somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৫৭ বছরেও নেই ২১ শতকের প্রযুক্তির ছোঁয়া

২০ শে মে, ২০১২ রাত ৮:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পদ্মার পাড়ে বরেন্দ্র ভূমির বুকের উপর জ্ঞান আহরণ ও বিতরণের এক বিশাল ভান্ডার হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। আর এই জ্ঞান বিতরণের প্রধান মাধ্যম হলো বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ৫৯ বছর পার হলেও এই গ্রন্থাগার পায়নি তার আধুনিকায়ন। সৃষ্টি হয়নি পড়াশোনার সর্বাত্ত্বক সুযোগ। অনেকাংশে বাকি রয়ে গেছে তার উন্নয়নের কাজ। আর এতে করে বিশ্ববিদ্যালয় শিার্থীরা পাচ্ছে না যুগের সঠিক শিা। গন্থাগারের অবকাঠামোগত অনুন্নয়নের কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিার্থীদের পাঠ ব্যবস্থা।
এখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক হাজারেরও বেশী জ্ঞানপিপাসুরা এই গ্রন্থাগারের পাঠক ব্যবহার করে থাকে। তিন তলার এই বিশালাকার গ্রন্থগারটিতে পুস্তক, দেশি-বিদেশি জার্ণাল ও পুরানো পত্র-পত্রিকাসহ (১৯৪৭ সাল হতে আজ পর্যন্ত) রয়েছে আরো অনেক মূল্যবান সব ডকুমেন্ট। যার মূল্য বর্তমানে সত্যিই অনুমেয় নয়। কিন্তু প্রযুক্তিগত ভাবে পিছিয়ে থাকার কারণে পূর্বের অনেক কিছ্ইু এখন সংণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আর তাই খুব দ্রুত যদি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারকে প্রযুুক্তিগতভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া না হয় তাহলে এ বিশ্ববিদ্যালয়সহ গোটা দেশ হারাবে জাতির অনেক অতীত ইতিহাস।
গত ১৯ মে ২০১২ বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের বর্তমান প্রশাসক প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র দাসের কাছে লাইব্রেরী স¤পর্কে জানতে গেলে তিনি তুলে ধরেন লাইব্রেরীর নানা দিক।
তিনি মনে করেন, সমন্বিত গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বা ওহঃরমৎধঃবফ খরনৎধৎু ঝুংঃবস (ওখঝ) ছাড়া এই গ্রন্থাগার যে চলছে তা ভাবাই যায় না। কেননা ২১ শতকের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে এর প্রযুক্তি ব্যবস্থার সাথেও আমাদের অবশ্যই পরিচয় থাকতে হবে। অল্প সময়ে কিভাবে আমরা আমাদের কাজকে সামনে এগিয়ে নেব তাও জানতে হবে।
তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অমূল্য সম্পদের কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করেন, এই গ্রন্থাগারে ১৯৪৭ সাল থেকে আজ পর্যন্ত বিশালাকার পত্রিকা ভাণ্ডার রয়েছে। এছাড়া রয়েছে অবিভক্ত ভারতবর্ষের দু-তিনশ বছরের নানা দু®প্রাপ্য গ্রন্থ/পত্রিকা/ডকুমেন্টস। তার মতে, এগুলো যদি চউঋ আকারে রাখা যেত তাহলে তা যেমন একদিকে দেশ বিদেশের অসংখ্য গবেষক তথা জ্ঞান-পিপাসুরা সহজে ব্যবহার করতে পারতো অন্যদিকে সেগুলো কখনও নষ্ট হতো না। সংরণ করা যেত যুগ যুগ ধরে। গ্রন্থাগারের বিপুল পরিমাণের বই/সাময়িকীগুলোর ডাটাবেস ২১ শতকের উপযোগী ফরম্যাট মার্ক-২১ এ তৈরি করে তা ওখঝ সফটওয়ার এর সাথে লিংক করাতে পারলে শিার্থীরা