somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু হলের পাগলা নেতা!

১৩ ই আগস্ট, ২০১২ সকাল ১১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৩১৪ নম্বর কক্ষে থাকে ফুয়াদ হাসান মুরাদ। সে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তবে ক্যাম্পাসে অনেক দিন ধরে অস্বাভাবিক আচরণ করায় তাকে এখন সবাই পাগলা মুরাদ নামে চেনে।
সর্বশেষ গত বৃহতপতিবার সে দিনভর তার কক্ষের সামনে মুঠোফোনে উচ্চ শব্দে গান বাঁজিয়ে তা আবার নিজের গলায় উচ্চস্বরে গাইতে থাকেন। তবে তার এই আচরণে অনেকের পড়ালেখার ব্যঘাত হলেও ভয়ে তার কোন প্রতিবাদ করেনি কেউ। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পর পর অনেক পাগলামির ঘটনা করায় তাকে আর সহ্য করতে পারছে না হলের কোন শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইলিয়াস হোসেন রানা জানান, ফুয়াদ হাসান মুরাদের গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায় চিলমারিতে। তার এই মানসিক সমস্যাটা সিজনাল। গতবছরও তার একই মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। আমি শুনেছি, মুরাদ পাগলামি করে অনেকদিন হলে তার কক্ষে সারাদিন দরজা বন্ধ করে ছিল। সে সময় তাকে কারো সাথে কথা বলতে দেখা যায়নি।
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, হলের আবাসিক ছাত্রদেরকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দেওয়া, অকথ্য ভাষায় গালি দেওয়া, জোর করে কাজ করিয়ে নেওয়াসহ নানাবিধ অস্বাভাবিক কর্মকান্ডের মাত্রা বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ফলে তার কক্ষের আশেপাশের রুমমেট ছাত্ররা সর্বদা থাকে তটস্থ । কাউকে সামনে পেলেই আচ্ছামত বকাঝকা করে ফুয়াদ হাসান।
হলসূত্রে জানা গেছে, মুরাদ বিশ্ববিদ্যালরে সমাজকর্ম বিভাগের ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র। এক বছর আগে তার মাস্টার্স পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী হল কতৃপক্ষ তার হলের আবাসিকতা বাতিল করে। এখন হলে মুরাদ অবৈধ ছাত্র হলেও চারজনের থাকার ব্যবস্থা থাকা ৩১৪ নম্বর কক্ষটিতে সে একাই থাকছে। তার ওই কক্ষটিতে হল প্রশাসন আর কাউেেক নতুন করে বরাদ্দও দেয় না। অবৈধ ছাত্র হলেও মুরাদ হলের সাধারণ ছাত্রদেরকে নানাভাবে হয়রানি করে চলেছে রাজনৈতিক পরিচয়ে।

