রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৩১৪ নম্বর কক্ষে থাকে ফুয়াদ হাসান মুরাদ। সে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তবে ক্যাম্পাসে অনেক দিন ধরে অস্বাভাবিক আচরণ করায় তাকে এখন সবাই পাগলা মুরাদ নামে চেনে।
সর্বশেষ গত বৃহতপতিবার সে দিনভর তার কক্ষের সামনে মুঠোফোনে উচ্চ শব্দে গান বাঁজিয়ে তা আবার নিজের গলায় উচ্চস্বরে গাইতে থাকেন। তবে তার এই আচরণে অনেকের পড়ালেখার ব্যঘাত হলেও ভয়ে তার কোন প্রতিবাদ করেনি কেউ। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পর পর অনেক পাগলামির ঘটনা করায় তাকে আর সহ্য করতে পারছে না হলের কোন শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইলিয়াস হোসেন রানা জানান, ফুয়াদ হাসান মুরাদের গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায় চিলমারিতে। তার এই মানসিক সমস্যাটা সিজনাল। গতবছরও তার একই মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। আমি শুনেছি, মুরাদ পাগলামি করে অনেকদিন হলে তার কক্ষে সারাদিন দরজা বন্ধ করে ছিল। সে সময় তাকে কারো সাথে কথা বলতে দেখা যায়নি।
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, হলের আবাসিক ছাত্রদেরকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দেওয়া, অকথ্য ভাষায় গালি দেওয়া, জোর করে কাজ করিয়ে নেওয়াসহ নানাবিধ অস্বাভাবিক কর্মকান্ডের মাত্রা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ফলে তার কক্ষের আশেপাশের রুমমেট ছাত্ররা সর্বদা থাকে তটস্থ । কাউকে সামনে পেলেই আচ্ছামত বকাঝকা করে ফুয়াদ হাসান।
হলসূত্রে জানা গেছে, মুরাদ বিশ্ববিদ্যালরে সমাজকর্ম বিভাগের ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। এক বছর আগে তার মাস্টার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী হল কতৃপক্ষ তার হলের আবাসিকতা বাতিল করে। এখন হলে মুরাদ অবৈধ ছাত্র হলেও চারজনের থাকার ব্যবস্থা থাকা ৩১৪ নম্বর কক্ষটিতে সে একাই থাকছে। তার ওই কক্ষটিতে হল প্রশাসন আর কাউেেক নতুন করে বরাদ্দও দেয় না। অবৈধ ছাত্র হলেও মুরাদ হলের সাধারণ ছাত্রদেরকে নানাভাবে হয়রানি করে চলেছে রাজনৈতিক পরিচয়ে।
ওই হলের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, মুরাদের অস্বাভাবিক আচরণ মাঝে মাঝে বেড়ে যায়, তখন তিনি যাকে সামনে পান তাকেই নানা ধরনের উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করে বকাঝকা করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই হলের মাস্টার্স পড়–য়া এক শিক্ষার্থী জানায়, মুরাদ তাকে প্রত্যহ তার কক্ষে নিচের টিউবয়েল থেকে পানি আনতে বলেন। এ কাজ করতে ওই শিক্ষার্থী অস্বীকৃতি জানালে মুরাদ তাকে অকথ্য ভাষায় গালিা দেয়।
হলের অন্য আর এক শিক্ষার্থীকে মুরাদ তার কক্ষে আসতে বললে ওই শিক্ষার্থী সময়মত দেখা না করায় তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে মুরাদ। মুরাদের নির্যাতনের স্বীকার হলের আরেক শিক্ষার্থী জানায় মুরাদ তাকে একদিন দোকান থেকে সিগারেট আনতে বলে, ওই শিক্ষার্থী তার ক্লাস আছে বললেও ক্লাস বাদ দিয়ে সিগারেট আনতে বলে মুরাদ।
ছাত্রদের অভিযোগ, মুরাদ মাঝে মাঝে তার কক্ষের সামনের কাপড় শুকানোর জন্য টাঙ্গানো তারে কাউকে কাপড় শুকাতে দেয়না। হলের অধিকাংশ ছাত্র তার সামনে চলাচল করতে ভয় পায়। তবে কখনো কখনো মুরাদের আচরণ স্বাভাবিক থাকে। আর সে সময় সে সবার সাথে ভাল ব্যবহার করে থাকে। সবাইকে ভালো ভালো উপদেশ বাণীও শোনায় ।
এসব বিষয়ে ফুয়াদ হাসান মুরাদের মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি সাংবাদিকের বিভাগ ও কোন বর্ষের শিক্ষার্থী জানার পর বলেন, তোমার বিভাগে শিক্ষকদের সাথে আমার পরিচয় আছে, যদি কোন সমস্যা হয় তুমি আমাকে বলিও। অভিযোগগুলো সমম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কে তোমার কাছে অভিযোগ করেছে তা আমাকে বল, না বললে আমি তোমাকে কোন তথ্য দিব না, উপরন্তু তোমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করব। এই বলে সে পাশ কাটিয়ে যায়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর এস এ হায়দার জানান, আমি শুনেছি সম্প্রতি মুরাদ ছাত্রলীগের নেতা হয়েও মাহে রমজান উপলক্ষে ক্যাম্পাসে দীর্ঘ পোস্টার ছাপিয়েছে। মুরাদের ব্যাপারে হলের সমস্যা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন শিক্ষার্থী আমার কাছে কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ এলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয় জানতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি আহম্মেদ আলীর মুঠোফোনে করেক বার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। সাধারণ সম্পাদক আবু হুসাইন বিপুর ফোন বন্ধ ছিল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