অতি সহজে এবং অল্প সময়েই তাদের কাঙ্খিত বই/সাময়িকীর সন্ধান করে নিয়ে নিজেরাই নিজেদের বই ইস্যু করতে পারতো। এই ব্যবস্থা না থাকার জন্য শিার্থীদের সময় অপচয় হচ্ছে কয়েক গুন। এ গ্রন্থাগার একসময় ১০ হাজার শিার্থীর জন্য তৈরি করা হলেও তা এখন ব্যবহার করছে প্রায় ৩০ হাজার শিার্থী। শিার্থীর সংখ্যা তিনগুণ বৃদ্ধি পেলেও এর অবকাঠামোগত কোন কিছুই পরিবর্তন হয়নি। ২০০৮ সালে গ্রন্থাগারের পাঠকগুলোয় অপরিকল্পিতভাবে এসি লাগানো হয়েছিলো। এই এসি এখন গ্রন্থাগারের অন্যতম সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। সর্বমোট ১৯টি মেশিনের মধ্যে বর্তমানে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৯টি এসি বিকল ও বাকী ৮টি প্রায় বিকল হওয়ার পথে। এগুলো মেরামতের জন্য গ্রন্থাগারে নিজস্ব কোন ফান্ড নেই। গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড গরমে ছাত্র-ছাত্রীরা অতিষ্ঠ হয়ে বার বার প্রশাসককে তাগাদা দিলেও তিনি ‘প্রকৌশল দপ্তরকে লিখিতভাবে সবকিছু জানানো হয়েছে’ ব্যতিরেকে তাদেরকে আর কোন আশার বাণী শোনাতে পারছেন না। অপরিকল্পিতভাবে এসি স্থাপন করতে যেয়ে লোহার তার ঝুলিয়ে জিপসাম বোর্ড দিয়ে যে ফলস ছাদ তৈরি করা হয়েছিলো- সেই খোলা ছাদের উপরে বিপুল পরিমাণ ধুলোবালি, ময়লা, আবর্জনা ও মাকড়সার জাল জমে তা কিম্ভূতাকার রূপ নিয়েছে। এর ফলে গ্রন্থগার ব্যবহারকারী ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সৌন্দর্যের কথা না হয় বাদ রাখা গেলো। এই বিশাল গ্রন্থাগারে তেমন কোন দ জনশক্তি নেই বলে উল্লেখ করেন বিধান চন্দ্র দাস। তিনি বলেন, ‘গ্রন্থাগারের ৮০ ভাগ কর্মচারি ও সহায়ক কর্মচারিরা কম্পিউটার সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ। তাই তাদের নিকট থেকে একুশ শতকের প্রযুক্তি নির্ভর গ্রন্থাগার সেবা আশা করাই বৃথা।’
সম্ভাবনার দিকঃ
তিনি বলেন, ‘আমাদের লাইব্রেরীর সব বই/সাময়িকীগুলোর ডাটাবেস মার্ক-২১ এ তৈরি করে তা সমন্বিত লাইব্রেরী ব্যবস্থাপনা সফটওয়ার এর সাথে সংযোগ করানো সম্ভব হলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অসংখ্য শিার্থী/গবেষক লাভবান হতো। এই সুবিধা সৃষ্টি করা গেলে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থীরা ঘরে বসেই জানতে পারতো তাদের প্রয়োজনীয় বইয়ের খোঁজ। শিার্থীরা খুব কম সময়ে লাইব্রেরীর বইয়ের সেল্ফ বা তাক থেকে নিজেদের বই বাছাই করে নিয়ে নিজেরাই ইস্যূ করতে পারতো নিজেদের কে পড়ার জন্য।’
‘আমাদের শিার্থীদের চাহিদা মতো গ্রন্থাগারে যদি প্রয়োজনীয় সংখ্যক কম্পিউটার (নূন্যতম ৪০০টি) ব্যবস্থা করা সম্ভব হতো- তাহলে তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে শিার্থীরা নিজেদের জ্ঞানের জগতকে সাজিয়ে নিতে পারতো নিজের মতো করে। প্রয়োজনে তারা দেশের কিংবা বাইরের বিষয়কেন্দ্রিক নানা ধরনের তথ্য পেয়ে যেত এক মূহুর্তে। আর এতে পরিশীলিত হতো তাদের মেধা ও মনন। যার দ্বারা ভবিষ্যৎ জীবনে তারা পেত অবারিত কাজের সুযোগ। সৃষ্টি হতো গবেষণার জন্য অনুসন্ধানী মন। তৈরী করা যেত দেশের জন্য দ নাগরিক।’ আরো কতো কি!
