পেলেই আমাকে মারতে চায়; আমি কোন দুঃখে এদের পক্ষ নিতে যাব!!
সব যুক্তি ব্যর্থ হয়ে নেকড়ে শেষে বলল- তুই তোর ফেসবুকে আমার নামে বাজে কথা বলেছিস।
এবার মেষশাবক বলল- আশ্চর্য! আপনার কথা কখন বললাম? আমি তো শুধু বলেছি এক ভয়ঙ্কর রক্তলোভী পিশাচের কথা।

এই কথা শুনা মাত্রই নেকড়ে এক লাফে মেষ শাবকের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে বলল- এই বনে রক্তলোভী পিশাচ কে তা সবাই জানে। বলেই মেষ শাবকের গলায় দাঁত বসিয়ে দিল।

সারকথাঃ দুর্জনের ছলা কলার অভাব হয়না। বিপদ এড়িয়ে চলতে শান্তি কন্যা, ডিগ্রি কন্যা, নোবেল কন্যা ব্যতীত অন্য কোন উপাধি প্রদান হতে বিরত থাকুন। ;)
উপসংহারঃ বাঘে ধরলে বাঘে ছাড়ে, কিন্তু নেকড়ে ধরলে ছাড়ে না।

৩। ধূর্ত শেয়ালের গপ্পো



এক বুড়ো শেয়াল অন্য শেয়ালদের গল্প শুনাচ্ছে, সে যখন গ্রামে কৃষকের বাড়িতে মুরগি চুরি করতে যায় বাড়ির কুকুরগুলো তাকে বাঁধা দেওয়ার বদলে স্বাগত জানায়। কুকুরগুলো খুবই সম্মান করে বুড়ো শেয়ালকে।

এই শুনে অন্য শেয়ালরা তাকে মিথ্যাবাদী বলতে লাগল। শুনে বুড়া শেয়াল রেগে গিয়ে বলল, চল তাহলে আমার সাথে, রাতের বেলায় গ্রামে ঢুকলেই প্রমাণ পাবি তোরা।

রাতের বেলায় গ্রামের কাছে গিয়ে শুনা গেল, কুকুরগুলো থেমে থেমে টানা ডাক দিচ্ছে। শেয়াল বলল, ঐ যে শোন, কুকুরগুলো খালুউউউউউউ... বলে আমাকে ডাকছে। কুকুররা যে তোদের মাসতুতো ভাই সেটা জানিস তো! আমাকে তাই তারা খালু বলে। তবে আমি তাদের কাছে ঘেঁষতে দেইনা, কুকুরের জাত কখন কি করে বসে তার তো কোন ঠিক নেই।
তাই তাদের ডাকলে পাত্তা না দিয়ে উত্তর দেই- মুই কার খালু রে!!(কুকুরের উত্তরে শেয়াল এটাই বলে, যদিও আমরা ভুল করে হুক্কা হুয়া শুনতে পাই) :|

বুড়ো শেয়ালের এমন কৃতিত্ব দেখে বাকি শেয়ালগুলোও খুশি মনে বনে ফিরে গেল।

সারকথাঃ দলের শেয়ালগুলোকে ফাঁপা বুলি দিয়ে সন্তুষ্ট করা গেলেও, দেশবাসীকে করানো যাবেনা।
উপসংহারঃ ..................নেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০১২ রাত ৯:১৬
৪২টি মন্তব্য ৪০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হায়রে জীবন!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৪ শে মে, ২০২৬ সকাল ৮:৫৬

হায়রে জীবন!

যারা বছরের পর বছর রাষ্ট্রক্ষমতার ছত্রছায়ায় থেকে মানুষ গুম করেছে, নির্যাতন করেছে, পরিবার ধ্বংস করেছে, রাষ্ট্রকে ভয় ও আতঙ্কের কারখানায় পরিণত করেছে- তাদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন আজ “ভিআইপি আসামি”।
কারাগারেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যা মা তুই অসীমে... পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিস

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৪ শে মে, ২০২৬ সকাল ১১:৪৯


ইয়াসমিন থেকে রামিশা এরপর কে? আমরা কবে মানুষ হবো? ওরা ধর্ষণকারী, আর আমরা দর্শনকারী! ...বাকিটুকু পড়ুন

রসময় গালগল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৪ শে মে, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



প্রতিদিন ভাবি তুমি এলে বেশ জমিয়ে করবো-
রসকষহীন কাঠখোট্টা গল্প!
আমার সঞ্চয়ে নেই কোনো রসময় গালগল্প-
যা থেকে পেতে পারো যৎকিঞ্চিত উষ্ণতা।

আমি ঠিক নিশ্চিত নই আদৌ তুমি আসো কিনা!... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদযাত্রায় সচেতন হোন, নিরাপদ থাকুন

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৪ শে মে, ২০২৬ বিকাল ৩:২১



ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে সারা বছরের কর্মব্যস্ততা পেছনে ফেলে শেকড়ের টানে নীড়ে ফেরার চিরন্তন আকুলতা। প্রিয় মুখগুলোকে বুকে জড়িয়ে অপার্থিব শান্তি অনুভব করা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেঝ দা

লিখেছেন শেরজা তপন, ২৪ শে মে, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

লেখালেখি ভীষন বিরক্তিকর লাগে এখন। গাইতে গাইতে গায়েনের মত আমি লিখতে লিখতে লেখক হয়েছি। লেখালেখি নি কোন আশাবাদ বা প্যাশন আমার কস্মিনকালে ছিল না- এটা আমার নেহায়েত শখের বিষয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×