ওই হলের একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, মুরাদের অস্বাভাবিক আচরণ মাঝে মাঝে বেড়ে যায়, তখন তিনি যাকে সামনে পান তাকেই নানা ধরনের উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করে বকাঝকা করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই হলের মাস্টার্স পড়–য়া এক শিক্ষার্থী জানায়, মুরাদ তাকে প্রত্যহ তার কক্ষে নিচের টিউবয়েল থেকে পানি আনতে বলেন। এ কাজ করতে ওই শিক্ষার্থী অস্বীকৃতি জানালে মুরাদ তাকে অকথ্য ভাষায় গালিা দেয়।
হলের অন্য আর এক শিক্ষার্থীকে মুরাদ তার কক্ষে আসতে বললে ওই শিক্ষার্থী সময়মত দেখা না করায় তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করে মুরাদ। মুরাদের নির্যাতনের স্বীকার হলের আরেক শিক্ষার্থী জানায় মুরাদ তাকে একদিন দোকান থেকে সিগারেট আনতে বলে, ওই শিক্ষার্থী তার ক্লাস আছে বললেও ক্লাস বাদ দিয়ে সিগারেট আনতে বলে মুরাদ।
ছাত্রদের অভিযোগ, মুরাদ মাঝে মাঝে তার কক্ষের সামনের কাপড় শুকানোর জন্য টাঙ্গানো তারে কাউকে কাপড় শুকাতে দেয়না। হলের অধিকাংশ ছাত্র তার সামনে চলাচল করতে ভয় পায়। তবে কখনো কখনো মুরাদের আচরণ স্বাভাবিক থাকে। আর সে সময় সে সবার সাথে ভাল ব্যবহার করে থাকে। সবাইকে ভালো ভালো উপদেশ বাণীও শোনায় ।
এসব বিষয়ে ফুয়াদ হাসান মুরাদের মুঠোফোনে ফোন করলে তিনি সাংবাদিকের বিভাগ ও কোন বর্ষের শিক্ষার্থী জানার পর বলেন, তোমার বিভাগে শিক্ষকদের সাথে আমার পরিচয় আছে, যদি কোন সমস্যা হয় তুমি আমাকে বলিও। অভিযোগগুলো সমম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কে তোমার কাছে অভিযোগ করেছে তা আমাকে বল, না বললে আমি তোমাকে কোন তথ্য দিব না, উপরন্তু তোমার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করব। এই বলে সে পাশ কাটিয়ে যায়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর এস এ হায়দার জানান, আমি শুনেছি সম্প্রতি মুরাদ ছাত্রলীগের নেতা হয়েও মাহে রমজান উপলক্ষে ক্যাম্পাসে দীর্ঘ পোস্টার ছাপিয়েছে। মুরাদের ব্যাপারে হলের সমস্যা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোন শিক্ষার্থী আমার কাছে কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ এলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয় জানতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ সভাপতি আহম্মেদ আলীর মুঠোফোনে করেক বার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। সাধারণ সম্পাদক আবু হুসাইন বিপুর ফোন বন্ধ ছিল।
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=শরত তুই যাস নে ! =

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৩



ভ্যাপসা গরমে নাভিশ্বাস জীবনে কেবল বৃষ্টির হাপিত্যেশ,
মেঘ বলেছে আসবো আসবো আমার উদ্দেশ,
শুভ্র মেঘেদের নাচন
উত্তাপ হাওয়ায় যায় না আর বাঁচন,
তবুও স্নিগ্ধ আবেশ মনজুড়ে,
হঠাৎ হাওয়ার ঝাপটা, বাজে পাতার বাঁশি সুরে।

বিকেলের হাওয়ায় দেহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ কোটি চাকরি: শর্ত প্রযোজ্য, মেধার প্রবেশ নিষেধ !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:২৫


ভোটের আগে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় এলে প্রথম আঠারো মাসেই এক কোটি মানুষকে চাকরি দেওয়া হবে। কথাটা শুনে দেশের বেকার তরুণেরা তো মহাখুশি, কেউ ভাবল সরকারি চাকরি হবে, কেউ ভাবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্বে ঋণ খেলাপিতে বাংলাদেশ ১ নম্বর এবং দেশে ঋণ খেলাপিতে শীর্ষ ২০ জনের ১৯ জনই ওনাদের!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



শাস্ত্রীয় কথায় না গিয়ে সোজা কথায় কেউ ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ না করলে তাকে ঋণ খেলাপি বলা হয়। আপনি জানলে অবাক হবেন যে শীর্ষ ২০ ঋণ খেলাপির ১৯ জনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কি ডার্ক জাস্টিসকে ফলো করছেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১০



ছোটবেলায় দেখা একটি টিভি সিরিয়াল তুমুল জনপ্রিয় হয়েছিলো। একজন বিচারক যিনি দিনের বেলায় কোর্ট রুমে অপরাধের বিচার করতেন, আর, রাতেরবেলা আইনের ফাঁক -ফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

×