তবে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার সম্পর্কে এ রকম আরো অনেক চিন্তা মাথায় থাকলেও অর্থের অভাবে তা কাজে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করেন এই প্রশাসক। বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে দেশে চলমান ‘হেকেপ কর্মসুচীতে’ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার দু-দুবার প্রকল্প জমা দিয়েও ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি জানালেন। তাই গ্রন্থাগারের উন্নয়ন আপাতত হচ্ছে না বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। তবে তিনি মনে করেন, ‘কাজের পরিকল্পনা থাকলে সে কাজ বাস্তবায়ন হওয়া অবশ্যই সম্ভব’। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা শিা মন্ত্রলায় থেকে এ ব্যাপারে অর্থ পাওয়া গেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার দেশের মধ্যে একুশ শতকের প্রযুক্তিসমৃদ্ধ অন্যতম একটি গ্রন্থাগার হিসেবে দেশ বিদেশের শিার্থী/গবেষকদের সেবা প্রদান করতে সম হবে।
গ্রন্থাগারের বর্তমান অবস্থাঃ
বাংলাদেশে যতগুলো জার্নাল প্রকাশিত হয় তার অধিকাংশ জার্নালই সংগৃহীত রয়েছে এই গ্রন্থাগারে। গ্রন্থাগার কর্তৃপ প্রতি বছর প্রায় নয়’শ এর বেশি দেশী-বিদেশী সাময়িকী সংগ্রহ করে থাকে। এ ছাড়া গ্রন্থাগারটি প্রতি বছর অনুদান হিসেবে প্রায় ৫৪০ কপি বই পেয়ে থাকে। বর্তমানে গ্রন্থাগারে প্রায় ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৪১৫টি পুস্তক, ৪১ হাজার ৬শত ২২টি সাময়িকী/জার্নাল রয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এতো /বৈচিত্রময় সগ্রহ সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার আর কোথাও নেই। যা অতি সহজেই যে কাউকে আকর্ষণ করে।
এছাড়া সংবাদপত্রের জাদুঘরের মত অতি প্রাচীন দু¯প্রাপ্য অনেকগুলো পত্রিকার মূল্যবান সংখ্যা সংরতি রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় এই গ্রন্থাগারে। পত্রিকাগুলোর মধ্যে রয়েছে দৈনিক আজাদ (১৯৪৯ সাল থেকে ১৯৯১ সালের জানুয়ারী পর্যন্ত সব সংখ্যা), পাকিস্তানের অবজারভার (১৯৫২-১৯৭১), লন্ডন অবজারভার (১৯৫৪-১৯৬১), দি মর্নিং নিউজ (১৯৬০-১৯৭৫), সানডে টাইমস (১৯৫৪-১৯৫৫), দি ডন (১৯৬০-১৯৭১), দি লিটারেরি সাপলিমেন্ট (১৯৪৬-১৯৬৩), দৈনিক পাকিস্তান (১৯৬৬-১৯৭১), দি স্ট্যাট্সম্যান (১৯৫৯-১৯৬৫), টাইমস্ (১৯৫৯-১৯৬০), ইউনাইটেড নেশনস্ উইকলি নিউজলেটার (১৯৫৩ সালের কিছু সংখ্যা), দৈনিক সমাজ (১৯৭১-১৯৭২) পাক সমাচার (১৯৬৯), পয়গাম ১৯৬৬ সালের সংখ্যাসমূহ, পূর্বদেশ (১৯৭০-১৯৭১), দৈনিক সোনার দেশ (১৯৭০-১৯৭১) ও দৈনিক সংগ্রাম ১৯৭০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সংখ্যাসমূহ।
এছাড়া স্বাধীনতার পর প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার মধ্যে রয়েছে দৈনিক স্বদেশ (১৯৭২-১৯৭৩), দৈনিক গণবাংলা ১৯৭২, দৈনিক বাংলা (১৯৭২-১৯৯৬), দৈনিক বাংলার বাণী (১৯৭২-১৯৭৬), বাংলার মুখ ১৯৭৪, বাংলাদেশ অবজারভার (১৯৭২ থেকে আজ অবধি), আনন্দবাজার (১৯৭৩-১৯৭৪), অমৃতবাজার পত্রিকা (১৯৭৩-১৯৭৩), হিন্দুস্তান স্ট্যান্ডার্ড (১৯৭৩-১৯৭৪), গণকণ্ঠ (১৯৭২-১৯৮২), ইত্তেহাদ (১৯৭৩-১৯৭৪), জনপদ (১৯৭৩-১৯৭৫), বাংলাদেশ টাইমস (১৯৭৪-১৯৯৬), দি হলিডে (১৯৭৩-১৯৯৪), দৈনিক নব অভিযান (১৯৮৭-১৯৮৭), দৈনিক মিলাত (১৯৮৯-১৯৯৬), দৈনিক পত্রিকা (১৯৮৯-১৯৯০), আজকের কাগজ (১৯৯২-২০০৭), বাংলাদেশ টুডে (২০০৪ থেকে আজ অবধি), মুক্তকণ্ঠ (১৯৯৮-২০০০), ভোরের কাগজ (১৯৯২ থেকে আজ অবধি), আল মুজাদ্দেদ (১৯৯৪-১৯৯৬), দৈনিক দেশ (১৯৭৯-১৯৯১), দৈনিক বার্তা (১৯৭৬-১৯৯৬), সোনালী সংবাদ (২০০১ থেকে আজ অবধি), দিনকাল (১৯৯০ থেকে আজ অবধি), ইনকিলাব (১৯৮৭ থেকে আজ অবধি), দি ডেইলি নিউজ (১৯৮৪-১৯৮৮), ডেইলি স্টার (১৯৯৮ থেকে আজ অবধি), জনকণ্ঠ (১৯৯৪ থেকে আজ অবধি), দৈনিক জনতা (১৯৮৪ থেকে আজ অবধি), দৈনিক খবর (১৯৮৫-১৯৯৬), নিউ নেশন (১৯৮৪-১৯৯৬), দি পিপল (১৯৭০-১৯৭৫), রাজশাহী বার্তা (১৯৭৪), দি টেলিগ্রাফ (১৯৯২-১৯৯৪) এবং ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস (১৯৯৮ থেকে আজ অবধি)। দৈনিক ডেসটিনি বর্তমান, দৈনিক ইত্তেফাক (১৯৬৩ সাল থেকে মাঝখানে কিছুটা বিরতি দিয়ে বর্তমান পর্যন্ত সংখ্যা), দৈনিক সংবাদ (১৯৬০ সাল থেকে বর্তমান)।
তাছাড়া দেশী-বিদেশী বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত জার্নাল ও এমফিল ও পিএইচডি গবেষণা পত্রে ভরপুর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারটি। আজ থেকে ২৪৭ বছর আগে ১৭৬৪ সালে প্রকাশিক উইলিযাম বের্টন রচিত ‘ব্রিটানিকা অ্যাটলাস’ মানচিত্র বিষয়ক একটি বই ছাড়াও দেশ ও বিদেশের প্রকাশিত ১২৭টি সচিত্র মানচিত্র বিষয়ক বই রয়েছে গ্রন্থাগারে।
যেভাবে সাজানো হয়েছে গ্রন্থাগারঃ
গ্রন্থাগার ভবনের নিচতলায় রয়েছে অফিস, ধার শাখা এবং বিভিন্ন পত্রিকা, অধ্যায়ন করে সকল পাঠ্যপুস্তকের সংরণ কপি ও জার্নালের সমাহার। প্রধান গেইট দিয়ে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠতেই দুই পাশে রয়েছে ক্যাটালগ কেবিনেট বক্স। বক্সগুলোতে গ্রন্থাগারে সংরতি বইগুলোর বিস্তারিত তথ্যের কার্ড রয়েছে যার মাধ্যমে কোন বই কোথায় কোন শেলফে রয়েছে তার দিক নির্দেশনা রয়েছে। ভবনের দ্বিতীয় তলায় ২০১ নম্বর কে সংগৃহীত কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, বিজনেস স্টাজিড ও আইন অনুষদভুক্ত এবং ২০২ নম্বর কে বিজ্ঞান, জীব ও ভূ-বিজ্ঞান এবং কৃষি অনুষদভূক্ত বিভাগগুলোর সব বই রয়েছে। ২০৩ নম্বর কে রয়েছে রেফারেন্স শাখা যেখানে রয়েছে বিভিন্ন বিষয়ের অভিধান, বিশ্বকোষ, ম্যানুয়াল, ডাইরেক্টরি, বার্ড (কুমিলা) পাবলিকেশন্স, বাংলাপিডিয়ার মত মূল্যবান সব সম্ভার। ২০৪ নম্বর কে ডকুমেন্টেশন অ্যান্ড রেয়ার শাখায় এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেয়া বিভিন্ন এমফিল ও পিএইচডি গবেষণার থিসিস, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, রবীন্দ্র ও নজরুল রচনাবলী, শাহনামা, গেজেটিয়ার, ইউএনও, ইউনেস্কো, ইউএনডিপিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রকাশনাসহ অনেক সংগ্রহ। তবে এই করে অন্যতম মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে বিগত দু-তিনশ বছরের অবিভক্ত ভারতবর্ষের নানা ধরনের পত্রিকা/সাময়িকীসহ বিদেশী ভাষার পুরনো সব গ্রন্থ। এখানে কেবলমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক ও অনুমতিপ্রাপ্ত গবেষকরা প্রবেশ করতে পারেন।
ভবনের তৃতীয় তলায় রয়েছে গ্রন্থাগার প্রশাসকের অফিসসহ গ্রন্থাগার পরিচালনার জন্য বিভিন্ন প্রশাসনিক অফিস। রয়েছে প্রয়োজনীয় ফটোকপির জন্য ফটোকপি শাখা। সাময়িকী শাখায় রয়েছে বিভিন্ন দেশ ও বিভিন্ন বিষয়ের জার্নাল, সাপ্তাহিক, মাসিক, বার্ষিকসহ বিভিন্ন ধরণের ম্যাগাজিন, অর্থনৈতিক সমীা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রতিবেদন। বিপরীত পাশেই রয়েছে অর্ধশতাধিক কম্পিউটার সমৃদ্ধ ইন্টারনেট ল্যাব। সেখানে কেবলমাত্র মাস্টার্সের শিার্থীরা প্রবেশ করে ইন্টারনেট সুবিধা উপভোগ করতে পারে। এর পাশে রয়েছে সংবাদপত্র শাখা। যেখানে বর্তমানে জাতীয় ও স্থানীয় ৩০টিরও বেশী দৈনিক পত্রিকা রাখা হয়।
গ্রন্থাগারের বিভিন্ন শাখা সমূহঃ
প্রশাসনিক কাজসহ এবং শিক, শিার্থী ও গবেষকদের সেবা প্রদানের নিমিত্তে রাজশ্হাী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের মোট ১১টি শাখা রয়েছে। শাখা গুলো হল ১.প্রশাসন শাখা ২.এ্যাকুইজিশন শাখা ৩.প্রস্তুতি শাখা ৪.সাময়িকী ও সংবাদপত্র শাখা ৫.পাঠক শাখা ৬.ধার ক শাখা ৭.বাঁধাই শাখা ৮.স্ট্যাক শাখা ৯.রিপ্রোগ্রাফিক শাখা ১০.রেফারেন্স শাখা এবং ১১.ইন্টারনেট শাখা।
শিার্থীদের কথাঃ
বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের অভিযোগ খাতায় শিার্থীদরে দেয়া অভিযোগ হতে জানা যায়, কে পড়তে এসে প্রয়োজনীয় বই পাওয়া যায় না, আবার পাওয়া গেলেও বই খুলে দেখা যায় প্রয়োজনীয় পাতাটি কাটা। বইও চুরি হয়। দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এগুলো হয়ে থাকে। বহিরাগতরা মাঝে মধ্যেই গ্রন্থাগারে ঢুকে পড়ে। কোজ সার্কিট ক্যামেরা থাকলে এগুলো বন্ধ হতো। আধুনিকায়নে পিছিয়ে আছে এই বিশ্ববিদ্যালয়, আরো জানা যায়, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করার পরও আজ তারা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছে না- অথচ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিার্থীরা আজ অনেক দূর এগিয়ে তাদের থেকে। তাই এভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি কোন পদপে না নেই তাহলে তারা কিভাবে এই প্রযুক্তির যুগে নিজেদের এগিয়ে নিয়ে যাব বলে প্রশাসকের কাছে তারা প্রশ্ন রাখেন। তারা গ্রন্থাগারে পর্যাপ্ত বই সরবরাহ, আরো বেশি দেশি বিদেশী গবেষণা পুস্তিকা, জার্ণালের ব্যবস্থাসহ ইন্টারনেটের ব্যবহারকে শুধুমাত্র মাস্টার্সের শিার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিার্থীদের ব্যবহারের সুযোগ তৈরী করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানান।
গ্রন্থগারের ইতিহাসঃ
স্যাডলার কমিশনের পরিকল্পনায় এবং এ ক্যাম্পাসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট শিাবিদ মরহুম মাদার বখ্শ-এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর ক্যাম্পাস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১৯৫৫ সালে রাজশাহী শহরের ‘বড়কুঠি’ নামক স্থানে ুদ্র আকারে গড়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার। এর এক বছর পর রাজশাহীর ভোলানাথ বিশ্বেশ্বর হিন্দু একাডেমি স্কুল ভবনে স্থানান্তরিত হয় গ্রন্থাগারটি। ১৯৫৮-৫৯ সালের দিকে মতিহার কুঠিতে (বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় বিএনসিসি ভবনে) গ্রন্থাগারের শাখা খোলা হয়। ১৯৬৩ সালে বর্তমান কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের মূল তিনতলা ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হলে ১৯৬৪ সালে নতুন ভবনে বিভিন্ন শাখা ও পূর্বের গ্রন্থাগার থেকে সব বই পুস্তক জার্নাল স্থানান্তর করা হয়। তবে গ্রন্থাগারটি পূর্নাঙ্গভাবে চালু করা হয় ১৯৬৬ সালে । গ্রন্থাগারে সর্বপ্রথম গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব পালন করেন ফজলে এলাহী। বর্তমানে ১৬ মার্চ ২০১০ সাল থেকে ২১তম প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. বিধান চন্দ্র দাস।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×